২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:২৮

যশোরের মনিরামপুরে পুত্রবধুকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

 

এস.এম.মজনুর রহমান,মনিরামপুর(যশোর): সৎ শাশুড়ি ও তার ভাই মিলে পুত্রবধু রিংকু রায়(২০)কে শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও অভিযোগ রয়েছে পুত্রবধুকে হত্যার পর নিজেদেরকে রক্ষা করতে লাশের গলায় দড়ি দিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে এলাকায় প্রচার করে সে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে।

আর এ ঘটনা ঘটেছে শনিবার রাত আটটার দিকে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামে। নিহত রিংকু রায় মদনপুর গ্রামের উজ্জ্বল রায়ের স্ত্রী। রোববার বিকেলে পুলিশ নিহত গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করে।


জানাযায়, সৎ মা ও তার ভাইয়ের অপছন্দে প্রায় এক বছর আগে রিংকু রায়কে বিয়ে করেন উপজেলার মদনপুর গামের মৃত রনজিৎ রায়ের ছেলে উজ্জ্বল রায়। রিংকু রায় সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা থানার মির্জাপুর গ্রামের তুলশি ধরের মেয়ে। উজ্জ্বল রায় পেশায় একজন স্বর্নকার(শ্রমিক)। তিনি পার্শ্ববর্তি ঝিকরগাছা উপজেলার বাকড়া বাজারের একটি জুয়েলারীতে কাজ করেন। নিজের পছন্দে বিয়ে করায় উজ্জ্বলের সৎ মা প্রতিমা রায় রিংকুকে পুত্রবধু হিসেবে মেনে নিতে পারেনি। ফলে উজ্জ্বলের অনুপস্থিতিতে স্ত্রী রিংকুর উপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। অভিযোগ রয়েছে সংসারে খুটিনাটি বিষয়াদি নিয়ে উজ্জ্বলের সৎ মা তার স্ত্রীকে প্রায় বকাঝকাসহ মারপিট করত। কিন্তু সংসারের সুখের আশায় মুখবুজে মেনে নেয় রিংকু। তার উপর নির্যাতনে উজ্জ্বলের সৎ মায়ের সাথে যোগ দেয় তার ভাই(উজ্জ্বলের সৎ মামা) বিনয় রায়। ভাই-বোন মিলে ষড়যন্ত্র করে উজ্জ্বলের জিবন থেকে রিংকুকে সরিয়ে দিতে। কারন রিংকুকে সরিয়ে দিতে পারলে উজ্জ্বলকে সহজেই আয়ত্ব করে তার সম্পত্তি লুটেপুটে খেতে পারবে সৎ মামা বিনয় রায়। এমনটাই জানিয়েছেন মদনপুর গ্রামের অনেকেই।


রিংকুর কাকাতো ভাই জয় ধর জানান, উজ্জ্বলের সৎ মা এবং মামা রিংকুর ওপর নির্যাতন করতে থাকে। শনিবার বেলা ১২টার দিকে উজ্জ্বলদের বাড়িতে ষষ্ঠির দাওয়াত দিতে আসে রিংকুর বাবা তুলশী ধর। অবশ্য এ সময় উজ্জ্বল বাড়িতে ছিলেননা। ওই সময় তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে উজ্জ্বলের মায়ের সাথে তুলশি ধরের ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে রিংকুর বাবা সেখান থেকে বাড়িতে চলে আসেন। রোববার সন্ধ্যার পর তারা খবর পান রিংকু গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রিংকুর কাকাতো ভাই জয়ধর দাবি করেন, রিংকু আত্মহত্যা করেনি। তাকে পরিকল্পীতভাবে উজ্জ্বলের মা এবং তার ভাই শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে ওই রাতে রিংকুর অভিভাবকরা উজ্জ্বলদের বাড়িতে গেলে তার সৎ মা এবং সৎ মামা তাদের উপর চড়াও হয়ে মারপিটে উদ্যত হয়। উজ্জ্বলের সৎ মা এবং মামার দাবি রিংকুকে তারা হত্যা করেনি, সে অভিমানে আত্মহত্যা করেছে।

খবর পেয়ে রোববার বিকেলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রিংকুর মরদেহ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেন। ওসি মোকাররম হোসেন জানান, আপাতত অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বিপুল/২৮.০৫.২০১৮ ইং/রাত ২:৫১