২২শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:৩৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২ জন ভূয়া এনএসআই কর্মকর্তা আটক

 

মোঃ মামুন উর রশিদ,শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর থানায় ২ জন ভূয়া এনএসআই ও ডিজিএফআই কর্মকর্তাকে আটক করেছে র‌্যাব।

আটক কৃর্তব্যক্তিদ্বয়কে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন শহরের ১নং গলি কালিতলাস্থ মোসাঃ মোসলেমা খাতুন এর ভাড়া দেয়া বাড়ীর নীচতলায় অভিযান পরিচালনা করে ভূয়া এনএসআই ও ডিজিএফআই কর্মকর্তা ১। মোঃ একরামুল হক @ সুমন (২১), পিতা-মোঃ বাবুল হোসেন, সাং-চকহরিপুর কানসাট, ডাকঘর-চাতরা, ২। মোঃ রেজাউল করিম @ রিমন (২৬), পিতা-মোঃ আব্দুস সামাদ, সাং-চকনাধড়া, ডাকঘর-চককীর্ত্তি, উভয় থানা-শিবগঞ্জ, জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ’দ্বয়কে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মালামাল (ক) ০১ টি খেলনা পিস্তল, (খ) ০১ টি ল্যাপটপ, (গ) ০১ টি কি-বোর্ড, (ঘ) ০১ টি মাউস, (ঙ) ০১ টি পাসপোর্ট, (চ) ০১ টি স্পাই মোবাইল ঘড়ি, (ছ) ০১ টি হাত ঘড়ি, (জ) ০৩ টি নকল সীল যার একটিতে গফ ঝযধসংঁষ ঐধয়ঁব, উরৎবপঃড়ৎ এবহবৎধষ, ঘধঃরড়হধষ ঝবপঁৎরঃু ওহঃবষষরমবহপব ইধহমষধফবংয, একটিতে ঊীবপঁঃরাব উরৎবপঃড়ৎ ড়ভ ঘঝও এবং অপরটিতে ‘বিআরটিএ চাঁপাইনবাবগঞ্জ’ লেখা আছে, (ঝ) উপরোক্ত নকল সীল ও স্বাক্ষর ব্যবহৃত এনএসআই পরীক্ষার ভূয়া প্রবেশ পত্র-০১ টি, (ঞ) ০৪ (চার) টি মোবাইল ফোন, (ট) ২০ টি সিম কার্ড, (ঠ) ০৩ টি চার্জার টর্চ লাইট, (ড) ০৫ টি সানগ্লাস, (ঢ) ০২ টি চেক বই, (ণ) এনএসআইতে চাকুরী দেয়ার নামে লোকজনের নিকট হতে গ্রহণকৃত মার্কশীট, সার্টিফিকেট সহ অন্যান্য কাগজপত্র-০৭ পাতা সহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, গত ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসের দিকে আধুনিক সদর হাসপাতাল চাঁপাইনবাবগঞ্জ এ স্বেচ্ছায় রক্তদানের সময় উপরোক্ত আসামী মোঃ একরামুল হক @ সুমন এর সাথে সাক্ষাৎ হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানাধীন বারঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা প্রীতম গোস্বামীর ছেলে পিনাক গোস্বামীর এবং তাদের মধ্যে মোবাইল নম্বর আদান-প্রদান হয়। উভয়ের মধ্যে মাঝে মাঝে মোবাইলে আলাপচারিতা হত।

প্রায় দেড় বছর পর একরামুল @ সুমন পিনাককে ফোন দিয়ে বলে সে দীর্ঘদিন বাহিরে থেকে বর্তমানে এলাকায় এসেছে। পিনাক তার সঙ্গে দেখা করে। একরামুল @ সুমনের শারীরিক পরিবর্তন দেখে পিনাক তাকে এরুপ পরিবর্তনের কারন জিজ্ঞাসা করলে সে বর্তমানে এনএসআই (ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স) এ চাকুরী করে এবং নিজেকে একজন এনএসআই এর ফিল্ড অফিসার হিসাবে পরিচয় দেয়। কিভাবে চাকুরী পেল জিজ্ঞাসা করলে ০৫ লক্ষ টাকা দিয়ে চাকুরীটা পেয়েছে বলে একরামুল জানায়।

পিনাক কৌতুহল বশতঃ তাকে চাকুরী দেয়া যায় কিনা জিজ্ঞাসা করলে একরামুল সাড়ে ছয় লক্ষ টাকার বিনিময়ে তাকে চাকুরী দিয়ে দেবে বলে জানায় এবং তাকে রক্ত পরীক্ষা করে রিপোর্ট, সার্টিফিকেট সহ অন্যান্য সকল কাগজপত্র জমা দিতে বলে।

