২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:৪৮

চৌগাছায় ইরি বেগুনের ব্যাপক চাষ দাম পেয়ে খুশি কৃষক

 

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোরে) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছায় চলতি মৌসুমে ইরি বেগুনের ব্যাপক চাষ হয়েছে। ভাল দাম পাওয়ায় প্রতি বছর উপজেলায় বেড়েই চলেছে ইরি বেগুনের আবাদ। ইরি বেগুন গ্রীষ্মকালিন সবজি হিসেবে ইতোমধ্যে স্থানীয় চাষিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ব্যাপক পরিশ্রম খরচও অনেক বেশি তারপরও অসময়ে ভাল দাম পেয়ে কৃষকরা এই বেগুন চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। এ বেগুনের চারা রোপণের পর মাত্র ২৫ দিনেই ছোট ছোট গাছে ফুল-ফলে ভরে যায় তাই চাষিরা একে ইরি বেগুন বলে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ২শ হেক্টর বেশি জমিতে ইরি বেগুনের আবাদ হয়েছে। এ বছর উপজেলায় ভারতীয় জাতের বিএনবি-৪২২, ৪৭৮, ৪২১ ও চায়না-৩ এবং দেশীয় জাত ভাঙ্গার ও লাফা জাতের ইরি বেগুনের আবাদ হয়েছে প্রায় ৬ শ ২৫ হেক্টর জমিতে।

জানাযায়, চৌগাছা উপজেলার ইছাপুর, সৈয়দপুর ও পাতিবিলা এলাকা সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। এছাড়াও হাজরাখানা, পেটভরা, টেঙ্গুরপুর, বাঘারদাড়ীসহ উপজেলার প্রতিটি গ্রামের মাঠের পর মাঠ বছরের ১২ মাসই কোন না সবজি চাষ হয়। একসময় উপজেলার মাঠে মাঠে শুধুমাত্র শীতমৌসুমে সবজির চাষ হলেও বর্তমানে কৃষকরা তা গ্রীষ্মকালেও ব্যাপক হারে চাষ করছেন।

সম্প্রতি কয়েক বছরে উপজেলার অধিকাংশ কৃষক গ্রীষ্মকালীন সবজি ইরি-বেগুন, টমেটা, পেঁপে ও করলা চাষে বেশ মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। গরমের সবজি চাষে পরিশ্রম বেশি খরচও তুলনামুলক বেশি, তারপরও বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় বর্তমানে চাষিরা গ্রীষ্মের সবজির দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।

গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে অন্যতম একটি সবজি হচ্ছে ইরি বেগুন। স্থানীয় অনেকে এই বেগুনকে ছুটনা বেগুন বলে থাকেন। উপজেলার সবজি চাষিরা গত ক মৌসুমে ইরি বেগুনের চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। তাই প্রতি বছরই এ বেগুন চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ইছাপুর গ্রামের বেগুন চাষি আমিনুর রহমান জানান ইরি বেগুন কম সময়ে ফলন ভাল দেয় দামও ভাল। তিনি বলেন পরিশ্রম বা খরচ যদিও বেশি তারপরও বাজারে চাহিদা ভাল দামও ভাল, তাই চাষিরা পরিশ্রমকে পিছনে ফেলে বেগুন চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। গত মৌসুমে তিনি ১ বিঘা ইরি বেগুন চাষ করে সব খরচ খরচা বাদ দিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ পেয়ে ছিলেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল হোসেন বলেন, অগ্রহায়ণের শেষ ও পৌষ মাসের প্রথম দিকে জমি তৈরির কাজ শেষ করে ৩৬ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি দূরত্ব করে বেড তৈরি করে চারা রোপণ করতে হয়।

১ বিঘা জমিতে ৪শ চারা রোপণ করা যায়।১ বিঘা জমিতে সার, সেচ, কীটনাশকসহ প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না দেখা দেয় তাহলে এ আবাদ থেকে ৫০/৫৫ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন জানান, চৌগাছায় গ্রীষ্ম কালিন সবজি ইরি বেগুন চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আমাদের পক্ষ থেকে চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

কিউএনবি/রেশমা/২৮শে মে, ২০১৮ ইং/সকাল ১১:৩২