২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৫৩

শ্বশুর-শাশুড়ির ‌‘অন্তরঙ্গ দৃশ্য’ ভিডিও করে জামাই জেলে

 

ডেস্কনিউজঃ রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার রহমতপুর ধামিলা গ্রামে শ্বশুর-শাশুড়ির অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ভিডিও ধারণ ও চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে আবু সাঈদ নামে এক জামাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জামাইয়ের বিরুদ্ধে শাশুড়ি মেরিনা বেগম পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(১) ধারায় রাজশাহী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে মেয়ের জামাইকে মঙ্গলবার জেলহাজতে প্রেরণ করেন আদালত।

রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার রহমতপুর ধামিলা গ্রামের মেরিনা বেগম ২৫ জুন গোদাগাড়ি মডেল থানায় লিখিত এজাহারে বলেন, অভিযুক্ত আসামি আবু সাঈদ আমার একমাত্র মেয়ে জামাই। আট বছর আগে তার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় আবু সাঈদের। পাশের বাড়ি হওয়া ও মেয়ে জামাই হওয়ার কারণে প্রায় সময় আবু সাঈদ আমাদের বাড়িতে যাওয়া-আসা করতেন।

গত ২৪ জুন রাতে আমার মেয়ে জামাই বাড়িতে এসে বলে আমার মোবাইল ফোনে আপনার কিছু গোপন ছবি ও ভিডিও আছে। আমি ছবিগুলো দেখতে চাইলে সে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও এবং স্থিরচিত্র দেখায়।

আমি আমার মানসম্মানের কথা ভেবে ভিডিও চিত্রগুলো মোবাইল ফোন থেকে ডিলিট করার জন্য এবং ইন্টারনেটে না ছাড়ার জন্য অনুরোধ করি। সে প্রতারণামূলকভাবে ছবি ও ভিডিওগুলো মোবাইল থেকে মুছে ফেলতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। সে আমাকে হুমকি দিয়ে আরও বলে যে, এই কথা কেউ জানলে আমি আপনার মেয়েকে তালাক দিবো।

এদিকে মামলার অভিযুক্ত আবু সাঈদের স্ত্রী সংবাদ সম্মলেনের মাধ্যমে নিজের স্বামীকে নির্দোষ দাবি করে আবু সাঈদের স্ত্রী দাবি করে বলেন, ‘‘আমার স্বামী নির্দোষ। ষড়যন্ত্র করে তার মা ফাঁসিয়েছেন। আমার মা-বাবার ৪ ছেলে এক মেয়ে। আমি তাদের একমাত্র মেয়ে। দীর্ঘ ৮ বছর আগে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিয়ে করেছিলাম আবু সাঈদকে। বিয়ের পর থেকেই আমার মা-বাবা ছেলের পরিবার গরীব বলে আমাকে তাকে তালাক দিয়ে ফিরে আসতে বলছিলো। কিন্তু আমি তা করিনি। আমার মা-বাবার সাথে বিয়ের পরে প্রথম কয়েক বছর সম্পর্ক ছিলো না। দুই থেকে তিন বছর থেকে দুই পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ হয়। এর মাঝেও স্বামীকে তালাক দেয়ার জন্য অনেকবার আমার মা-বাবা চাপ সৃষ্টি করেন। কিছুতেই আমি রাজি হই না। আমার মা-বাবা ষড়যন্ত্র করে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন।’’

এদিকে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা গোদাগাড়ী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বাদীর অভিযোগ পাওয়ার পরে অভিযুক্ত আসামি আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

 

কিউএনবি/বিপুল/২৮.০৬.২০১৮ইং/ রাত ৮:৫০