ব্রেকিং নিউজ
২৬শে জুন, ২০১৯ ইং | ১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ২:০৮

ট্রাম্পের আমেরিকায় ঈশ্বরে বিশ্বাসীর সংখ্যা বেড়েছে?

 

ডেস্ক নিউজ : যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে আমেরিকায় বিশ্বাসীদের সংখ্যা আবারো বাড়তে শুরু করেছে।

আমেরিকায় যদিও ধর্মবিশ্বাসের ব্যাপারটি কিছুদিন আগে থেকেই পরিবর্তিত হতে শুরু করেছে, কিন্তু পেন্স যেভাবে তা বর্ণনা করছেন, আসলেই ব্যাপারটা কি তাই?

মাইক পেন্স কি বলেছেন?

মিশিগানের ক্রিশ্চিয়ান কনজারভেটিভ ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় মাইক পেন্স বলেন, ‘আমেরিকায় ধর্ম বিশ্বাসীদের সংখ্যা আবারো বাড়তে শুরু করেছে। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আমাদের পুরো প্রশাসন সেসব নীতিতে কাজ করে, যা তোমরা এখানে শিখছ।’

পেন্স বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে যারা প্রার্থনা করে, গির্জায়  যায়, বাইবেল পড়ে এবং বিশ্বাস করে,- এরকম মানুষের হার কয়েক দশক ধরে একইরকম রয়েছে, যদিও আমেরিকায় জনসংখ্যা অনেক বেড়েছে।’

এই জাতির প্রতিষ্ঠার সময় যে সংখ্যক মানুষ গির্জায়  যেতো, এখন জনসংখ্যার অনুপাতে তার চারগুণ বেশি মানুষ ধর্মকর্ম করে বলে মন্তব্য করছেন তিনি।

এসব পরিসংখ্যান থেকে কি বোঝা যায়?

পিউ রিসার্চ সেন্টারের ধর্ম গবেষণা বিভাগের সহযোগী পরিচালক গ্রেগ স্মিথ বলেন, ‘পেন্সের বক্তব্য আসলে কোনো পরিসংখ্যান নির্ভর নয়। যেসব তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে, তাতে এমন কোনো  ইঙ্গিত পাওয়া যায় না যে, আমেরিকায় ধর্ম বিশ্বাসীদের সংখ্যা বাড়ছে।’

‘বেশিরভাগ আমেরিকান বলে যে, তারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, কিন্তু এই সংখ্যাও কমতির দিকে রয়েছে। বর্তমান সময়ে অনেক বেশি আমেরিকান প্রার্থনার জন্য গির্জায়  যাচ্ছেন। কিন্তু পরিসংখ্যান তার এই দাবিকে সমর্থন করে না বলে মন্তব্য করছেন স্মিথ।

তিনি বলেন, ‘সংখ্যায় কম হলেও, সম্প্রতি আমরা দেখেছি যে, চোখে পড়ার মতো করেই ঈশ্বরে বিশ্বাসীদের সংখ্যা আমেরিকায় কমে যাচ্ছে। ব্যক্তি জীবনের চেয়ে ধর্মকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা, প্রতিদিন প্রার্থনা করা, এমনকি নিয়মিতভাবে ধর্মবিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া আমেরিকানের সংখ্যা কমতির দিকে রয়েছে।’

সোশিওলজিক্যাল সায়েন্সে ২০১৭ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা এখনো গভীরভাবে ধর্মে বিশ্বাস করেন এবং গির্জায় যান, তাদেরও প্রতি সপ্তাহেই গির্জায় যাওয়ার প্রবণতা কমছে।

স্মিথ বলেন, আমেরিকায় নিজেকে নাস্তিক বা ধর্মনিরপেক্ষ বলে চিহ্নিত করা মানুষের সংখ্যা খুব দ্রুত বাড়ছে। নিজেকে একজন খৃষ্টান হিসেবে চিহ্নিত করা আমেরিকানের সংখ্যা কমছে, কারণ ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচয় দেওয়া আমেরিকানের সংখ্যা বাড়ছে।’

১৯৯৬ সালে ৬৫ শতাংশ আমেরিকান নিজেকে শ্বেতাঙ্গ খ্রিষ্টান বলে পরিচয় দিতেন। এক দশক পরে সেই হার কমে এসে দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশে।

খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন কি করেছে?

খ্রিষ্টান রক্ষণশীলদের মধ্যে ট্রাম্প ভালো জনপ্রিয়, বিশেষ করে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ধর্মবিশ্বাসী মাইক পেন্সকে নির্বাচিত করার পর। তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যেও ধর্মকেন্দ্রিক বেশি কিছু বিষয় জড়িত রয়েছে। যেমন তিনি অনেক রক্ষণশীল বিচারক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গত বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি ১৯৮৪ সালের একটি নীতি পুনর্বহাল করেন, যেখানে বলা হয়েছে যে, যেসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গর্ভপাতে সহায়তা করবে, তারা মার্কিন সরকারের কোনো তহবিল পাবে না।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া আরেকটি প্রতিশ্রুতি গত সোমবার বাস্তবায়ন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেটি হলো  জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।

অনেক খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী মনে করেন, ইসরায়েলের জন্য সমর্থনের বিষয়টি বাইবেলে লেখা রয়েছে। তারা বিশ্বাস করে, ইহুদি মানুষের জন্য ইশ্বরই ইসরায়েল বরাদ্দ করেছেন।

ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর ওপর কতটা প্রভাব আছে ট্রাম্পের?

ক্রিশ্চিয়ান রক্ষণশীলদের কিছু জয় সত্ত্বেও, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিলম্ব গর্ভপাত পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে পারেনি ট্রাম্প প্রশাসন। অথবা জনসন অ্যামেন্ডমেন্ট বাতিল করতে পারেননি, যেখানে বলা হয়েছে যে, গির্জার মতো অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রার্থীদের সমর্থন করতে পারবে না।

হার্ভাডের গবেষক ক্যাপার টের খুয়েলে বলেন, ‘আমেরিকায় ধর্মের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাব বিশ্লেষণ নির্ভর করছে ধর্মবিশ্বাসকে আমরা কিভাবে ব্যাখ্যা করি।’

‘ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ঠিকই বলেছেন যে, আমেরিকার ১০ জনের ভেতর ৯ জন ব্যাপকভাবে ঈশ্বর বা এ ধরনের কোনো কিছুতে বিশ্বাস করেন। কিন্তু পেন্স হচ্ছেন আমেরিকার সেই ৫৬ শতাংশ মানুষের একজন যাদের বাইবেলের প্রথাগত রক্ষণশীল ঈশ্বরে বিশ্বাস রয়েছে।’

‘কিন্তু এ ধরনের বিশ্বাসীদের সংখ্যা আমেরিকায় কমে আসছে’- বলেন খুয়েরে। তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় এখন প্রতি তিনজনের একজন ধর্মের ব্যাপারে আগ্রহী নয় আর প্রতিবছর আমেরিকায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার গির্জা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১৭ই মে, ২০১৮ ইং/সকাল ১১:০৪

Please follow and like us:
0
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial