১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:৫৬

অবৈধ বালু উত্তোলন সোনাগাজীর মুহুরী রেগুলেটর ও বেড়ি বাঁধ হুমকির মুখে

 

আবদুল্লাহ রিয়েল,ফেনী প্রতিনিধি : ছালেহ আহম্মদ বাবুল নামে এক প্রভাবশালী ঠিকাদারের ক্ষমতার দাফটের কাছে যেন অসহায় হয়ে পড়েছে ফেনীর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদারের বেপরোয়া আগ্রাসনে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুহুরী সেচ প্রকল্প ও সোনাগাজী-মীরসরাই বেড়ি বাঁধ চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

ঠিকাদার ছালেহ আহম্মদ বাবুলের মালিকীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে সোনাগাজী-জোরারগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ পান।নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনী পউর বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে একটি পুকুর ভরাট করে ও বিপুল সংখ্যক গাছ কেটে একটি বন উজাড় করে উক্ত জমিতে কয়েকটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেন এবং তার নির্মাণ সামগ্রী রেখে জমিটি দখল করে নেয়।

উক্ত জমির পাশে রয়েছে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও অস্ত্রাগার। উক্ত টিনশেড ঘর গুলোতে বিপুল সংখ্যাক নির্মাণ শ্রমিক অবস্থান করায় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অস্ত্রাগারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং অরক্ষিত হয়ে পড়েছে সংরক্ষিত এই এলাকাটি।

এদিকে একই ঠিকাদার সোনাগাজী-মীরসরাই বেড়ি বাঁধের উপর প্রধান সড়কে নিন্মমানের মাটি ও পাথর মিশ্রিত নির্মাণ সামগ্রীর বড় বড় স্তুপ করে রাখায় যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ব্লক বসানো এই বেড়ি বাঁধের পাশ দিয়ে অর্থাৎ ঢালু অংশে চরম ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনগুলো চলাচল করছে।

এক দিকে চরম ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনগুলো চলাচল করছে, অন্যদিকে বেড়ি বাঁধের ঢালু অংশের ব্লকগুলো যানবাহনের চাপে নড়েবড়ে ফাঁকা হয়ে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।এতে চরমভাবে বেড়ি বাঁধটির স্থায়ীত্ব নষ্ট হচ্ছে। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এ এলাকায় প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে।

প্রতিনিয়ত ধুলি ঝড় আর ধূসর বালিতে একাকার হয়ে নানা বিড়ম্বনার শিকার হয় ভ্রমন পিয়াসু পর্যটকরা। এসব বিড়ম্বনার কারণে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে পর্যটকদের আগমন কমে যেতে পারে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মৎস্য চাষীদের মাঝেও এ নিয়ে চরম ক্ষোভ এবং অসন্তোষ বিরাজমান।

ঠিকাদার ও তার লোকদের ভয়ে যেন কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেনা। শুধু তাই নয়, কয়েকটি ড্রেজার মিশিন দিয়ে মুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালিও উত্তোলন করছেন ঠিকাদার ছালেহ আহম্মদ বাবুল। এর ফলে মুহুরী রেগুলটরটিও চরম হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোন সময় ধেবে যাওয়ার আশঙ্কা করেছে এলাকাবাসী।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন উজাড় করে, পুকুর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ ও নির্মাণ সমাগ্রী রাখা এবং সোনাগাজী-মীরসরাই বেড়ি বাঁধের প্রধান সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি ও পরিবেশ দূষণ সহ ঠিকাদারের আগ্রাসন এবং জবর দখলের ব্যপারে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ কহিনুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি ছাড়াই উক্ত ঠিকাদার এসব কাজ করে যাচ্ছেন।

ঠিকাদারকে এ ব্যপারে বার বার তাগিদ দিলেও তিনি কর্নপাত করছেনা। ঈদের আগেই স্থাপনা ও নির্মাণ সামগ্রীগুলো সরিয়ে নিতে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কিউএনবি/রেশমা/১৩ই জুন, ২০১৮ ইং/সকাল ১১:৪৪