২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:২০

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে নির্মান শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

 

 

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের ডামুড্যায় শর্ত অনুযায়ী কাজ না করায় মোস্তফা গান্ধা (৪০) নামের এক নির্মান শ্রমিককে (রাজমিস্ত্রী) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের নেতৃত্ব মোস্তফা গান্ধাকে প্রথমে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে মোস্তফার মৃত্যু হয়। একই উপজেলার দারুল আমান ইউনিয়নের রামরায় কান্দি গ্রামের মৃত জয়নাল গান্ধার ছেলে মোস্তাফা। এ ঘটনায় ডামুড্যা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।


ডামুড্যা থানা ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানাগেছে, ডামুড্যা উপজেলার দারুল আমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই সুজন খান নির্মান শ্রমিক মোস্তাকে তার বাড়ীর নির্মাণ কাজ করে দেয়ার কথা বলেন। বৃষ্টির পনিতে মোস্তফার ক্ষেতের বোরোধান তলিয়ে যাওয়ায় সুজন খানের বাড়ীর কাজ করতে পারেনি মাস্তফা।

গত সোমবার সন্ধ্যা সারে ৭টার দিকে ডামুড্যা বাজারের নদীর উত্তর পাশে আওরঙ্গের মোর নামক স্থানে একটি চায়ের দোকানে মোস্তফা চা খাচ্ছিল। এ সময় সুজন খান গিয়ে কেন কাজ করে দেয়নি জানতে চায়। এক পর্যায়ে সুজনের সাথে মোস্তফার কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় দারুল আমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন খানের ছেলে ডামুড্যা উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তম্ময় এর নেতৃত্বে সুজন ও তার সহযোগী শাহারুখ ও জীবন মিলে মোস্তফাকে বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে মোস্তফা অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা মোস্তফাকে উদ্ধার করে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। তার অবস্থার অবনতি হলে পরদিন মঙ্গলবার উন্নত চিকিৎসার জন্য মোস্তফাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার রাতে মোস্তফা গান্ধা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতর ভাই হানিফ ও ডামুড্যা থানা পুলিশ। মোস্তফাকে মারধরের পরদিন মঙ্গলবার তার শশুর আলী হোসেন বাদি হয়ে চেয়ারম্যানের ছেলে তম্ময় সহ ৪ জনকে আসামী করে ডামুড্যা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত মোস্তফার মরদেহ তার গ্রামের বাড়ী পৌছেনি।


নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক চা দোকানদার জানান, মোস্তফা দোকানে বসে চা খাচ্ছিলো। এমন সময় সুজন খান মোস্তফা কে কাজ কেন করে দিল না তা জিজ্ঞেসা করেন। পরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। কিছুক্ষণ পর তন্ময় মটরসাইকেল নিয়ে এসে মোস্তফার হাত ধরে রাখে এবং সূজন, শাহারুখ ও জীবন বেদম মারপিট করে। এতে মোস্তফা অজ্ঞান হয়ে পরে।
নিহতের ভাই হানিফ গান্ধা বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে আমাদের বোরোধান তলিয়ে যাওয়ায় সুজনের কাজ করে দিতে পারেনি। এ কারনে আমার ভাইকে মারপিট করা হয়। মামলা হলে জানতে পারবেন কারা আমার ভাইকে মারধর করেছে। এ মুহুর্তে আমি এর বেশি কিছু বলতে চাই না।


দারুল আমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ছাত্রলীগ নেতা তন্ময়ের বাবা মোক্তার হোসেন খান বলেন, কেন কাজ করে দেয়নি এ নিয়ে মোস্তফার সঙ্গে সুজনের কথা কাটাকাটির এক পর্যায় উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় সুজনের কয়েকজন সমর্থক ও সুজন মিলে মোস্তফাকে মারধর করেছে বলে আমি শুনেছি। ঘটনার সংবাদ শুনে আমার ছেলে তম্ময় ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়কে মানিয়ে দেয়। মামারির ঘটনায় আমার ছেলে জড়িত না। আমার সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য আমার ছেলেকে মামামারি ঘটনায় জড়িত করার চেষ্টা করছে।


ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার মোস্তফার শশুর আলী হোসেন বাদি হয়ে চেয়ারম্যানের ছেলেসহ ৪ জনের বিরুেেদ্ধ মামলা দায়ের করেছে। আসামীদের গ্রেফতারে জোর চেস্টা অব্যাহত রেখেছি।

বিপুল/২৮.০৫.২০১৮ ইং/রাত ২:৪৩