২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:৫৮

পীরগঞ্জে ৮নং দৌলতপুর ইউ’পি চেয়ারম্যানের ইন্ধোনে  মেয়েকে অপহরণ ও ইন্টারনেটে আপত্তিকর ছবি ভাইরাল করার অভিযোগে মামলা

 

গীতি গমন চন্দ্র রায়,পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ৮নং দৌলতপুর ইউ’পি চেয়ারম্যানের ইন্ধোনে এক অসহায় মেয়ে অপহরণ ও ইন্টানেটে আপত্তিকর ছবি প্রকাশ হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউ’পি চেয়ারম্যান কার্তিক চন্দ্র রায় সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে ৬০ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত ক্রমে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করে। জানা যায় জেলার সদর উপজেলার ভাউলার হাট রায়-পুর গ্রামের বিষ্ণু প্রসাদ রায়ের ছেলে আপন চন্দ্র রায় তাহার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহায়তায় এবং তার সম্পর্কীয় আত্মীয় পীরগঞ্জের দৌলতপুর ইউ’পির চেয়ারম্যান কার্তিক চন্দ্র রায়ের প্রশ্রয়ে পীরগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বকুল চন্দ্র রায়ের কন্যা লক্ষীরাণীকে বিভিন্ন সুযোগে কুপ্রস্তাব দিত।

লক্ষ্মী রানী সে বিষয়ে আপন পিতা বকুল চন্দ্র কে জানায়, বকুল চন্দ্র বিষয়টি বিবাদীরকে জানালেও কোনো প্রতিকার না করিয়া বেপোরোয়া হয়ে যায়। এ অবস্থায় নিজ সম্মানের হানি হলে সে কথা চিন্তা করে গত ১১ই মে বকুল চন্দ্র তাহার মেয়েকে সাগুনি গ্রামের রাজ মোহনের ছেলে গণেশ চন্দ্রের সাথে বিয়ে দেন। বিয়ের দিন আপন চন্দ্র ও তার ভাই গোপাল চন্দ্র তাদের একাধিক জনগণ লোকজন নিয়ে বকুলের বাড়িতে এসে তার মেয়েকে অপহরণ করার চেষ্টা করলে গ্রাম বাসী আপন ও গোপালকে আটক করে।এহেন অবস্থায় এসব কাজ করবে না মর্মে অঙ্গিকার করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কার্তিক চন্দ্র রায় তাদেরকে কৌশলে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

তারই মধ্যে গত ২১ শে মে রাতে বিবাদীরা লক্ষ্মী রানীকে জোর পূর্বক একটি মাইক্রোবাসে অপহরণ করে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ঐ দিনই ইউপি চেয়ারম্যান কার্তিক চন্দ্র রায় ব্লাঙ্ক কাগজে বকুলের স্বাক্ষর নেই। এবং লক্ষ্মী রানী হারিয়ে গেছে মর্মে পীরগঞ্জ থানায় জিডি করেন।

পরবর্তীতে লক্ষ্মী রাণীকে ফেরত না দেওয়ার শর্তে আপনের ভাই জ্যোতিষ চন্দ্র ও ইউপি চেয়ারম্যান কার্তিক চন্দ্র গত ২৫ মে কন্যার পিতা বকুলের সাথে বিষয়টি সাদা কাগজে লিখিত ভাবে আপোষ করেন। কিন্তু আপসের শর্তানুযায়ী লক্ষ্মী রাণীকে ফেরত না দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান কার্তিক চন্দ্র বিবাদীদের সাথে যোগসাজশ করে সময়কাল ক্ষেপন করতে থাকে। এরই মধ্যে আপন চন্দ্র ভিকটিম লক্ষ্মী রানীর সাথে জোরপূর্বক দৈহিক সম্পর্ক করে এবং এর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। এতে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও সম্মান হানি হয় লক্ষ্মীর পরিবার।

প্রস্তুতি বাধ্য হয়ে গত ৪ জুন ইউপি চেয়ারম্যান কার্তিক চন্দ্র, ঘটনার মূল নায়ক আপন চন্দ্র, আপনের ভাই গোপাল, ও যতিশ চন্দ্র এবং ভাবী সুমিত্রা রানীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের মামলা করেন লক্ষ্মী রানীর বাবা বকুল চন্দ্র। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করিয়া ৬০ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।

কিউএনবি/রেশমা/১৪ই জুন, ২০১৮ ইং/সকাল ১১:৫০