১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:০২

সরিষাবাড়ীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী নিয়োগে প্রার্থী বাছাইয়ে অনিয়ম


জাকারিয়া জাহাঙ্গীর,সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগে প্রার্থী বাছাইয়ে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্ধারিত এলাকা ও বয়সের সীমাবদ্ধতা না মেনে উৎকোচের বিনিময়ে প্রার্থী চুড়ান্ত করেছে নিয়োগ কমিটি।

৪০টি বিদ্যালয়ে পাঁচ কোটি টাকার বেশি নিয়োগ বানিজ্য করেছে সংশ্লিষ্টরা। বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের অভিযোগে ইতোপূর্বে দু’বার নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হলেও আগামিকাল বৃহষ্পতি ও শুক্রবার পুণরায় নামেমাত্র মৌখিক পরীক্ষার জন্য নোটিশ দিয়েছে শিক্ষা অফিস।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্র জানায়, ৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগের জন্য গত বছরের ১০ এপ্রিল শিক্ষা অফিস নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি প্রকাশ করে। ৪০টি পদে ৩৭৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। বাছাই কমিটি ৩১৯ জন প্রার্থীর আবেদন বৈধ ঘোষণা করে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ ওঠায় দু’বার নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়।

সর্বশেষ চলতি বছরের ২৭ মে ইউএনও অফিসে নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হলে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও নিয়োগ কমিটির সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম ঠান্ডু হামলার শিকার হন। পরে প্রশাসন ওই পরীক্ষা স্থগিত করে। এদিকে অনিয়মের মধ্যেই নিয়োগ চুড়ান্ত করতে ২৮ ও ২৯ জুন পুণরায় মৌখিক পরীক্ষার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ কমিটির সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম ঠান্ডু জানান, প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের সময় তাঁকে উপস্থিত রাখা হয়নি। কয়েকটি বিদ্যালয়ে প্রজ্ঞাপন অমান্য করে নির্ধারিত এলাকা (সংশ্লিষ্ট গ্রাম) বাদ দিয়ে প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়েছে। সুত্র জানায়, তরণীআটা বিদ্যালয়ে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন একই গ্রামের হলেও মিনহাজ উদ্দিন (পিতা দুলাল হোসেন) পার্শ্ববর্তী গোয়ালবাথান গ্রামের।

কাশিনাথপুর বিদ্যালয়ে নয়জন প্রার্থীর মধ্যে আটজন ওই গ্রামের হলেও রোকন শেখ নামে এক প্রার্থী কাবারিয়াবাড়ি গ্রামের। চন্দনপুর বিদ্যালয়ে পাঁচজনের মধ্যে নিজামুল হক বাউসি প্যারিয়াটা গ্রামের। ডাকাতিয়া মেন্দা বিদ্যালয়ে পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে মাহবুবুল ইসলাম নামে একজন বালিয়া মেন্দা গ্রামের।

এদিকে আবেদন চলাকালীন সময়ে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সের সীমাবদ্ধতা ও বয়সের সংশোধনী গ্রহণযোগ্য না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে মানা হয়নি। নলদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজিজুল হক (পিতা হোসেন আলী) নামে এক প্রার্থীর জন্ম তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫ (৩২ বছর ২ মাস ২১ দিন) থাকলেও আবেদনের সময় তার জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৮ জন্ম তারিখ বানানো হয়।

এ ব্যাপারে এসকিন উদ্দিন নামে স্থানীয় একজন গত বছরের ৯ জুলাই ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও রহস্যজনক কারণে কোনো তদন্ত হয়নি। প্রজ্ঞাপন অমান্য করে বাছাইকৃত উল্লেখিত ওই প্রার্থীদের নগদ ৮-১০ লাখ টাকা উৎকোচে নিয়োগ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে প্রকাশ।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একেএম আশরাফুল ইসলাম, পৌর যুবলীগের সভাপতি সুরুজ্জামান বাবু ও অনার্স কলেজের জিএস মাহমুদুল হাসান দুখু যৌথ স্বাক্ষরিত প্রেসনোটে অভিযোগ করেন, প্রতি প্রার্থীর কাছ থেকে সর্বনি¤œ ৪-৫ থেকে ৯-১০ লাখ টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ করে বিএনপি-জামাতপন্থীদের নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছৈ।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল হালিম জানান, প্রার্থী বাছাইয়ের সময় আমি এ উপজেলায় ছিলাম না। আমি অনিয়মের সাথে জড়িতও নই, তবে অনিয়মের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, অনিয়ম থাকলে পরীক্ষা চলাকালেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। নিয়োগ বানিজ্যের বিষয়টি বলতে পারবো না।

জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর জানান, যদি কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

কিউএনবি/রেশমা/২৬শে জুন, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৭:৫৮