২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:২৯

কোটা আন্দোলনের নেতা সুহেলকে আটকের অভিযোগ

 

ডেস্কনিউজঃ কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এ বি এম সুহেলকে আটকের অভিযোগ উঠেছে। ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকি আক্তারের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে (১২ জুলাই) ডিবি পুলিশ সুহেলকে আটক করে বলে ফেসবুকে জানিয়েছেন লাকি আক্তার।

তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য সারাবাংলাকে বলেন, ‘ডিবির টিমগুলো প্রতিদিন কোথাও না কোথাও বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে থাকে। গতকালও অনেক জায়গায় অভিযান চালিয়েছে। তবে সুহেল নামে কাউকে আটক করা হয়নি।’

কোটা আন্দোলনের আরও দুই নেতা আগে থেকেই আটক রয়েছেন। কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান দুই দফায় ১৫ দিনের রিমান্ড পার করছেন। আর ফারুক হাসান আছেন কারাগারে। তবে সুহেলের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ সেটা স্পষ্ট নয়।

লাকি আক্তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি তাদের বললাম আপনারা সকালে আসেন। অনেকক্ষণ বাক-বিতণ্ডার পর অবশেষে তারা বাড়িওয়ালা আংকেলকে নিয়ে এলে সাড়ে চারটার দিকে আমি দরজা খুলি। প্রায় দেড় ঘণ্টা তারা আমার বাসায় অবস্থানকালে সুহেলকে আলাদারুমে হাতকড়া পরিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় আমাদের সব ফোনগুলো তারা জব্দ করে রাখেন। আমার ফোনও তারা চেক করেন।’

‘সুহেলকে নিয়ে যাওয়ার আগে আমি জানতে চাইলাম ওর বিরুদ্ধে অভিযোগ কী। তারা বললেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। আমার বাসায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের লিফলেট-পোস্টার আছে কি না জানতে চান। বাসায় সেরকম কোনো কিছু না থাকায় আমি তাদের দেখাতে পারিনি। তবে সে জন্য তারা বাড়তি কোনো তল্লাশিও করেননি।’

লাকি জানান, যাওয়ার আগে সুহেল তার মাকে কিছু না জানাতে অনুরোধ করেছেন। কিছুদিন আগে তার বাবা মারা গেছেন। তাই এই ঘটনা জানতে পারলে তারা মা আরও ভেঙে পড়তে পারেন।

লাকি গোয়েন্দাদের এ অভিযানের তীব্র নিন্দা জানান। বলেন, ‘যখন তখন সাদা পোশাকে নাগরিকদের ঘরে হানা দেওয়ার এই সংস্কৃতি একজন নাগরিক হিসেবে আমাকে শঙ্কিত করে। তবে কি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে যুক্ত থাকলে মানুষকে এভাবে আতঙ্ক নিয়ে রাত কাটাতে হবে?’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূর মোহাম্মদ  বলেন, ‘সুহেলকে আটকের বিষয়টি আমরা শুনেছি। খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এর আগে গত ২৩ মে বিকেলে পরীক্ষা শেষে ক্যাম্পাস থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছিলেন জবি ইংরেজি বিভাগের ১০ ব্যাচের ছাত্র সুহেল।

সুহেল তখন জানিয়েছিলেন, কোটা আন্দোলনের জন্য দ্বিতীয়বার তাকে মার খেতে হয়েছে। প্রথমবার চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারা হয়েছিল। দ্বিতীয়বারের মারধরে ঠোঁটের বাইরে ৯টা ও ভেতরেও দুটি সেলাই দিতে হয়েছে। কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নেতৃত্বের পাশাপাশি তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দিন আহমেদকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদ আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ১১ এপ্রিল সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। এরপর ২ মে গণভবনে সংবাদ সম্মেলন এবং ২৭ জুন সংসদে আবার একই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ২৭ জুন রাতেই ফেসবুকে কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ খাঁনের এক ভিডিওবার্তায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

রাশেদ অভিযোগ করেন, কোটা বাতিলের বিষয়ে ঘোষণা দিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তার রক্ত গরম হয়ে গেছে জানিয়ে আবার আন্দোলনে নামতে ছাত্রদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এমন কথাও বলেন, ‘মনে হয় এটা তার বাপের দেশ’

এই কটূক্তি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে রাশেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন ছাত্রলীগ নেতা আল নাহিয়ান জয়। ১ জুলাই রাশেদকে গ্রেফতারের আগের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনের কয়েকজন নেতার ওপর হামলা হয়।

এই হামলার প্রতিবাদে দুইদিন পর ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কর্মসূচিতে আবার হামলা হয়। সেখান থেকে আটক করা হয় কোটা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসানকে। একই দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তরিকুল ইসলামকে।

এর মধ্যে দুই দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে রাশেদকে। ২ জুলাই থেকে ৭ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আট জুলাই আদালতে হাজির করে দুই মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে তাকে।

আবার কোটা বিষয়ে সুপারিশ করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কাজ করছে। এরইমধ্যে কমিটি তাদের প্রথম বৈঠক শেষ করেছে। আগামী ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে এই কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।

সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ৫৬ শতাংশ কোটা আছে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, ১০ শতাংশ করে নারী ও জেলা কোটা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা পাঁচ শতাংশ এবং এক শতাংশ আছে প্রতিবন্ধী কোটা।

আন্দোলনকারীরা এই কোটা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

 

কিউএনবি/বিপুল /১২ জুলাই, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৬:১২