২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:০৫

চৌগাছায় মিষ্টি পানের ফলন ভাল দাম পেয়ে খুশি কৃষক

 

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছায় ১৮০ হেক্টর জমিতে এবার মিষ্টি পানের আবাদ হয়েছে। বিগত বছরের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি দাম পাওয়ায় পান চাষীরা দারুণ খুশি। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, উপজেলায় ১শ ৮০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি পানের বরজ রয়েছে।

যার মধ্যে উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়ানের রামভাদ্রপুর, কুষ্টিয়া, ধুলিয়ানী, আজমতপুর, ফতেপুর, কাবিলপুর, শাহাজাদপুর, উজিরপুর ও মুক্তারপুর ৭৫ হেক্টর। স্বরুপদহ ইউনিয়নের খড়িঞ্চা, দেবালয়, মাধবপুর, সাঞ্চাডাঙ্গা ও বহিলাপোতাতে ৫৫ হেক্টর, নারায়নপুর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া, বুন্দলীতলা, গুয়াতলী ও বাদেখানপুর এলাকায় ৪২ হেক্টর ও সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের বর্ণি, শাহপুর, সুখপুকুরিয়া ও রসুলপুর ৮ হেক্টর।

এই এলাকা পান চাষের জন্য সমৃদ্ধ হওয়ায় পান চাষে ঝুঁকছে পড়েছে কৃষকরা। অন্যান্য ফসলের চাষা বাদ দিয়ে অনেকেই পান চাষে এগিয়ে এসেছেন। ফলে প্রতিবছর অন্য আবাদের পরিমান কমছে ও পান চাষীর সংখ্যা বাড়ছে। পানের দাম এ বছর অতিতের যে কোন সময়ের চেয়ে রেকর্ড পরিমান বেড়েছে। ফলে অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর পান চাষীরা অধিক লাভের আশা করছেন।

নারায়নপুর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া গ্রামের পান চাষী মাও.সুলাইমান হুসাইন জানান, তিনি প্রায় ১০ বছর যাবৎ পান চাষ করছেন। বর্তমানে ১ বিঘা জমিতে পানের বরজ রয়েছে। পান চাষের মাধ্যমে সংসারের যাবতীয় খরচ সহ ছোট ভাইদের লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। এক ভাই অনার্স, ছোটভাই এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্র। আর দুই ভাই অতিসম্প্রতি লেখাপড়া শেষ করে চাকুরির সন্ধান করছে। এদের সকলের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ যোগান দিয়েও পান চাষ করে তিনি প্রতিবছর অনেক টাকা সঞ্চয় করেন।

এ কাজে পরিবারের সবাই তাকে সহযোগিতা করেন। বিগত বছর যে পানের পোন ৫০ টাকা বিক্রি হতো এ বছর তা ২শ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। উৎপাদিত এ মিষ্টি পান রাজধানী ঢাকা, খুলনা, যশোর, কালিগঞ্জ ও ঝিনাইদহে পাইকারী বিক্রি করি।

এ বছর দাম বেশি হওয়ায় বিঘা প্রতি লাভ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন। ধুলিয়ানী গ্রামের পানচাষী মনিরুল ইসলামের কলেজ পড়–য়া ছেলে আমিরুল আলম জানান, লেখাপড়ার পাশাপাশি আমরা বাবা-মায়ের সাথে পানের পরিচর্যা থেকে শুরু করে বাজারজাত প্রক্রীয়া পর্যন্ত সহযোগিতা করি।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার রইচ উদ্দীন জানায়, এখানকার পানের মান ভাল হওয়ায় এলাকার উৎপাদিত পান বেশিরভাগ রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করা হয়। চলতি মৌসুমে কাটাপ্রতি ১শ ৭৫ পোন পান উৎপাদন হবে যা প্রায় ১৯/২০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। অন্যান্য যে কোন বছরের চেয়ে এ বছর পানের পাইকারী দাম বেশি হওয়ায় চাষীরা অধিক লাভবান হবেন বলে আশা করছি।

কিউএনবি/রেশমা/১৭ই মে, ২০১৮ ইং/দুপুর ২:০৯