২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:২৩

ডাক্তার তপন কুমার দত্তের কাছে জিম্মি কটিয়াদী হাসপাতাল

 

মিয়া মোহাম্মদ ছিদ্দিক,কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার চার লক্ষাধিক লোকের সাস্থ্য সেবার একমাত্র সেবা মুুলক সরকারী প্রতিষ্টান।

কিন্তু এখানে চলছে চরম অবহেলা র্দুনীতি চিকিৎসার নামে নারীর যৌন হয়রানী সহ বিভিন্ন অপর্কম আর সরকারী অর্থ লুটপাট করে এক যুগের বেশী সময় অতিবাহিত করছেন কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার তপন কুমার দত্ত।

তিনি মেডিকেল অফিসার হিসাবে কটিয়াদীতে যোগদান করেন ২০০৫ সনের সেপ্টেম্বর মাসের ২১ তারিখে।একখানে থেকেই তিনি আবাসিক মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ১০ বছরেরও ও অধিক সময় আর এসম ও হিসাবে দায়িত্ব পালন কালে ২০১৬ সালে টিএইচও হিসেবে তিনি পদোন্নতি নিয়ে জেলার মিঠাইমন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন।

মিঠামইন হাসপাতালে স্থানীয় জনতার রোষানলে পড়ে সেখান থেকে দদ্রুত বদনী হয়ে কুলিয়ারচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন।কুলিয়ারচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও এক অফিস সহকারীর নিকট থেকে ঘুষের বিনিময়ে বদলীর ছাড়পত্র সংক্রান্ত কেলেংকারীতে জড়িয়ে পড়েন।এ বিষয়টি জেলার সর্বত্রই তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এর পর এক অদৃশ্য শক্তির বলে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মঞ্জুরুল হককে বদলী করে পুনরায় নিজ অভয়ারন্য কটিয়াদী হাসপাতলে চলে আসেন। ডাঃ তপন দত্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে কটিয়াদীতে আসার পরই এখানে চলতে থাকে বিভিন্ন নৈরাজ্য, র্দুনীতি, আর নারীর সম্ভ্রমহানীর মত অনেক ঘটনা ঘটিয়েও সে বহাল তবিয়তে কটিয়াদীতে সকল রাজনৈতিক নেতা, গনমাধ্যম কর্মী সহ স্থানীয় নের্তৃস্থানীয় দের বৃদ্ধাংগুল প্রদর্শন করে তার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় গনমাধ্যম কমীরা তার কাছে কিছুই না।তার বিভিন্ন অভিযোগ আর অর্পকমের্র খোজ নিতে গিযে জানা যায়, অনেক চাঞ্চল্যকর লোম হর্ষক অনেক রুপ কথার কাহিনী।রবিবার উপজেলা সদরের কমর ভোগ গ্রামের মালেকা বেগম জানান, তপন বাবু নিজে কয়েকটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এর ব্যবসার সাথে জড়িত।

মালেকাকে তপন ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য তার পছন্দ মত পরীক্ষালয়ে রোগী নিয়ে যেতে মালেকাকে বলেন।মালেকা তার কথামত রোগী নিয়ে মোস্তফার কেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে যায় নি।মালেকা গত মে মাসের ৮ তারিখে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়ে কটিয়াদী হাসপাতালে এসে ভর্তি হন।১২ মে সকাল বেলা ডাঃ তপন দত্ত ভিজিট করতে এসে হাসপাতালের বেডে মালেকাকে দেখে রেগে ফেটে পড়েন।

তিনি মালেকাকে বলেন,হাসপাতালে আর “মাগনা চিৎিসা নাই,হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাও”।এই বলে তিনি বিধবা মালেকা কে বেশ কয়েকটি ধমক দিয়ে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে।

মালেকা কেঁদে এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমি একজন বিধবা মহিলা, আমার চিকিৎসা করার সামর্থ নেই,জেনেও ডাক্তার আমার সাথে এই খারাপ আচরন করলে “আমরা গরীবরা কই যাইয়াম, আমি যদি তপন ডাক্তারের কথা মত রোগী প্যাথলজিতে দিতাম, তবে হাসপাতাল থাইক্যা আমার নাম কাটতো না” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারী হাসপাতাল শুধু রোগীর কাছ থেকে ট্যাহা নেওয়ার লাইগ্যা না।

আমি ট্যাহা দিতে পারলে আমার চিকিৎসা ও হাসপাতালে হইত। অনুসন্ধান করতে ‘গিয়ে আচমিতার নাম প্রকাশ্যে এক বিধবা জানায়, সে গত তারিখে বিকাল বেলা হাসপাতালে তপন ডাক্তারের নিকট চিকিৎসা নিতে গিয়ে দিন দুপুরে যৌন হয়রানীর শিকার হন।

তিনি ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কিশোরগঞ্জ নারী শিশু কোটে একটি মোকদ্দমা দায়ের করেন।তার দায়েরকৃত মোকদ্দমাটি পিবিআই কিশোরগঞ্জ তদন্ত করেন।পিবিআই তার মোকদ্দমাটি প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা রিপোর্ট দাখিল করার কারনে ডাক্তার তপন পার পেয়ে যায় মামলার বেড়াজাল থেকে।

ভুক্ত ভুগি মহিলা ডাক্তার তপন দত্তের নিকট ঘটনার তারিখ বিকাল ০৩:৩০ ঘটিকার কথা উল্লেখ করলেও পিবিআইর প্রতিবেদনের বিকাল ০৩:৩০ মিঃ হইতে ০৪:০০ টার মধ্যে কথোপকথনের কোন লিষ্ট উল্লেখ করেন নাই।কললিষ্টে বর্নিত সময়ে পুর্বে এবং পরের কললিষ্ট দেখানো হয়েছে।

হাসপাতালের একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, তপন ডাক্তারের এই অপকর্মের কথা জানাজানি হলে তপন ডাক্তার তরিঘরি করে বহিঃ বিভাগের রেজিষ্টারে ঘষামাজা করে রেজিষ্টার এর নতুন নাম লিপিবদ্ধ করেন।ইহাতে প্রতীয়মান হয় যে, ডাক্তার তপন দত্ত নিজে অভিযোগ থেকে পার পাওয়ার জন্য বহিঃ বিভাগের রেজিষ্টার এর পাতা গায়েব করে ফেলেন।

তাহার এই অপকমের্র বিষয় সমুহ স্থানীয় প্রশাসন, বিভাগীয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিভিল সাজর্ন, সাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা বারবার তদন্ত করার জন্য কটিয়াদী হাসপাতালে অনুসন্ধান করেন।কিন্তু সব কিছু মেনেজ করে নেওয়ার কারনে তপন কুমার দত্তের হাত আরো ক্রমাগত ভাবে শক্ত হচ্ছে। তিনি কটিয়াদী রক্ষক হিসাবে ভক্ষকের কাজ করে যাচ্ছেন।

তাহা এই সব কর্মকান্ড জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা গুলো ফলো আপ গুলো প্রচার করলে তিনি ক্ষ্যাপা পাগল হয়ে যান এলাকার সাংবাদিকদের উপর। কয়েকদিন পুর্বে স্থানীয় এক গনমাধ্যম কর্মীর স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা তার বাচ্চাকে নিয়ে কটিয়াদী হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার শামিম মিয়া ঐ মহিলাকে নাাজহাল করেন,পরে ঐ মহিলা তপন ডাক্তারের সারনাপন্ন হলে তিনি মহিলাকে সন্তনা দেওয়াতো দুরের কথা বরং তিনি তার বাসায় রোগী দেখে ২শ টাকা উৎকোচ গ্রহন করেন।

এই ভাবেই চলছে কটিয়াদী উপজেলা হাসপাতালের কর্মকান্ড।শুধুুমাত্র তপন ডাক্তারের সেচ্চাচারিতা,ক্ষমতার দাপট,আর অবৈধ অজর্ন করার কারনে স্থানীয় সকল স্তরের মানুষ তপন দত্তের রোষানলে রয়েছে। সাধারন মানুষ যেমন পাচ্ছে না চিকিৎসা সুবিধা, অপরদিকে চিকিৎসা নিতে গেয়ে অনেকে আজ নাজহালের শিকার।এর প্রতিকার চায় কটিয়াদী উপলোর সর্বস্তরের সাধারন মানুষ।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৮ই জুলাই, ২০১৮ ইং/বিকাল ৪:২৩