১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৭:০৬

অঙ্গীকার পূরণের দৃশ্যমান পদক্ষেপ

 

ডেস্ক নিউজ : নতুন অর্থবছরের বাজেটে নির্বাচনে অঙ্গীকার পূরণের দৃশ্যমান পদক্ষেপ থাকবে। কেননা বাজেটের ঠিক ছয় মাস পরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে নতুন বাজেটে প্রতিশ্রুত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর প্রতি বিশেষ নজর থাকছে সরকারের। আসছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সরকারের সাত মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪১ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের বরাদ্দের তুলনায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বেশি। কালো টাকা সাদা করার বাড়তি কোনো সুযোগ আসন্ন বাজেটেও থাকছে না । কমছে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে বরাদ্দ।

সরকারের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরে দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ নির্বাচনে সরকারের প্রচারের একটি বড় অংশজুড়ে থাকবে উন্নয়ন কর্মকান্ড। এজন্য ভোটাদের মন জয় করার জন্য যেসব মেগা প্রকল্প নির্বাচনের আগের দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোতে গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ প্রাক্কলন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২০০ কোটি টাকার বিশাল বাজেটটি অনেকটাই রাজস্বনির্ভর হবে। সে হিসেবে আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের পরিমাণ চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৮ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। তবে শেষ মুহূর্তে এসে এ আকার কমবেশি হতে পারে।

সূত্র জানায়, এটি বর্তমান সরকারের শেষ বাজেট। আগামী ৭ জুন বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত টানা দশম বাজেট সংসদে উপস্থাপন করবেন।

সূত্র জানায়, আসছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সরকারের সাত মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের বরাদ্দের তুলনায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বেশি। ফার্স্ট ট্র্যাক বা মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মেট্রোরেল প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যেসব মেগা প্রকল্পে গুরুত্ব দিয়ে বেশি বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে সেগুলো হলো পদ্মা সেতু, মেট্রো লাইন-৬, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, দোহাজারী থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর। মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে আগামী বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই প্রকল্পের প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ প্রাক্কলন করা হয়েছে ২০ হাজার ৫০ কোটি টাকা। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ রয়েছে ১০ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় ৯ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। বহুল আলোচিত প্রকল্প পদ্মা সেতুতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৬ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এই প্রকল্পটিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা ৩৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে এই প্রকল্পে আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। এছাড়া মেট্রোরেল লাইন-৬ প্রকল্পে আগামী বাজেটে প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ রাখা আছে ৩ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা। তবে এরই মধ্যে এই প্রকল্পের প্রায় ২ হাজার ৮২ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ ব্যয় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মেট্রোরেল প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রাথমিক প্রাক্কলন করা হলেও তিনটি মেগা প্রকল্পের বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের তুলনায় কমিয়ে ধরা হচ্ছে। কারণ নির্বাচনী বছরে এই তিন প্রকল্পে কাজ তেমন দৃশ্যমান হবে না। তিনটি প্রকল্প হলো পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প, দোহাজারী থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প এবং মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক প্রকল্প ও পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্প।

জানা যায়, দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের কাজ। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মূল সেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৫৮ শতাংশ। জানুয়ারি পর্যন্ত অগ্রগতির এই হার ছিল ৫৭ শতাংশ। আর প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৫২ শতাংশ। সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফার্স্ট ট্র্যাক অগ্রগতি প্রতিবেদন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কালো টাকা সাদা করার বাড়তি কোনো সুযোগ আগামী বাজেটেও থাকছে না। তবে অঘোষিত অর্থ সাদা করার সুযোগ আগের মতোই থাকছে। আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। চলতি অর্থবছর এ খাতে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা ছিল। আসছে অর্থবছর এ বরাদ্দ ৫০০ খাতে কোটি টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নতুন অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপিতে বরাদ্দ আছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। এডিপির মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬০ হাজার কোটি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে ৭ হাজার ৮৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা খরচের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৫ই জুন, ২০১৮ ইং/সকাল ৮:৪১