২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:২৬

কাঁচা মরিচের এত ঝাল!

 

কাঁচা মরিচের ঝাল খেতে হলে এখন দিতে হবে কেজিতে ১৬০ টাকা। আর বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজের দরও। খুচরা দোকানে এখন ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ মিলছে কমপক্ষে ৪০ টাকায়, এতে কেজিপ্রতি দর পড়ছে ১৬০ টাকা। একই ভাবে রমজান মাসের পরে বাড়ল পেঁয়াজ ও ডিমের দাম। মাছের বাজার আগের মতোই চড়া।অবশ্য কিছু কিছু পণ্যের দাম কমেছে। মুরগির মাংসের দাম এখন কিছুটা কমিয়ে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। গরুর মাংসেও ঈদের প্রভাব নেই। সবজির বাজারও স্থিতিশীল আছে। কমেছে আমদানি করা রসুনের দাম।

রাজধানীর কাজীপাড়া বাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি বড় দেশি পেঁয়াজ ৫৫ টাকা, মাঝারি দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা ও বড় ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়। বিক্রেতারা জানান, ঈদের পরে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে দেশি পেঁয়াজের দর বেড়েছে কেজিতে ৫-১০ টাকা। কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা মামুন হোসেন বলেন, বাজারে দেশি পেঁয়াজ সরবরাহ কম। ভারতীয় পেঁয়াজের বাজারও আগের চেয়ে চড়া। এ দুইয়ে মিলে পেঁয়াজের দর বেড়েছে। তবে চীনা বড় রসুনের দর কেজিতে ২০ টাকার মতো কমে ৮০ টাকায় নেমেছে।

রমজান মাসে কাঁচা মরিচের দর ৬০-৮০ টাকার মধ্যে ছিল। কখনো কখনো তা ৪০ টাকায়ও নেমেছে। এখন মরিচ কিনতে গেলে ক্রেতাকে প্রায় তিনগুণ দাম দিতে হচ্ছে। যদিও বাজারে অন্যান্য সবজির কেজিপ্রতি দর ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। কাঁচা মরিচের দাম এত বেশি কেন, জানতে চাইলে কারওয়ান বাজার সবজির আড়তের ফড়িয়া মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বৃষ্টিতে পানি জমে মরিচের খেত নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণেই দাম চড়া।

বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই ডিমের দাম কম ছিল। গত দুই-তিন মাসে ৭০-৮০ টাকার মধ্যে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম কিনতে পেরেছেন ক্রেতারা। এখন সেই ডিম কিনতে ক্রেতাকে ৯৫-১০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। ডিম বিক্রেতারাও বলছেন, সরবরাহ কম। সে তুলনায় চাহিদা বেশি।

ঈদে গরু ও মুরগির মাংসের বাড়তি চাহিদার কারণে দাম বেশ বেড়ে গিয়েছিল। এখন বাড়তি চাহিদা নেই। তাই দর কিছুটা কমেছে। বাজারে এখন গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৪৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা, যা ঈদের আগে ৫৫০ টাকায় উঠেছিল। অবশ্য রমজান মাসে সিটি করপোরেশন গরুর মাংসের দাম সর্বোচ্চ ৪৬০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। ব্রয়লার মুরগির কেজিপ্রতি দর এখন ১৫০ টাকা, যা ঈদে ১৭০ টাকায় উঠেছিল।

কাজীপাড়া বাজারের মুরগি বিক্রেতা আবুল কালাম বলেন, ঈদের আগে তিনি কক মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। এখন তা ২৬০ টাকা দরে মিলছে। একইভাবে দেশি মুরগি কেজিতে ৫০ টাকা কমে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, কিছুটা কমলেও মুরগির বাজার এখনো চড়া। কক মুরগির দর সাধারণত ২০০-২২০ টাকার মধ্যে থাকে।

রাজধানীর শেওড়াপাড়া বাজারে মাছ কিনছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা হারুন-অর রশিদ। জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবচেয়ে চড়া মাছের দাম। ইলিশের কেজি চায় দেড় হাজার টাকার বেশি। বিক্রেতারা নদীর চিংড়ি, বেলে, বাছা, বাইন, পাবদা, ট্যাংরা ইত্যাদি মাছের কেজিপ্রতি দর চান ৭০০-৯০০ টাকা। চাষের কই মাছও এখন ২২০ টাকা কেজি। তিনি বলেন, মাছের দাম এখন অস্বাভাবিক বেশি। তেলাপিয়া, পাঙাশ আর নলা ছাড়া সীমিত আয়ের মানুষের পক্ষে অন্য কোনো মাছ কেনা সম্ভব নয়।

 

কিউএনবি/অদ্রি/০৬.০৭.২০১৮/ দুপুর  ১২.১০