১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:১৮

ভুল সিদ্ধান্ত যেন না নেয় সে

 

সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ১১ জন পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এ ছাড়া প্রায় ১০০ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। আবার গত কয়েক মাসে প্রায় ৬ জন মেডিকেল শিক্ষার্থীও আত্মহত্যা করেছে! কোনো কোনো সময় ব্যক্তিগত সমস্যা, সম্পর্কের জটিলতা,পারিবারিক কলহ ইত্যাদি কারণেও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে থাকে, কিন্তু পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার পর এবং মেডিকেলের পরীক্ষাকে কেন্দ্র করেই আত্মহত্যার ঘটনাগুলো বেশি ঘটে। এটি কেবল এই বছরের ঘটনা তা নয়, প্রায় প্রতিবছরই এমন ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।

প্রত্যাশার সঙ্গে যখন প্রাপ্তি মেলে না, যখন একজন কিশোর-তরুণ মনে করে তার এই ব্যর্থতা পরিবারকে লজ্জিত করবে, বিব্রত করবে,তখন সে এই ভুল কাজটি করে থাকে। পরীক্ষা-পূর্ববর্তী সময়ে এবং ফল প্রকাশের পর পরিবারের সদস্যদের আচরণ কখনো কখনো তাদের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে। একজন শিক্ষার্থীর ব্যর্থতায় তার পরিবার আর বন্ধু-স্বজনদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হবে তা বহুলাংশে সেই শিক্ষার্থীর আচরণের জন্য দায়ী।

যেমন ভারতের মধ্যপ্রদেশে আশু নামের এক ছেলে মাধ্যমিকে চার বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে বাড়ি ফিরলে তার বাবা সুরেন্দ্র ব্যাস তাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘মন ভাঙবে না, ভবিষ্যতে তুমি ভালো ফল করবে।’ এরপর বাড়িতে বন্ধু-স্বজনদের ডেকে তিনি ছেলেকে উত্সাহ দিতে এক ঘরোয়া উত্সবেরও আয়োজন করেন। বাবার এই আচরণ নিঃসন্দেহে আশুকে প্রেরণা জুগিয়েছে, যেকোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রেখেছে। একজন উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণী যখন কোনো কাজে ব্যর্থ হন,

তখন নিজে তিনি যতটা দুঃখবোধে আক্রান্ত হন, তার চেয়ে সে বেশি আলোড়িত হন এই ভেবে যে তাঁর পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে মা-বাবারা বিব্রত হবেন। কারণ পরীক্ষার আগে থেকেই কিছু কথা ও আচরণ তাঁকে এমনটা ভাবতে প্রভাবিত করে। কোনো কোনো মা-বাবা সরাসরি সন্তানের ওপর লক্ষ্য চাপিয়েই দেন, ‘তোমাকে জিপিএ-৫ পেতেই হবে।’ আবার কেউ সরাসরি বলেন না কিন্তু হয়তো বলেন, ‘তোমার চাচাতো ভাই এত ভালো রেজাল্ট করেছে, তুমি যদি ওর চেয়ে খারাপ করো, তবে আমরা মুখ দেখাব কী করে?’

এই ধরনের আলাপন কিশোর সন্তানটির মনোজগতে ঝড় তোলে, সে তখন নিজের জন্য নয়, মা-বাবার জন্য ভালো ফল করতে চায়। আর কোনো কারণে প্রত্যাশিত ফল না হলে বা ফল বিপর্যয় হলে সে আত্মহত্যার মতো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। মনে রাখতে হবে যে ব্যর্থতাই জীবনের শেষ কথা নয়, ব্যর্থতাকে আঁকড়ে ধরে থাকলে সফলতা প্রবেশ করতে পারবে না। বিষয়টি কিন্তু মা-বাবা আর অভিভাবকদের বেশি করে মনে রাখতে হবে। কেবল সাফল্য নয়, মাঝেমধ্যে ব্যর্থতাকেও উদ্‌যাপন করার প্রয়োজন হতে পারে।

ফল খারাপ হলে কী করবে
ফল যেকোনো কারণে খারাপ হতেই পারে। এ জন্য নিজেকে তো নয়ই, কাউকে দায়ী করা যাবে না। মনে রাখতে হবে যে একটি খারাপ ফল অর্থ হচ্ছে জীবনের অভিজ্ঞতা। হয়তো খারাপ ফলের জন্য সাময়িক কষ্ট অনুভব করবে কিন্তু মনে রাখতে হবে যে একটি ফলই জীবনের শেষ ফল নয়। সামনে আরও পরীক্ষা আছে, হতাশ না হয়ে সামনের পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রয়োজনে মা-বাবা, শিক্ষকদের সঙ্গে মনের অবস্থাটি খুলে বলতে হবে। মনে যদি কোনো নেতিবাচক চিন্তা আসে, তবে তা অন্যের কাছে খুলে বলার সঙ্গে সঙ্গেই নেতিবাচক চিন্তার তাড়না অনেকখানি কমে যাবে।যারা খারাপ ফল করেছে, তারা একসঙ্গে না থেকে সব বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। তাদের সাফল্যকে অভিনন্দিত করতে হবে, এটাই স্মার্টনেস। মনে রাখতে হবে যে ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়াটা একটি বিশেষ সামাজিক দক্ষতা। এই বিশেষ সামাজিক দক্ষতা হয়তো অনেক ভালো ফল করা ছাত্রের নেই। তাই ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়ার অভ্যাস করতে থাকলে সামাজিকভাবে দক্ষ হতে পারবে।

পৃথিবীতে বহু সফল মানুষের উদাহরণ রয়েছে, যাঁরা সাময়িক ব্যর্থতাকে জয় করে বিশেষ যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতাগুলো মনে রাখতে হবে।

 

কিউএনবি/ অদ্রি/ ২৩.০৫.১৮/ দুপুর ১২.৩৮