১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:৫০

সন্তানের জন্য বদলান নিজেকে

জন্মের পর থেকে শিশুকে নিয়ে পরিবারে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে যায়। দেখতে কেমন হবে, কার মতো হবে, কেমন মেজাজ হবে, প্রতিযোগিতার এই যুগে কেমন করে তাকে বড় করা হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। মা-বাবা স্বপ্ন বুনতে থাকেন কিভাবে সন্তানকে শিক্ষা ও মূল্যবোধ দিয়ে বড় করবেন। তবু শিশুরা এমন কিছু অভ্যাস রপ্ত করে ফেলে, যা নিয়ে মা-বাবা পরে হতাশায় ভোগেন। শুরু হয় শিশুকে দোষারোপ করা। প্রশ্ন হলো, এসব অভ্যাস শিশুর ভেতর এলো কী করে? লক্ষ করলে দেখা যাবে, পরিবার থেকেই শিশু এসব শিখছে। পরিবারই শিশুর প্রথম বিদ্যাপীঠ। অনুকরণপ্রিয় শিশুরা তাই জন্মের পর থেকে মা-বাবা, ভাই-বোনসহ পরিবারের সদস্যদের দেখে সবচেয়ে বেশি অনুকরণ করে। আমাদের অজান্তেই আমাদের অভ্যাসগুলো শিশুরা শিখে ফেলে। শিশুর সুস্থ-স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য তাই আমাদের নিজেদের কিছু বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

স্ক্রিন টাইম কন্ট্রোল

একটা সময় ছিল আমরা মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করতাম, প্রতিবেশীদের বাড়ি যেতাম, অবসর সময়ে আত্মীয়, বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটাতাম। কিন্তু বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের বাড়তি সময়টুকু দখল করে নিচ্ছে। এ ছাড়া ট্রাফিকের কারণে আমরা ছুটিতে কারো বাড়ি যাওয়ার চেয়ে ঘরে বসে ইন্টারনেটে সময় কাটাতেই বেশি পছন্দ করি। ভার্চুয়াল জগতে বিচরণ করা কখন যে আমাদের নেশায় পরিণত হয়েছে তা নিজেরাও বুঝতে পারি না। কিন্তু যখন শিশুও খেলাধুলার চেয়ে মোবাইল বা ট্যাব নিয়ে পড়ে থাকে, তখন অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় ভোগেন। অথচ শিশু এটা পরিবার থেকেই শিখেছে। অনেক সময় শিশুকে সহজে শান্ত রাখার জন্য মা-বাবা শিশুর হাতে ট্যাব বা মোবাইল দিয়ে বসিয়ে দিচ্ছেন, যাতে নির্বিঘ্নে নিজের কাজ শেষ করতে পারেন। কিংবা শিশুকে খাওয়ানোর সময়, বেড়াতে গেলে, জেদ করলে শান্ত করার জন্য হাতে মোবাইল দিচ্ছেন অনেকেই। এতে সাময়িক সমাধান হলেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হচ্ছে। শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। টিভি, মোবাইল বা ট্যাবে শিশুর ওয়ানওয়ে কমিউনিকেশন হয়; অর্থাৎ শিশু শুধু শুনছে ও দেখছে, কিন্তু উত্তরের সুযোগ থাকছে না। এ কারণেই আজকাল ডিলে স্পিচ বা দেরিতে কথা বলা শিশুর হার অনেক বেশি। শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য শিশুর সামনে সব সময় মোবাইল বা টিভি থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন। শিশুর সঙ্গে নিজেরা কথা বলুন, হাসুন, গল্প করুন, যেন শিশু দেখা ও শোনার পাশাপাশি প্রত্যুত্তর করতে পারে।

ধূমপান পরিহার

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। শিশুর জন্য এর ফলাফল ভয়াবহ ক্ষতিকর। পরিবারে যাঁদেরই এই অভ্যাস আছে, তাঁরা শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই যদি অভ্যাস পরিত্যাগ করে ফেলতে পারেন সবচেয়ে ভালো হয়। যদি একান্তই সম্ভব না হয় তবে শিশুর সামনে কখনোই ধূমপান করবেন না।

রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

মানুষমাত্রই রাগ, জেদ ও ক্রোধ থাকবেই। সমস্যা তখনই হয়, যখন নিজের রাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। শিশুমন খুব কোমল হয়। তাদের সামনে সব সময় রাগ-ক্রোধ প্রকাশ করলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হলো মা-বাবা, পরিবার। সেখানে শিশু ভয় পেলে এবং সহজ হতে না পারলে তা অবশ্যই দুশ্চিন্তার কারণ। এতে শিশু বকা খাওয়ার ভয়ে মিথ্যা বলতে শিখবে। ধীরে ধীরে এই অনিয়ন্ত্রিত রাগের বদাভ্যাস শিশুর ভেতরও চলে আসবে। তাই নিজেদের নেতিবাচক আবেগগুলো শিশুর থেকে দূরে রাখতে চেষ্টা করুন। এটা অভিভাবক ও শিশু উভয়ের জন্যই মঙ্গলজনক।

সমালোচনা নয়

অনেকে সময় পেলেই অন্যের ভুল ধরতে বা সমালোচনা করতে পছন্দ করেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বাড়িতে আমরা যে অভ্যাস চর্চা করব শিশুও তাই শিখবে। তাই অপরের সমালোচনা না করে শিশুকে গঠনমূলক ও সৃজনশীল কাজে উত্সাহিত করুন। সমালোচনা ছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে আমরা অন্যের সাজসজ্জা, গায়ের রং, উচ্চতা নিয়ে অপ্রীতিকর মন্তব্য করি। শিশুরা বড়দের কথা শুনতে ও অনুকরণ করতে পছন্দ করে। এ ধরনের নেতিবাচক কথায় শিশুর চিন্তার জগতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশুর সুন্দর ও সুস্থ চিন্তার অন্তরায় হতে পারে অভিভাবকদের এমন আচরণ। শিশুর জন্য নিজে উদার চিন্তার অভ্যাস করুন ও শিশুকেও তা শেখান।

 

কিউএনবি/ অদ্রি/ ০৯.০৭.২০১৮/  সকাল ১১.১০