১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:০১

সোনাগাজীতে ছাত্রলীগের দুই নেতাকে মারধর,সভাপতি-সম্পাদক গ্রুপে ফের উত্তেজনা

 

ফেনী প্রতিনিধি : কয়েক মাস চাপা থাকার পর সোনাগাজীতে দুই ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের পর সভাপতি-সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীদের মাঝে ফের উত্তেজনা তৈরী হয়েছে।সাধারন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আশংকা উত্তেজনা প্রশমিত করতে না পারলে গত বারের মতো উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি- সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীদের মাঝে ফের ভয়ংকর সংঘর্ষ বেঁঁধে যেতে পারে।

অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতা নিজেদের স্বার্থে ছাত্রলীগ কে ব্যাবহারের কারনে অঙ্গসংগঠনটির নেতাদের মাঝে বিরোধ চরমে পৌঁছেছে।তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার(০৩ জুলাই) বিকালে সোনাগাজী উপজেলা ছাত্রলীগের আলম সাহিন ও মাইন উদ্দিন নামে দুই নেতা মারধরের শিকার হয়।

ঘটনার জন্য তারা পৌর যুবলীগ নেতা সোহেল ভুঞাকে দায়ী করে।মারধরের শিকার দুই জনই উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল মোতালেব রবিন চৌধুরীর সমর্থক হওয়ার কারনে তার গ্রপের নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে রবিন জানান,গত সোমবার (২জুলাই) দুপুরে সোনাগাজী ছাবের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ফটকে সায়েম ও কাউচার নামে অষ্টম শ্রেনীর দুই ছাত্র ধুমপান করছিলো।তাদের কে পিয়াস ও রকি নামে দশম শ্রেণীর দুই ছাত্রলীগ কর্মী স্কুল ফটকে ধুমপান না করতে অনুরোধ করে।এ নিয়ে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়।

সোমবার স্কুল ছুটির পর পিয়াস ও রকিকে বেদম মারধর করে সায়েম ও কাউছারের নেতৃত্বে ৭/৮ জন কিশোর।স্থানীয়রা জানান,এ খবর জানাজানি হলে ছাত্রলীগ নেতা আলম সাহিন ও মাইন উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৪/১৫ জন ছাত্রলীগ কর্মী স্কুল ফটকে এসে পিয়াস ও রকির উপর হামলা কারীদের ধাওয়া করে আল হেলাল একাডেমী বিদ্যালয় পর্যন্ত নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসময় ঘটনাস্থলে থাকা যুবলীগ নেতা সোহেল ভুঞা আলম সাহিন ও মাইন উদ্দিন কে চলে যেতে বল্লে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের মারধর করে।তবে সোহেল তাদের কে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে।এ ঘটনার পর ছাত্রলীগ সভাপতি রবিন রাতে তার ফেসবুক আইডিতে সোহেল ভুঞা ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা কে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উপর হামলার জন্য দায়ী করে স্ট্যাটাস পোষ্ট করে।

স্ট্যাটাসে রবিন তাদের বিএনপি জামায়াতের দোশর আখ্যায়িত করে বিচারের জন্য জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারির হস্তক্ষেপ কামনা করে।এর কিছুক্ষন পর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ইফতেখারুল আলম খন্দকার পাল্টা স্ট্যাটাস পোষ্ট করে।যাতে পুরো ঘটনার জন্য রবিন সমর্থক মাইন উদ্দিন কে দায়ী করে।ইফতেখার জানান,তাদের ব্যাক্তিগত সমস্যা ছাত্রলীগ বহন করবেনা।

পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাসের কারনে রাতেই সভাপতি-সম্পাদক গ্রুপের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।বুধবার সকাল থেকে উভয় গ্রুপের সমর্থকরা পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে দলবদ্ধভাবে অবস্থান গ্রহন করে। কমিটি গঠনের পর পরই উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিন ও সম্পাদক ইফতেখার পরস্পরের সাথে দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়ে।
এ দ্বন্দের জেরে গত ১২ এপ্রিল রবিন কে পৌরসভার জিরো পয়েন্টে ইফতেখারের সমর্থকরা পিটিয়ে গুরতর জখম করলে সে ঢাকা মেডিকেল করেজ হাসপাতালে ভর্তি থেকে দুই সপ্তাহ চিকিৎসা গ্রহন করে।ওই ঘটনায় ইফতেখার সমর্থক ৭ জনের নামে মামলা দায়ের করে রবিন।ফেনী জেলা ছাত্রলীগ তদন্ত কমিটি গঠন করে কয়েকজন কে দোশী সাব্যস্ত করলেও সভাপতি-সম্পাদক গ্রুপের দ্বন্ধ নিরশন হয়নি।
কিউএনবি/সাজু/৪ঠা জুলাই, ২০১৮ ইং/রাত ৮:১৮