১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:৩৭

কুমিল্লায় চিরকুট লিখে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের আত্মহত্যা

 

মৃত্যুর আগে চিরকুট লিখে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এ এস এম আব্দুল ওয়াব (৬০) আত্মহত্যা করেছেন।সোমবার সকাল সাড়ে আটটায় কুমিল্লা শহরের মহিলা কলেজ রোড মাদার কেয়ার হাসপাতালের পেছনের ভাড়া বাসার দুই তলা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত ওয়াব কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ২ নম্বর চৌয়ারা ইউনিয়নের হেমজোড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের পদে থাকাবস্থায় অবসরে যাওয়ায় পেনশন, সম্পত্তি ও পরিবার নিয়ে প্রফেসর এ এস এম আব্দুল ওহাব মানসিকভাবে চিন্তিত ছিলেন। গতকাল রবিবার রাতে সেহেরির পর কোনো এক সময় বাথরুমে ঝর্ণার পাইপের সাথে ঝুলে আত্মহত্যার করেন। আজ সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে তার স্ত্রী স্বামীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে পরিবারের লোকজন ছুটে আসে। পরে স্বজনরা পুলিশকে খবর দিয়ে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।

মৃত্যুর আগে লেখা চিরকুটের শুরুতেই ওয়াব ‘কলেজ অধ্যক্ষ’কে ভাল থাকুন বলে সম্বোধন করেন। এরপর চিরকুটে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। দায়ী আমার নসীব। অধ্যক্ষ থাকাকালীন ২-১ জনের সাথে বিতর্ক হয়েছে। সবচেয়ে বড় দু:খ একজন শ্রদ্ধেয় এবং স্বনামধন্য ব্যক্তিকে আমি নাকি কি বলেছি -এ কথা শুনে আমার অন্তর ভূমিকম্পের মত কেঁপে উঠেছে। তার কাছে কে অভিযোগ করেছে মৃত্যুর আগে তা আমি উল্লেখ করলাম না। আমি সেই ব্যক্তির জামাতা হওয়ার কথা ছিল। এ কথা সত্য, যে কোনো ছাত্রী আমার নিকট তার সমস্যার কথা বলত। আল্লাহর কসম করে বলছি কোনো ছাত্রীর সাথে আমার দৈহিক সম্পর্ক ছিলো না। দুর্বল চিত্তের অসুস্থ মানুষ এ কথা শুনে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আমার জন্য কাল হয়েছে কিছু গোপন কথা অবগত হওয়া। জীবনের কাজগুলো অগোছানো থাকা। নিজের কাজ অন্যকে দিয়ে করানো, যাতে প্রতারণার শিকার হয়েছি। অন্যের কাজ করেছি, নিজের কাজ করা খেয়াল ছিল না। আমার স্ত্রী কন্যাকে কি করে গেলাম জানি না। নসিব দোষে মারা গেলাম।’

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতয়ালী মডেল এসআই সহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে আমরা মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার লেখা চিরকুটগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে আরো জানা গেছে, প্রফেসর আব্দুল ওহাবের মরদেহ কুমেক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরহুমের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি সদর দক্ষিণ উপজেলার ২ নম্বর চৌয়ারা ইউনিয়নের হেমজোড়া গ্রামে নেওয়া হয়েছে। বাদ আছর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

 

কিউএনবি/অদ্রি আহমেদ/ ১২.০৬.২০১৮/ সকাল ১০.৫০