১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:৪৬

সংস্কারে দরকার প্রায় ২ কোটি টাকা পরশুরামে বন্যায় ভেঙ্গে নিয়ে গেছে ১৭ কি.মি সড়ক

আবদুল্লাহ রিয়েল,ফেনী প্রতিনিধি পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে দুই দফার বন্যায় পরশুরামে ভেঙ্গে পড়েছে সড়ক ব্যবস্থা।বন্যার পানি নেমে গেলেও ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থা নতুন করে ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।বেশ কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তার অংশ।এতে করে উপজেলার বন্যায় আক্রান্ত এলাকায় বিধ্বস্ত সড়কে স্থানীয়দের ভোগান্তি চলছে।
সড়ক বিভাগ থেকে জানানো হয় উপজেলা জুড়ে বিভিন্নস্থানে প্রায় ১৭ কিলোমিটার সড়ক ভেঙ্গে গেছে।এসব সড়ক মেরামত করতে কমপক্ষে ২ কোটি টাকা লাগতে পারে বলে জানা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ও সড়ক বিভাগ থেকে জানা যায়, ১২ জুন পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে উপজেলার মুহুরি, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর ৮ স্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়।এতে বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় অন্তত ২০ গ্রাম।
বন্যার পানির তোড়ে প্রায় ১১ টি কাঁচা ও পাকা সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে যায়। গত ২৩ ও ২৪ জুন টানা বৃষ্টিতে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের ভাঙ্গন কবলিত স্থানগুলো দিয়ে পানি ঢুকে পুনরায় বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নতুন করে প্লাবিত হয় আরো অন্তত ১০ গ্রাম।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর জানায়, দুই দফার বন্যায় পরশুরামে প্রায় ১১ টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।এসব সড়কের ১৭ কিলোমিটার বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।এর মধ্যে সুবার বাজার-মনিপুর-পশ্চিম সাহেবনগর, কালির বাজার সড়কে ৫০ মিটার, সুবার বাজার-ডিএম সাহেবনগর সড়কে ৩০ মিটার, দক্ষিণ কাউতলী সড়কে ১৫ মিটার, দূর্গাপুর-রতনপুর-বেকের বাজার সড়কে ১০০ মিটার, চারিগ্রাম-শালধর সড়কে ৩০ মিটার, রাজষপুর বাজার-শালধর বাজার-চারিগ্রাম সাতকুচিয়া কালাপোল-চাঁনগাজি বাজার-নরনীয়া-বকস মাহমুদ সড়কে ৭ কিলোমিটার, শালধর বাজার-চন্দনা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয় সড়কে ১.৩৬ কিলোমিটার, পরশুরাম বাজার-গুথুমা চৌমুড়ি বাজার-গুথুমা বিওপি সড়কে ২০ মিটার, পরশুরাম-কালির বাজার, ধনীকুন্ডা বাজার, শালধর ইউপি বাজার-মালিপাথর-নিলক্ষী-ফুলগাজী সড়কে ৪ কিলোমিটার, নাছির উদ্দিন চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় সড়কে ২.৫ কিলোমিটার ও মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান সড়কে ২ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্থ এসব সড়কে চলাচলকারী মানুষ সীমাহিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
দূর্গাপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, রামপুর-রতনপুর-দূর্গাপুরে দুই থেকে তিন কিলোমিটার সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে রাস্তার অংশ ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে নানা শ্রেণি ও পেশার কর্মজীবী, শ্রমজীবী ও শিক্ষার্থীরা ব্যাপক বিডম্বনার শিকার হচ্ছে।
রামপুর গ্রামের মো.আবু সাইদ জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সড়কে চলাচল করা দুস্কর হয়ে পড়েছে। ঈদের পর থেকে ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে পারছি না। এসব এলাকার অনেকেই বন্যার আগে দৈনন্দিন কাজ সারাতে জেলা শহরে যাতায়াত করলেও বর্তমানে সড়ক নষ্ট থাকার কারণে পরিবহন সংকটে পড়ে তারা যাতায়াত করতে পারছেনা।
এছাড়াও রাস্তা নষ্ট হওয়ার কারণে গ্রামের আনাচে-কানাছে গড়ে উঠা বিভিন্ন মুদি, মনোহরী ও ষ্টেশনারী দোকানে চাহিদা মোতাবেক মালামাল সর্বরাহ করতে পারছেনা।এমতবস্থায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণ নানানভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.শাহ আলম পাটোয়ারী রাজষপুর বিওপি সড়ক, দূর্গাপুর- রামপুর মেম্বার বাড়ি সড়ক ও গুথুমা আবদুল্লাহ শাহ্ মাজার সড়ক উন্নয়ন কাজের প্রাক্কলন প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
পরশুরাম উপজেলা প্রকৌশলী মনির হায়দার জানান, বন্যার পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্থ সড়কগুলো সংস্কার কাজ শুরু হবে। ক্ষতিগ্রস্থ ৩ টি সড়ক উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্দেশনা এসেছে বলে তিনি জানান।
কিউএনবি/সাজু/২৯শে জুন, ২০১৮ ইং/বিকাল ৩:৩৩