২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৪:৩৪

আমজাদ হোসাইনের লেখা গ্রন্থ “গোবিন্দচন্দ্র দাসের মগের মুলুক গ্রন্থের আলোচনা “

নিউজ ডেস্কঃ  বহু বছর পড় আজ এক টানা কোন বই পড়ে শেষ করলাম । বইটি শেষ করার পড়ও মনের মধ্যে একটা ভালোলাগার অনুভুতি রয়ে গেছে । ঘটনা আর পরিস্থিতির দোলাচলে দোদুল্যমান এক কবির জীবনের সাথে আকাত্ম হয়ে তার জীবন পরিক্রমার সঙ্গী হয়েছি । আমাদের চারপাশে চেনা অচেনা বহু মুখের মাঝেও এমন কিছু অসামান্য চরিত্ররা লুকিয়ে আছেন যারা ঈশ্বর দত্ত প্রতিভার অধিকারি হয়েও সেই অর্থে কোন স্বিকৃতি কোন দিন পান নি । তাদের লেখা সাহিত্য কালের স্রোতে হারিয়ে যায় , যার সন্ধান করে তাকে ফিরিয়ে আনার মতন সাহস খুব কম মানুষের মধ্যে থাকলেও এরকম এক দুঃসাহস দেখিয়েছেন সাহিত্যিক আমজাদ হোসাইন । পাঠক বন্ধুরা আমি এতক্ষন ধরে যে গ্রন্থটির সম্পর্কে আমার মতামত জানাচ্ছি তার নাম গোবিন্দচন্দ্র দাসের মগের মুলুক ।

কোন লেখার বিষয় বস্তু যতই গুরুত্বপূর্ন হোক না কেন তা পাঠকের কাছে গ্রহনযোগ্য হয়ে ওঠে সাহিত্যিকের উপস্থাপনার ওপর । ভাষার অসামান্য বাধন এবং সাবলীল উপস্থাপনা কবি গোবিন্দ দাসের জীবন এবং তার মগের মুলুকের পর্যলোচনাকে এক অনন্যরূপ দিয়েছে । এই গ্রন্থে কবির জীবনের উত্থান পতন এবং তার কাব্যিক প্রতিভার সাথে উঠে এসেছে ভাওয়ালের প্রাকৃতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতীক চিত্র । ভাওয়ালের নাম শুনলেই মনে পড়ে সন্যাসী রাজার কথা , কিন্তু সন্যাসী রাজা ছাড়াও যে ভাওয়ালের ইতিহাসের আরো কিছু আলো ছায়াময় অধ্যায় আছে তা পড়ে অবাক হতে হয় পাঠককে । স্নেহময়ী রানীমা, ভাতৃতুল্য রাজকুমার , স্নেহময়ী ভগ্নী রাজকন্যার কথা পড়ে রাজ পরিবারের প্রতি সম্মানে যেমন মাথা নত হয়ে যায় তেমনি অত্যাচারী আত্মীয়দের অত্যাচারের কোন বিচার না হয়ে তাদের মূক্তি এবং ম্যানেজারের চক্রান্ত আমাদের মনকে ঘৃনায় ভরে দেয় । সমাজের বহু অজানা চিত্রের সাথে উঠে এসেছে মুসলিম কর্মচারীর প্রতি দ্বিচারিতা । একই অপরাধে এক হিন্দুকে যেখানে কোন অর্থ দিতে হয় নি, সেখানে একজন মুসলিম কর্মচারীকে ৫ টাকা দিয়ে রেহাই পেতে হয় । সমাজের সামন্ততান্ত্রীক চিত্রের সাথে উঠে এসেছে ময়মনসিংহের রাজকীয় সরস্বতী পূজার বর্ননা । লেখকের আলোচনাইয় কলকাতার সুন্দর একটি চিত্র আমরা পাই । সেই সংগে চিত্তরঞ্জন দাশ সহ বেশ কয়েকজন স্বনাম ধন্য মানুষের বর্ননা আমরা পাই ।

গোবিন্দ চন্দ্রের মগের মুলুক একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ বলে আমার মনে হয়েছে । বইটির প্রতিটি ছত্রে অসামান্য কাব্যিক ছন্দে উঠে এসেছে অখন্ড বাংলার চিত্র । বিদ্যাসাগরের মতন ঐতিহাসীক চরিত্র এবং নট নটীরা যেখানে জীবন্ত । সময়ের অতলে প্রবেশ করে সাহিত্যক পাকের থেকে তুলে এনেছেন শতদন । তাই তার সাহিত্যে সমাজের ভালো এবং মন্দ দুই দিক সমান্তরাল ভাবে চলেছে ।

আমরা যখন কোন সাহিত্য পড়ি তখন সেই সাহিত্য রচনার প্রেক্ষাপট এবং সাহিত্যিকের ক্ষতবিক্ষত দেহ আমাদের কাছে কখনো ধরা পরে না । গ্রন্থালোচনার সাথে সাথে গোবিন্দ চন্দ্রের জীবনের সেই ভয়ঙ্করতম অধ্যায় গুলি তুলে ধরেছেন লেখক । এই গ্রন্থ আমজাদ হোসাইনের দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল । একটি দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ এবং সাহিত্যিককে তুলে ধরার জন্য লেখক সীমান্ত পার করে পৌছে গেছেন পশ্চিম বঙ্গের পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে ।

আমার গ্রন্থটি পড়ার সময় বহুবার মনে হয়েছে বর্তমান প্রজন্মের কাছে কবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের জীবন এবং তার সাহিত্যকে তুলে ধরা খুব প্রয়োজন । শুধু মাত্র একজন কবি না , তিনি যে সমাজ সংস্কারক ছিলেন তার জীবন দর্শনের মাধ্যে দিয়ে আমরা বুঝতে পারি ।

আমার শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা জানালাম সাহিত্যিককে এবং গোবিন্দচন্দ্র দাসের মগের মুলুক গ্রন্থে দীর্ঘায়ূ কামনা করলাম ।

দেবশ্রী চক্রবর্তী
( লেখিকা )

কিউএনবি/নিল/ ১১ জুলাই, ২০১৮ ইং/২১ঃ১৮