২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:৪৩

রমজানে মাদারীপুরে চিনির দাম যেন আকাশ ছোঁয়া

 

আব্দুল্লাহ আল মামুন,মাদারীপুর : মাদারীপুরের বাজারগুলোতে গত সপ্তাহের তুলনায় কাচা বাজারে দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে । বাজারে দেখা যায় রীতিমতো ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি হতো। শুধু চিনি এই নয়, প্রতিটি দ্রব্য মূল্যোর দাম অন্যান্য দিনের তুলনায় বর্তমান বাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রমজান মাসে দাম বাড়বে এটাই যেন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে মনে হয় । সাধারন ক্রেতাদের যেন নাভিশ্বাস,কি আর করার আছে,তবুও খেতে হবেই।

শনিবার ১৯ মে পুরান বাজার কাঁচা বাজারের শেষে ক্রেতা গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার বলেন, রমজানে সবকিছুর মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বল্প আয়ে কোন রকম জিবন যাপন করছি । কিন্তু রমজানের প্রথম দিনেই যে হারে দাম বেড়েছে, তাতে বাজার করা আমার জন্য কঠিন হওয়ার উপায় হয়ে দাড়িয়েছে। রোজার প্রথম দিনে কাঁচা বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে চিনি, বেগুন, পেঁয়াজ,আলু, শসা,পটল,ঢেড়স, করল্লাসহ প্রতিটি দ্রব্যে মুল্যের দাম বেড়েছে। গত ৪-৫ দিন আগেও চিনির দাম ৪৮ থেকে ৫০ টাকা থাকলেও রমজানের শুরু থেকে প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রয় করা হলেও শনিবার তৃত্বীয় রমজান থেকে প্রতি কেজি খুচড়া বিক্রিকরা হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে। ইফতারি উপকরণ হিসেবে চিনির চাহিদার কারণে দাম বাড়াচ্ছেন বলে মনে করেন।

বাজার করতে আসা ক্রেতা মোঃ শহিদুল ইসলাম বাবুল হাওলাদার বলেন,মাননীয় বানিয্যমন্ত্রী রমজান উপলক্ষে পর্যাপ্ত পরিমান দ্রব্য মোযুত আছে বিধায় দ্রব্যমূল্যর বিষয়ে বলেছিলেন রমজানে দ্রব্যমূল্যর দাম বাড়বে না, নিয়ন্ত্রনে থাকবে বলে জনগন কে আশ্বাস দিলেও ঘোসনার ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে চিনির দান ১০ টাকা বেড়েছে কেজি প্রতি, পিয়াজের দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

এই সুযোগে কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা বস্তায় বস্তায় চিনি মোযুত করে রেখে দাম বাড়িয়ে বিক্রয় করে সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলেগেছে, যার কারনে সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে, তাই ক্রেতারা নিরুপায় হয়ে বেশী দামে বাধ্য হচ্ছে কিনতে। এর কারন আমি মনে করি বাজারে মনিটরিংএর কোন ব্যাবস্তানেই,আমি নিয়মিত বাজারে আসি মাছের বাজার ,মাংসের বাজার,মুরগীর বাজার, তরকারীর বাজার,সরকারী অথবা পৌর কতৃপক্ষের কোন মনিটরিং আমার চেখে পরেনি। সরকারী মনিটরিং এর ব্যাবস্থা করলে হয়তো আমদের সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

সরেজমিনে দেখা যায়,রমজান মাসে মধ্যেবিত্ব পরিবারদের চিনির শরবত ছাড়া যেন ইফতারই হয় না। তাই তুলনা মূলক হিসেবে রমজান মাসে চিনিরি চাহিদা বেড়েই যায়,গত সপ্তাহে চিনির কেজি ৫৫ টাকা বিক্রি হলেও তৃত্বীয় রমজান থেকে বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৫ টাকা করে। একইভাবে বেগুন গত সপ্তাহে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হলে বর্তমাতে ৬০ খেকে ৬৫ টা করে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা করে। ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ গত সপ্তাহে৩০ টাকা করে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া আলু প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বেশী দরে বিক্রি হচ্ছে,খেসারীর ড়াল গত সপ্তাহে ৩৮ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ,কাকরোল গত সপ্তাহে ৬৫ বর্তমানে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, পটল গত সপ্তাহে ৪০ টাকা বর্তমানে ৫০টাকা, বড়বটি ৩৫টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা, করলা ৫০ টাকা থেকে ৬০-৬৫ টাকা, শসা ৪৫ টাকা থেকে ৬৫ টাকা, টমেটো ৭০ টাকা কেজি, পেঁপে ৪৫ টাকা কেজি,এদিকে গরুর মাংসের দাম গত সপ্তাহে ৪৫০ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে ৪৮০-৫০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া খাসির মাংস ৬৫০ থেকে বেড়েছে ৭৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১২০ টাকা থেকে বেড়েছে ১৬০ টাকা ও কক মুরগি ২৫০ খেকে রেড়েছে ২৭০ টাকা, দেশী মোড়ক প্রতি কেজী ৫০০ টাকা, দেশী মুরগী প্রতিকেজী ৪৫০ টাকা, সোনালী মুরগী ২৫০ থেকে ২৭০ টকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার ডিম প্রতি কুড়িতে বেড়েছে ১০ টাকা।

বেশী দাম রাখার বিষয়ে কাঁচামাল বিক্রেতা মোঃ করিম হাওলাদারের কাছে যানতে চাইলে তিনি বলেন, কাচা বাজারের দাম বাড়াতে আসলে আমাদের কিছুই করার নেই। আড়ৎ থেকে বেশী দামে আমাদের কিনতে হয়, যার কারনে আমাদের ও একটু বেশী বিক্রিয় করতে হয় তাই আমাদের কিছু করার থাকে না।

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৯শে মে, ২০১৮ ইং/বিকাল ৪:১০