২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:৩৯

স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে লক্ষ্মীপুর পৌরবাসী, পানি বঞ্চিত ৭৫ ভাগ মানুষ

 

মু.ওয়াছীঊদ্দিন,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় সাপ্লাই পানির সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে পঁচাত্তর ভাগ মানুষ। বাধ্য হয়ে এসব মানুষ এখন সেলো টিউবওয়েলের আর্সেনিকযুক্ত পানি পানসহ ব্যবহার করছেন।এতে করে চর্মরোগ, এলার্জি ও আর্সেনিক রোগে আক্তান্ত হয়ে দিন দিন স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।এদিকে বাকি পঁচিশ ভাগ মানুষ নিয়মিত পানি না পাওয়ার অভিযোগ করছেন।এক্ষেত্রে নানা অজুহাতের কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

লক্ষ্মীপুর পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকায় ৮৮ হাজার গ্যালন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ট্রিটম্যান্ট প্লান্ট (শোধনাগার) নির্মাণ করা হয়।যা দ্বারা পৌরসভার সাপ্লাই পানির সুবিধা পেতেন মাত্র এক হাজার গ্রাহক।

এরপর পৌর বাস টার্মিনালে সমপরিমান অরো একটি ও সর্বশেষ ২০১৪ সালে রামগতি সড়কের পাশে সবচাইতে বড় ট্রিটম্যান্ট প্লান্ট নির্মাণ করা হয়।এ তিনটি ট্রিটম্যান্ট প্লান্টের আওতাধীন গ্রাহক সংখ্যা রয়েছে এখন সাড়ে পাঁচ হাজার।আর পুরো পৌরসভায় প্রায় বাইশ হাজারেরও বেশী গ্রাহকের সাপ্লাই পানির চাহিদা রয়েছে।

বর্তমানে লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় বসবাস করছেন প্রায় দুই লাখ মানুষ।প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভার এসব মানুষের মধ্যে মাত্র পঁচিশ ভাগ অর্থাৎ পঞ্চাশ হাজার মানুষ সাপ্লাই পানির সুবিধা পান বলে দাবি করেন পৌরসভার ওয়াটার সুপার ও সহকারি প্রকৌশলী একে এম শামছুদ্দিন।আর বাকি পঁচাত্তর ভাগ অর্থাৎ দেড়লাখ পৌর বাসিন্দা পানি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন বলে জানান তিনি।

এদিকে অনেকে পানি না পেয়ে বাধ্য হয়ে ঘরের আঙ্গিনায় সেলো টিউবওয়েল বসিয়ে লাল রংয়ের আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করাসহ তা ব্যবহার করছেন।এতে করে সব বয়সী মানুষ এখন চর্মরোগ, এলার্জি ও আর্সেনিক রোগে আক্তান্ত হয়ে ভুগছেন বলে জানান পৌরসভার ২, ৬ ও ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।একই অবস্থা অন্যসব ওয়ার্ড গুলোতে বিরাজমান।

লক্ষ্মীপুর জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস বলেন, “পৌরসভার প্রত্যেকটিতে সেলো টিউবওয়েলে লবানাক্ত পানি উঠছে, আর এসব টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক রয়েছে।এসব পানি পান করে অথবা ব্যবহার করে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।এতে করে স্বাস্থ্য ঝুকি বাড়ছে।”

অন্যদিকে সাপ্লাই পানির পঁচিশ ভাগ গ্রাহকদের অনেকেই অভিযোগ করেন, নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও সময়মতো পানি পাওয়া যাচ্ছেনা।আবার অনেকেই বলছেন গ্রাহক প্রতি ৪২০ টাকা হারে পানি বিল নেন পৌরকর্তৃপক্ষ।

যা দেশের অন্যান্য পৌরসভার চাইতে অনেক বেশী নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন, অন্যান্য পৌরসভায় ট্রিটম্যান্ট প্লান্ট রয়েছে একটি, এখানে তিনটি হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ বিল বেশী আসে।এতে পানির বিলও বাড়তি নিতে হয়। সাপ্লাই সুবিধা না পাওয়ার বিষয়ে বিদ্যুতের লোডশেডিংসহ নানা অজুহাত তুলে ধরেন পানি সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে পৌর মেয়র আবু তাহের বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “২৬ কোটি টাকা ব্যায়ে নতুন করে আরো একটি ট্রিটম্যান্টপ্লান্ট (শোধনাগার) নির্মাণ করা হবে, যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।তা বাস্তবায়ন হলে পঞ্চাশ ভাগ মানুষ পানি সুবিধা পাবে।এ বরাদ্ধের সমপরিমান টাকা পেলে পার্শ্ববর্তী মেঘনা নদী থেকে পাইপ লাইনে পানি এনে পরিশোধন করা যেতে পারে।এতে শতভাগ পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে জানান তিনি।”

বিজ্ঞজনরা বলছেন, “প্রতিদিন নিচ থেকে অতিরিক্ত পানি উপরে উঠানো হচ্ছে, এর কারণে নিচের পানির অবস্থান দিন দিন আরো নিচে নেমে যাচ্ছে, আগে পৌর শহরে ১৭ ফুট নিচে পানি পাওয়া যেত, এখন পানি পেতে হলে ৮০ থেকে ১০০ ফুট নামতে হচ্ছে।

খুব দ্রুত পানি সমস্যার সমাধান করা না হলে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর পর মানুষ পানির তীব্র সঙ্কটে ভুগবে বলে মত প্রকাশ করেন বিজ্ঞজনরা।তাই এ বিষয়ে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন এমনটি আশা করছেন এখানকার জনগণ।”

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৯ই জুন, ২০১৮ ইং/বিকাল ৩:২৫