১১ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:০১

পারিবারিক ব্যবসা ইয়াবা, সব ভাইয়েরা কোটিপতি

 

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন,কক্সবাজার প্রতিনিধি : পুরো পরিবারের সদস্যরা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। এ যেন পারিবারিক ব্যবসা। মো. আলম বাবুল শুধু একা ইয়াবা ব্যবসা করেন না। তাঁর সঙ্গে আছেন তাঁর জাফর আলম জানু, হাফেজ জাহাংগীর ও বদিউল আলম সিকদার।

তাঁরা সবাই ইয়াবা ব্যবসায়ি। সবার নামে আলাদা ব্যাংক হিসাব থাকলেও সেই সব হিসাবে কত টাকা লেনদেন হয় কেউ জানেন না। তাদের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পূর্বসাত ঘরিয়াপাড়ায়। এদের মতো আরো অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরের বাইরে রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানাযায়, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াবাজার গ্রাম।টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াবাজার পূর্বসাতঘরিয়াপাড়ার বাসিন্দা মো. আলম বাবুল ও দেড় বছর আগেও চাষাবাদ করতো।একটি রিকশা কেনার সামর্থ্য ছিল না বাবুলের, বসতবাড়ি বলতে ছিল মাটির গুদামে একটি ঘর।

সেই বাবুল এখন নয়াবাজার এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ির মালিক। এর বাইরে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় তাঁর ফ্ল্যাট আছে। জমিজমাও কিনেছেন অনেক। নয়াবাজার পূর্ব সাতঘরিয়াপাড়া পূর্বপাড়ার মুখে লবণের গুদাম ও মার্কেট রয়েছে তার। মাকেটে দোকান রয়েছে ১০টি।

এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাবুলের দৃশ্যত কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নেই। কিন্তু বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। মাত্র দেড় বছর এই অবৈধ ব্যবসা করে তারা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে।তারা ইয়াবা ব্যবসা করেন।

এদের সম্পদ আছে অগনিয়ত। এই সম্পদ অর্জনের উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন। এই অভিযানেও তাদের ইয়াবা ব্যবসা থেমে নেই।টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াবাজার পশ্চিম সাতঘরিয়াপাড়ার মোহাম্মদ আলম বাবুল হোয়াইক্যং নয়াবাজার স্টেশন রড সিমেন্টের দোকান দিয়েছে। সেই দোকানে আছে ২০ লাখ টাকার মালামাল। গ্রীলের দোকান সহ ৪টি দোকানের মুল্য ৫০ লাখ টাকা।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, পূর্ব সাতঘরিয়াপাড়া পূর্বপাড়ার মুখে লবণের গুদাম ও মার্কেট রয়েছে তার। মাকেটে দোকান রয়েছে ১০টি।এই দোকানগুলোর দাম ৫০ লাখ টাকা। নামে বেনামে জমি ক্রয় করেছে প্রায় ৩ একর।

পূর্ব ও পশ্চিম সাতঘরিয়াপাড়ায় হচ্ছে জমিগুলোর অবস্থান। সব মিলিয়ে যার আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকার মালিক এই ইয়াবা গডফাদার।এ ছাড়া ইয়াবা বহনের জন্য রয়েছে কয়েকটি গাড়িও।

কীভাবে তারা ইয়াবা ব্যবসায় নেমেছে, কোথা থেকে ইয়াবা আসে, কোথায় কাদের কাছে বিক্রি করে সেসব বিষয়ে তারা অবগত। ইয়াবা ব্যবসা করেই এদের সম্পদ অর্জন, এই সম্পদ অর্জনের উৎস নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানান প্রশ্ন।

গত দেড় বছর আগেও যার পেশা ছিলো চাষাবাদ। গত দেড় বছরের ব্যবধানে মো. আলম বাবুল হয়ে গেলেন কয়েক কোটি টাকার মালিক। আলাদিনের চেরাগ পাওয়া মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তার সাথে মাছ ব্যবসায়ি আবদুল মজিদও এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক। তাদের অস্বাভাবিক সম্পদ দেখে স্থানীয় মানুষও হতবাক।

নগদ টাকা আছে অন্তত কোটি টাকার মালিক সুচতুর এই মো. আলম বাবুল। এই বাবুলের ইয়াবা আটক করতে গিয়ে ২০১৫ সালের ১৫ জুন পুলিশের হাতে অবৈধ অস্ত্র সহ ধরা পড়েছিল তার বড় ভাই জাফর আলম প্রকাশ জানু। এঘটনায় থানায় মামলাও হয়।তার অপর ভাই বদিউল আলম সিকদার এখন অবস্থান করে ঢাকায়।কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান মুলত যেতো বদিউল আলম সিকদারের কাছে।অপর ভাই জাহাঙ্গীর আলম বিভিন্ন স্থানে পৌছে দিতেন।

বাবুল ভাই বদিউল আলম সিকদার কক্সবাজার জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালিন ২০১৫ সালের ৪ মার্চ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সহ আটক করা হয়। এসময় তার সহযোগী রামু গর্জনিয়ার জাহাজপাড়া এলাকার মৃত বশর করিমের ছেলে আবদুল হাকিমকে আটক করে। মো, আলম বাবুলের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় রয়েছে একাধিক মামলা।

এই ইয়াবা গডফাদার বাবুল সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য আবদুল মজিদ। পেশায় ছিলো মাছ ব্যবসায়ি।মাছ ব্যবসার আড়ালে দেদারছে চালিয়ে আসছিল ইয়াবা ব্যবসা।ইয়াবা ব্যবসার টাকায় আবদুল মজিদ পূর্বসাতঘরিয়াপাড়ার মুখে (২০১৬ সালে) অন্তত ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করে বিলাস বহুল বাড়ি নির্মাণ করেছে।

এছাড়াও পূর্ব সাতঘরিয়াপাড়ায় নামে বেনামে ৬০/৭০ লাখ টাকার জমি ক্রয় করেন। তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। গত তিন বছর আগের মাছ ব্যবসায়ী প্রায় ৫০ একর লবণের মাঠ অগ্রীম টাকায় বর্গা নেন। এই বর্গা জমিগুলো পুনরায় তৃতীয় পক্ষকে বর্গা দিয়ে মধ্যস্বত্তভুগির ভুমিকায়ও রয়েছে।

জানাগেছে, বিভিন্ন সময় তাদের লোকজন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ধরা পড়ে। তবে, তাদেও ইয়াবা বহনকারী ধরা পড়লেই তাদের প্রতিপক্ষ লোকনের নাম স্বীকার করে বেকায়দায় ফেলে দেন। এলাকায় এধরনের নজির অহরহ রয়েছে।

এই মো. আলম ও আবদুল মজিদেও জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদ গত কয়েক বছরে অর্জন করেছে। এরা যতো সম্পদ অর্জন করেছেন তা তাদের আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব নেওয়া প্রয়োজন।

দেড় বছরে ‘অস্বাভাবিক’ সম্পদ অর্জন করেছেন এই ইয়াবা ব্যবসায়ি বাবুল ও আবদুল মজিদ। এসব সম্পদকে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত মনে করছে সচেতন মহল।মৌলানা আয়ুব আলীদের মতো আরো অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরের বাইরে রয়েছে।

এব্যপারে টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, ইয়াবা ব্যবসায়িদের কিছুতেই ছাঁড় দেয়া হবে না।

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/২৯শে মে, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৬:২৫