২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:৪৯

রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে জাতিসংঘ-মহাসচিব

 

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার : রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক ভূমিকা যথেষ্ট নয়। অবশ্যই মিয়ানমারকে তাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে একথা বলেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তেনিও গুতেরেস। এসময় বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমও রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার আশ্বাস দেন।

সোমবার সকাল পৌনে ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের এক বিশেষ ফ্লাইটে করে কক্সবাজারে পৌঁছেন জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ^ব্যাংক প্রেসিডেন্ট। পরে উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে যান তাঁরা। দুপুরে উখিয়ার কুতুপালং নতুন বর্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ পরিদর্শন করেন। এরপর ইউএনএফপিএ পরিচালিত মহিলাবান্ধব কেন্দ্রে যান এবং ১০-১৫জন রোহিঙ্গা মহিলার কাছে মিয়ানমারের বর্বরতার বর্ণনা শুনেন।

এরপর ডি-৪ ক্যাম্পে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে ডি-৫ ক্যাম্পে গিয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গা পুরুষ ও মহিলাদের সাথে কথা বলেন। এসময় রোহিঙ্গারা নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করলে মিয়ানমারে ফিরে যাবে বলে জানান।এরপর বিকাল ৩টায় প্রেস ব্রিফিং করেন।এসময় জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তেনিও গুতেরেস বলেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে জাতিসংঘ।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো সোচ্চার হতে হবে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন। এসময় সফররত বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ যথেষ্টভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তিনি রোহিঙ্গা নাগরিকদের মানবিক সহায়তায় ৪৮০ মিলিয়ন ডলার সাহায্য প্রদান করা হবে বলে জানান।এছাড়া রোহিঙ্গার কারনে ক্ষতিগ্রস্থ বাংলাদেশের আর্ত-সামাজিক উন্নয়নে আরো ৩ বিলিয়ন ডলার স্বল্প সুদে ঋন সহায়তা প্রদানের আশ^াস প্রদান করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ছাড়াও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপো গ্রান্ডি এবং আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির প্রধান পিটার মরারও তাদের সাথে ছিলেন। এই ৪ বিশ্বনেতার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে সহয়তা করবে বলে মনে করছেন রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা। জাতিসংঘ মহাসচিবের ক্যাম্প পরিদর্শনে রোহিঙ্গারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এবং নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে জাতিসংঘের বলিষ্ট ভূমিকা প্রত্যাশা করে তারা।

পরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলণ কক্ষে প্রেস ব্রিফিং শেষে তারা হোটেলে ফিরে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর সাথে মিটিং করবেন এবং সাড়ে ৫টার দিকে ফেইসবুক লাইভে সংযুক্ত হবেন।আর ফেইসবুক লাইভ শেষে তারা সফর গুটিয়ে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন।

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/২রা জুলাই, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৭:২৭