১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:৫৭

বন্যায় হালদা নদীর পানি দূষণে মরছে মাছ

নিউজ ডেস্কঃ  উপমহাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্যপ্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর পানি অতি বন্যার কবলে পড়ে দূষিত হয়ে যায়। তাছাড়া বন্যায় আশপাশের শাখা খাল, ডোবা, পুকুর এবং ফসলী জমির পানিও একাকার হয়ে যায়। আশপাশের সব ময়লা আবর্জনা পচে তা পড়ে এ নদীতে। এসব কারণে হালদা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মাছ মরে ভেসে ওঠছে। বিশেষ করে নদীতে ময়লা পানির কারণে অক্সিজেন কমে যাওয়ায় চিংড়ি মাছই বেশি মারা যাচ্ছে।

জানা যায়, গত ১২ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত টানা বর্ষণে উত্তর চট্টগ্রামের  হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পানিতে ডুবে যায়। হালদা নদীও এই তিন উপজেলায়। ফলে বন্যার সময় খাল, বিল, ডোবা ও পুকুরের পানি একাকার হয়ে যায়। পরে দূষিত হয়ে এসব পানি আবার গিয়ে পড়ে হালদা নদীতে।  আজ বুধবারও স্থানীয় অনেকে মরে ভেসে ওঠা মাছ ধরেছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাখা খাল ও পুকুর ডুবে যাওয়ার পর স্থানীয়রা সেখানে অক্সিজেন কমে যাওয়ার জন্য একটি ক্যামিকেল ফেলে। এ কারণে চিংড়ি মাছ পানির উপরে ভেসে উঠে যায়। পরে সেগুলো স্থানীয়রা ধরে ফেলে বলে জানা যায়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিচার্স ল্যাবরেটরিরর সমন্বয়ক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘বন্যার সময় পানি বিভিন্ন স্থান থেকে আবর্জনাসহ হালদা নদীতে পড়ে। বর্জ্যে পানি দূষিত হওয়ায় এতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। এ কারণে মাছ মারা যাচ্ছে। বিশেষ করে চিংড়ি মাছ প্রয়োজনীয় মাত্রার অক্সিজেন ছাড়া থাকতেই পারে না। তাই এই মাছই বেশি মারা যাচ্ছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘খবর শুনে আমরা হালদা নদীতে গিয়েছিলাম। সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, বৃষ্টিতে বন্যার পানি একাকার হওয়ায় পানি দূষিত হয়ে যায়। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বৃহস্পতিবার আমাদের টিম হালদা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে পরিক্ষা করা হবে। তারপর মাছ মরে যাওয়ার কারণ জানা যাবে।’

জানা যায়, হালদা নদী প্রাকৃতিকভাবে রুই, কাতাল ও কার্প জাতীয় মাছ প্রজননের একমাত্র স্থান। চট্টগ্রামের হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এটি। ১২৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে নদীটি ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করছে আশপাশের প্রায় আড়াই হাজার জেলে। হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল হলো- খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার ১ নং পাতাছড়া ইউনিয়নের হালদা ছড়া থেকে। কার্যত সেখান থেকেই এই হালদা নদী উৎপত্তি হয়ে কালুরঘাটের কাছে হয়ে কর্ণফুলীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। চলতি পথে হালদায় ৩৬টি ছড়া ও খাল এসে যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে খালের সংখ্যা ১৯টি।