একরামুলের কথামত পিনাক গত ২০/০৪/১৫ ইং তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করে সকল প্রকার কাগজপত্র একরামুলের নিকট জমা দেয়। পরবর্তীতে চাকুরী প্রত্যাশী পিনাক গোস্বামী একরামুল @ সুমনের চাহিদামতে তার চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার ডাচ বাংলা ব্যাংকের একাউন্ট নম্বর-২৪০১৫১২৭০২ এ গত ০৪/১২/১৬ ইং তারিখে ৩০,০০০/-ত্রিশ হাজার টাকা, ৩১/০৭/১৭ ইং তারিখে ২৫,০০০/-পঁচিশ হাজার টাকা এবং তার কিছুদিন পরে শহরের বাতেন খাঁর মোড়ে রাত্রী আনুমানিক ২০:৩০ ঘটিকায় হাতেহাতে ৪৫,০০০/-পয়তাল্লিশ হাজার টাকা প্রদান করে। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে একরামুল পিনাককে এনএসআই এ ভর্তি পরীক্ষার একটি প্রবেশপত্র প্রদান করে যেখানে পরীক্ষার তারিখ ১২/০৯/২০১৭ উল্লেখ ছিল।

পিনাক পরীক্ষার পূর্বের দিনে একরামুলকে অনেকবার ফোন দিলেও সে ফোন ধরে না। বিকাল আনুমানিক সাড়ে পাঁচ ঘটিকার সময় একরামুল পিনাককে ফোন করে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন হয়েছে বলে জানায় এবং নতুন প্রবেশ পত্র দেয়ার কথা বলে পূর্বের প্রবেশপত্রটি পিনাকের নিকট হতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ডিসেম্বর মাসে একরামুলের চাহিদামত পিনাক তাকে আরও ৮,০০০/-আট হাজার টাকা মিলে সর্বমোট ১,০৮,০০০/-(এক লক্ষ আট হাজার) টাকা প্রদান করে।

কিন্তু একরামুল তারপর আরও দুইবার পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন হয়েছে বলে পিনাককে হয়রানী করে। বারবার পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন হওয়ায় পিনাকের বিষয়টি সন্দেহ হয় এবং সে একরামুলের ভাড়াকৃত বাসা চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের ১নং গলি কালিতলাস্থ মোসাঃ মোসলেমা খাতুন এর বাড়ীর নীচতলায় একরামুলের কাছে যায় এবং তার কাছে টাকা ফেরত চায়। এসময় উক্ত বাসায় একরামুলের অপর সহযোগী মোঃ রেজাউল করিম @ রিমন উপস্থিত ছিল।

তখন একরামুল @ সুমন তার সহযোগী রেজাউল করিম @ রিমনকে এনএসআই এর একজন ফিল্ড অফিসার হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং পিনাকের টাকা ফিরিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু একরামুল পিনাকের টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন প্রকার টালবাহানা শুরু করে। একরামুলের কার্যক্রমে তারা আদৌ এনএসআই এর কোন সদস্য কিনা তা পিনাকের সন্দেহ হওয়ায় পিনাক চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‌্যাব ক্যাম্পে এসে একরামুল ও রেজাউলের বিষয়টি র‌্যাবকে অবহিত করে। পিনাকের দেওয়া তথ্যমতে র‌্যাব একরামুল @ সুমনের ফেসবুক পেইজে প্রবেশ করে এবং সেখানে একরামুলের স্ট্যাটাসে ফিল্ড অফিসার এনএসআই ও ফিল্ড অফিসার ডিজিএফআই দেখতে পায়।

র‌্যাব কর্তৃক চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডিজিএফআই এবং এনএসআই অফিসে তাদের দুজনের সম্পর্কে তথ্য যাচাই করে জানতে পারে উপরোক্ত নামের কোন ডিজিএফআই বা এনএসআই সদস্য চাঁপাইনবাবগঞ্জে নেই। পরবর্তীতে ১৫/০৫/২০১৮ ইং তারিখ বিকাল আনুমানিক ১৭:০০ ঘটিকায় র‌্যাবের একটি চৌকশ আভিযানিক দল কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার মোহাম্মদ সাঈদ আব্দুল্লাহ আল-মুরাদের নেতৃতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের ১নং গলি কালিতলাস্থ মোসাঃ মোসলেমা খাতুন এর বাড়ীর নীচতলায় প্রতারক একরামুল @ সুমন ও রেজাউল করিম @ রিমন এর ভাড়াকৃত রুমে অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে উপরোক্ত মালামালসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন ও র‌্যাবের অফিসারদের সামনে ধৃত আসামীদ্বয় দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ভূয়া এনএসআই ও ডিজিএফআই অফিসার সেঁজে মানুষের নিকট হতে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত থাকার কথা অকপটে স্বীকার করে। আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করতঃ পরবর্তী আইনী কার্যক্রমের নিমিত্তে র‌্যাব কর্তৃক চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। সকল প্রকার অপরাধী ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে র‌্যাব কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৬ই মে, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৬:১৫