ব্রেকিং নিউজ
২৬শে জুন, ২০১৯ ইং | ১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ২:০৬

ভাণ্ডারিয়ায় ৭ মাসধরে বেতন পাচ্ছেননা চতুর্থশ্রেনির কর্মচারী

 

পিরোজপুর প্রতিনিধি:  পিরোজপুরের ভা-ারিয়া উপজেলার হেতালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়েরে চতুর্থশ্রেনির কর্মচারী (পিয়ন) মো. আনছার ফরাজী গত সাত মাস ধরে কোন বেতন তুলতে পারছেনা। ফলে তিনি চরম অর্থকষ্টে ৫ সদস্যের পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।


ভূক্তভোগি কর্মচারী আনছার ফরাজি এর প্রতিকার চেয়ে পিরোজপুর জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই কর্মচারীর অভিযোগ, টানা ২১ বছর চাকুরির পর বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যায়ভাবে চাকুরীচ্যুত করলে ৭ মাস ধরে সে কর্মহীন হয়ে বেতন ভাতা হতে বঞ্চিত হন।

ফলে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অভিযোগে জানাগেছে, ভান্ডারিয়া উপজেলার হেতালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকারি বিধি মোতাবেক চতুর্থ শ্রেনির কর্মচারী পদে গত ১৯৯৫ সালে বিদ্যালয়ে স্মারক ৩২/৯৫ সালে ১৬ এপ্রিল বিদ্যালয় চতুথর্ শ্রেনির কর্মচারী (পিয়ন) পদে আনছার ফরাজীকে যোগদান করে সেই থেকে উক্ত কর্মচারী ২১ বছর ধরে চাকুরী করে আসছেন। তার ইনডেক্স নম্বর বি- ৭৬২৪০৩। কিন্ত বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি খাম খেয়ালী ভাবে আনছার ফরাজীকে কোন প্রকার নোটিশ বা কারন ছাড়াই চাকুরি হতে জোড়পূর্বক অব্যহতি দেন ।

পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ২০১৮ সালে ২০ জানুয়ারী প্রধান শিক্ষকের স্মারক নম্বর ১/১৮ এক পত্রের মাধ্যমে মহামান্য হাইর্কোটের নিদের্শ ও ম্যানেজিং কমিটিরি সিদ্ধান্তে ১২/১৭ স্মারকে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর চাকুরী থেকে ওই কর্মচারীকে চুড়ান্ত ভাবে চাকুরীচ্যুত করা হয়।এলাকাবাসী জানায়, রেজোয়ান করিম বিদ্যালয় চাকুরী করার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার্থীদের শ্লিতাহানী অভিযোগসহ বিভিন্ন কারণে তিনি চাকুরী হারায় এবং দীর্ঘদিন আইনি লড়াইয়ে রেজোয়ান হেরে গেলে উচ্চ আদালতে আপিল করে। ওই মামলায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাওছারুল আলমের সাথে রেজোয়ান গোপন চুক্তির মাধ্যমে উচ্চ আদালতের মামলা তুলে নিয়ে পুনরায় বহল করতে চেষ্টা করছে। ভূক্তভোগি কর্মচারী আনছার ফরাজীর দাবি ২১ বছর বিদ্যালয়ে কর্মকালীন অবস্থায় অজ্ঞাত কারনে ম্যানেজিং কমিটি তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে সিদ্ধান্ত ন্যায় এবং তার ইনডেক্স কেটে সাবেক কর্মচারী রেজোয়ান করিমের নামে নতুন ভাবে ইনডেক্স করে টাকা তুলতে কমিটি এখন মরিয়া। এতে সে তার পরিবার নিয়ে গত সাত মাস ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক, মো. আব্দুস সামাদ বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত উপর আমি নোটিশ প্রদান করেছি। আইন কানুনের বিষয় আমি কিছু বলতে পারব না। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সহ সভাপতি আফজাল হোসেন বলেন ওই পদে রেজোয়ান করিম নামে একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। তাকে নানা অভিযোগে ম্যানেজিং কমিটি চাকুরীচ্যূত করে। পরে ওই পদে বর্তমান কর্মচারী মো. আনছার ফরাজিকে নিয়োগ দেয় তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি। আনছার ফরাজি ২১ বছর কর্মস্থলে চাকুরিও করেন। কিন্তু এর আগে চাকুরিচ্যুত কর্মচারী রেজোয়ান করিম আদালতে মামলা দায়ের করলে হাইকোর্ট তার পক্ষে রায় দেয়। হাইকোর্টেও নির্দেশ মানতে গিয়ে আইনগত কারনে বর্তমান কর্মরত আনছার ফরাজিকে চাকরিচ্যূত করা হয়েছে।

Please follow and like us:
0
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial