২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:৩৭

কুড়িগ্রামে এক মণ ধানের অর্ধেক দিয়েও মিলছে না শ্রমিক

 

কুড়িগ্রাম থেকে, রাশিদুল ইসলাম : কুড়িগ্রামে এক মণ ধানের অর্ধেক দিয়েও মিলছে না ধান কাটা শ্রমিক। রাস্তায় দাঁড়িয়ে শ্রমিকের অপেক্ষা করে দুপুর গড়িয়ে পড়লেও দর কষাকষিতে দিন যাচ্ছে গৃহস্থের। এক মণ ধানের দাম ৬’শ টাকা দরে বাজারে বিক্রি হলেও একজন শ্রমিকের মজুরি ৪’শ টাকা। চাহিদামত মজুরি দিলেও একযোগে কাটামাড়াই শুরু হওয়ায় শ্রমিকদের এমন সঙ্কট দেখায় বিপাকে পড়েছে কৃষক।

সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেলো সর্বউত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে বেলগাছা, পাঁচগাছী, কাঁঠালবাড়ি, উলিপুর, মন্ডলেরহাট, রাজারহাট, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ও সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে।

কথা হয়, পাঁচগাছী ইউনিয়নের কৃষক আমির আলীর সঙ্গে। ৫৫ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন তিনি। যার সবটুকুই বর্তমানে জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ধান পেকে ঝড়ে পড়ার উপক্রম হলেও শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারছেন না। অনেক চেষ্টার পর প্রতিমণ ধানের অর্ধেক দেওয়ার শর্তে শ্রমিক পেয়েছেন। বাধ্য হয়ে তাদের শর্ত অনুযায়ী ধান কাটার চুক্তি দিয়েছেন তিনি।

রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়নের কৃষক আইয়ুব আলী জানান, হাঁটু পানির নিচে তার জমির ধান। বিঘা প্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা মজুরির চুক্তিতে ধান কাটাতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ির জোতগোবর্ধন এলাকার কৃষক মনোয়ার হোসেন লিটন বলেন, জমিতে পানি থাকায় বিঘা প্রতি ৫ হাজার টাকায় শ্রমিক নিয়ে ধানা কাটাতে শুরু করেছি।

ধানকাটা শ্রমিক মমিনুল, মশারত আলী, বেলাল হোসেন, সহিদুল ও মনছের আলী দাবি, অন্যান্য সময় কুড়িগ্রামে শ্রমিকদের মূল্য কম থাকে। ধান কাটার মৌসুম এলে কিছুটা বেশি মজুরি তারা পান। তবে প্রখর রোদ তাদের কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানান।

এদিকে, ধানের মূল্য কম হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বেশি হলেও প্রতিমণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায়।

কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা উৎপাদন খরচ ধরে তারা বোরো চাষ করেছেন। যার মধ্যে শ্রমিকের মজুরিও ধরা রয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের বাড়তি মজুরি ধরে উৎপাদন খরচে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার টাকায়। আর প্রতি বিঘা জমিতে ২৫ থেকে ৩০ মণ করে ধান উৎপাদন হচ্ছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১৭ থেকে ২০ হাজার টাকা। এতে খরচ চাষাবাদের খরচ উঠে আসাও দায় হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রশিদ জানান, ইতিমধ্যে কুড়িগ্রামেরন ৬০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও অনেক কৃষক সুষ্ঠুভাবে ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ধরা হয়েছে ১৮ টাকা। সে ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা মণ বিক্রি করলে প্রতি কেজির মূল্য দাঁড়ায় ১৫ টাকা। এতে কৃষকের কিছুটা লোকসান হচ্ছে। তবে কিছুদিনের মধ্যেই ধানের দাম বেড়ে যাবে। শুকিয়ে বিক্রি করলে কৃষকরা তাদের উৎপাদন খরচ তুলেও কিছুটা লাভ করতে পারবেন।

 

কিউএনবি/সাজু/১৭ই মে, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:০০