২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:৪৮

মাদারীপুরে হামলার পর উল্টো মামলার শিকার কৃষক

 

আব্দুুল্লাহ আল মামুন,মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুরে মাজেদ কাজী (৬০) নামে এক কৃষককের জমি দখল করতে না পেরে তাকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। এরপরে ওই কৃষককে আসামি করে উল্টো আদালতে মামলা করে তারা। এ ঘটনায় ওই কৃষক ও তার স্ত্রী মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্র জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের গুহপাড়া গ্রামের কৃষক মাজেদ কাজীর সাথে জমি নিয়ে বিরোধ বাধে একই এলাকার আবুল কালাম মোল্লার। এদের মধ্যে মাঝে মধ্যেই দ্বন্দ্ব লেগেই থাকতো। এরই জের ধরে গত ৩০ মে মাজেদ কাজীর ঘরে ঢুকে আবুল কামাল মোল্লা ও তার সহযোগিরা তাকে বাড়ি ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

মাজেদ তাদের কথার প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করে। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাজেদ ও তার স্ত্রী কুলসুম বেগমকে কুপিয়ে আহত করা হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর দিন আহত মাজেদ কাজীর ছোট ভাই বাদল কাজী বাদি হয়ে মাদারীপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবুল কালাম মোল্লাকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের বিরুদ্ধেএকটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনায় আবুল কালাম উল্টো কৃষক মাজেদ কাজীকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা করে। এ মামলায় মাজেদ কাজীর ছোট ভাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাজেদ কাজী বলেন, ‘আমার ঘরে ঢুকে আবুল কালাম ও তার সহযোগিরা আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারধর করেছে।

তারা আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে মাথায়, হাতে, ঘাড়ে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্বক জখম করে এবং আমার স্ত্রীকেও হত্যার জন্য গলায় রামদা দিয়ে আঘাত করে।

ঘটনার পরে আমার ভাই আদালতে মামলা করলে পুলিশ উল্টো আমার ভাইকে গ্রেপ্তার করে। কালাম প্রভাবশালী, তাই মামলা করে আমরা এখন উল্টো হয়রানির শিকার।’

এ ব্যাপারে আবুল কালাম মোল্লা বলেন, ‘আমার সাথে মাজেদ কাজীর কোন শত্র“তা নেই। জায়গা জমি নিয়ে কোন বিরোধও নেই। আমার পরিবারের লোকদের সাথে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে লোকজন নিয়ে আমাদের উপর চড়াও হয়। পরে আত্মরক্ষায় আমাদের সাথে তাদের হাতাহাতি হয়। কিন্তু আমাদের কেউ তাদের ধরালো অস্ত্র দিয়ে কোন আঘাত করেনি। আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ মিথ্যে। তারা আমার বাড়িঘর এবং আমার এক ভাইয়ের হাত কেটে ফেলেছে। তাই আমরা ৮ জনকে আসামী করে মামলা করেছি।’

মাদারীপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবু নাঈম বলেন, ‘আদালতে মামলা হলে আমাদের তো কিছু করার থাকে না।আদালতে মামলা হওয়ার পরে থানায় যে মামলা রেকর্ড হয়েছে; সেই মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।বাদল কাজীর করা মামলা আমাদের থানায় এখনো রেকর্ড হয়নি।’

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৬ই জুন, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৬:৩৬