১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১০:১০

ক্ষুধা নিবারণে রাতের আঁধারে আম, রাবি ছাত্রকে পুলিশে দিল কর্তৃপক্ষ

 

সারাদেশঃ আনোয়ারুল হক অনু নামের এক শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে গাছ থেকে আমপাড়ার অভিযোগে পুলিশে দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার রাতে। ওই শিক্ষার্থীর নাম আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি পপুলেশন সায়েন্সে চতুর্থ বর্ষে পড়েন। পরে অবশ্য রাত ১০ টায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়য়। কিন্তু এই ছট ঘটনার ভেতর লুকিয়েছিল এক হৃদয় বিদারক ঘটনা।

জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় কয়েকজন ছাত্র ক্যাম্পাসের গাছ থেকে কিছু আম পাড়লে সহকারী প্রক্টর এসে বাধা দেন। এসময় সবাই চলে গেলেও আনোয়ারুল ইসলাম নামের এক ছাত্র থেকে যান। তিনি জানতে চান ‘আমার ক্যাম্পাসের আম, আমি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে খাওয়ার অধিকার রাখি না?’ শিক্ষার্থী বচসায় জড়িয়ে পড়লে তাঁর আইডি কার্ড নিয়ে নেওয়া হয়। পরে প্রোভিসি এসে তাঁকে পুলিশ ডেকে গাড়িতে তুলে দেয়। আনোয়ারুলকে আটকে রাখা হয় মতিহার থানায়।

খবর পেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মজিদ অন্তর নামের একজন সাংস্কৃতিক কর্মী কয়েকজনকে নিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করতে মতিহার থানায় যান। থানায় সাংস্কৃতিক কর্মীদের উপস্থিতিতে অফিসার ইনচার্জ আনোয়ারুলকে ডেকে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চান।

উপস্থিতিদের মতে থানায় এসময় এক হৃদয় বিদারক কাহিনির অবতারণা হয়। আনোয়ারুল জানান, অল্প বয়সে তাঁর বাবা মার মধ্যে পারিবারিক কলহের কারণে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। আনোয়ারুলকে তার এক আত্নীয় অভাবের সংসারে কোনও রকম লালন পালন করে স্কুল পাশ করান।

এরপর আনোয়ারুল প্রাইভেট টিউশনি যোগাড় করে নিজের চেষ্টাতেই ইন্টার পাশ করেন। ফল ভালো হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পপুলেশন সায়েন্সে ভর্তি হন। এরমধ্যে পরিবারের সাথে তাঁর যোগাযোগ যতটুকু ছিল ততটুকুও ছিন্ন হয়ে যায়।

জানা গেছে, রমজান শুরুর কয়েক মাস আগে থেকে তার হাতে কোনো টিউশনি নেই। ক্যাম্পাস ও এর আশেপাশের বিভিন্ন দোকান থেকে বাকিতে খেয়ে দিন পার করছিলেন।

আনোয়ারুল জানান, বুধবার সন্ধ্যাতেও সে কোনও খাবার না পেয়ে ক্যাম্পাসের গাছ থেকে বেশ কিছু আম পাড়েন এই উদ্দেশ্যে যে, এগুলো রুমে রেখে দিলে পেকে যাওয়ার পর খেতে পাবে। ক্ষুধার্ত থাকায় সে মানুষের সাথে স্বাভাবিক আচরণ করতে পারছে না, অল্পতেই সে রেগে যায়। আনোয়ারুলের কথা সকলের চোখেই পানি জমে যায়।

রাজশাহীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেণ, গত রাতে এমন ঘটনা ঘটেছে। ছেলেটির নাম আনোয়ারুল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে পুলিশের হাতে দিয়েছিল। কিন্তু তাঁর ঘটনাটি মর্মান্তিক। আমরা তাঁকে রাতেই ছেড়ে দিয়েছি।

 

কিউএনবি/ অদ্রি/ ৩১.০৫.১৮/ রাত ১০.১৫