২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:৩৮

গৌরনদীতে প্রথম আলোর প্রতিনিধিসহ ৭ সাংবাদিকের নামে মানহানির মামলা

 

বিশ্বজিত সরকার বিপ্লব,গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা : বানোয়াট, মনগড়া ও মিথ্যা তথ্যদিয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি করে নারীর মানহানি ও শালিনতা হানি’র অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার আসামী হলেন দৈনিক প্রথম আলোর বরিশালের গৌরনদী উপজেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম ও স্থানীয় ৭ সাংবাদিকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অজ্ঞাতনামা পোষ্ট দাতারা।

ঘটনার ভিকটীম উপজেলার নরসিহলপট্রি গ্রামের দশম শ্রেনীর স্কুলছাত্রী রুপা আক্তার বাদি হয়ে বুধবার রাতে গৌরনদী মডেল থানায় ওই মামলাটি দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারে স্কুল ছাত্রী উল্লেখ করেছেন, গত ৩০ জুন সকালে লোকমুখে তিনি জানতে পারেন যে, “ইউপি সদস্যের লালসায় স্কুল ছাত্রী অন্তঃস্বত্ত্বা” শিরোনামে বরিশালের স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় তার নাম পরিচয় উল্লেখ করে মিথ্যা, বানোয়াট, অশ্লীল ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এ খরব জানতে পেরে তিনি পত্রিকা অফিস থেকে দৈনিক দেশ জনপদ, বরিশালের কাগজ, আমাদের বরিশাল, দৈনিক সময়ের বার্তা, দৈনিক বরিশাল সময়, দৈনিক সকালের বার্তা পত্রিকা সংগ্রহ করেন।

তখন দেখতে পান উল্লেখিত প্রত্যেকটি পত্রিকায় গৌরনদী নিজস্ব প্রতিবেদকগন তার নাম ঠিকানা প্রকাশ করে “ইউপি সদস্যের লালসায় স্কুল ছাত্রী অন্তঃস্বত্ত্বা” শিরোনামে মিথ্যা, বানোয়াট, অশ্লীল ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে। যা সম্পূর্ন মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

এজাহারে স্কুল ছাত্রী দাবি করেন, তিনি একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। উল্লেখিত পত্রিকাগুলোর গৌরনদী নিজস্ব প্রতিবেদকেরা তার নাম ঠিকানা ব্যবহার করে মিথ্যা, বানোয়াট, অশ্লীল সংবাদ প্রকাশ করে তার মানহানিসহ তাকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছে।

এজাহারে স্কুল ছাত্রী আরো উল্লেখ করেন, গত ২৯ জুন সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে ছাত্রীর অনুপস্থিতিতে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসা করে ঘটনার সত্যতা পাননি।

তদুপরি বিশেষ মহল দ্বারা প্ররোচিত হয়ে ও নিজের হলুদ সাংবাদিকতার ধারা অক্ষুন্ন রেখে নিজের মনগড়া এবং এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে তিনি মিথ্যা সংবাদ তৈরী করে নিজের অনুগত তথাকথিত গৌরনদীর নিজস্ব প্রতিনিধির নামে ওই মিথ্যা সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

এজাহারে স্কুলছাত্রী দাবি করেন, তার বা পরিবারের কারো কাছ থেকে কোন প্রকার অভিযোগ না পেয়ে ওই সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে স্কুল ছাত্রীকে সামাজিক ভাবে শুধু হেয় প্রতিপন্নই করেনি, তার ভবিষ্যত জীবনকে নষ্ট করে দিয়েছেন।

এর ফলে সাংবাদিক জহুরুল ইসলামসহ তার অনুসারী উল্লেখিত ৬টি পত্রিকার ৬জন গৌরনদী প্রতিনিধি মিলে স্থানীয় মোট ৭ জন সাংবাদিকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অজ্ঞাতনামা পোষ্ট দাতাদেরকে অভিযুক্ত করে ওই মামলার আসামী করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মুনিরুল ইসলাম মুনির জানান, বুধবার রাত সোয়া ১০টায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।থানার এসআই মোঃ আসাদুজ্জামানকে মামলাটি তদন্ত্রের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৫ই জুলাই, ২০১৮ ইং/রাত ৮:২০