১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৫:০১

তামাকের ওপর আরোপিত স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বৃদ্ধি কারতে হবে : এমপি সফুরা বেগম রুমি

 

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না,লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য এ্যাড. গফুরা বেগম রুমি এমপি বলেছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের উপর কর বৃদ্ধি, তামাকের কর নীতিমালা গ্রহণ এবং আসন্ন বাজেটে সকল তামাকজাত পণ্যের খুচরা মূল্যের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ স্পেসিফিক এক্সাইজ ট্যাক্স নির্ধারণ ও তামাকের ওপর আরোপিত স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ মে) দুপুরে লালমনিরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলার কর্মরত সকল বাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এডভোকেসি এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।সফুরা বেগম রুমি এমপি আরও বলেন, “তামাক জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরুপ।

তামাকের ব্যবহার মানবদেহে নানা রোগের সৃষ্টি করে। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির উপর তামাকের নেতিবাচক প্রভাবের কথা বিবেচনা করলে তামাকের ব্যবহার থেকে মানুষকে দূরে রাখতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন সকল প্রকার প্রকার তামাকের মূল্য বৃদ্ধি।

এ ছাড়া তামাকের উপর বিদ্যমান কর কাঠামো পরিবর্তন করে একটি একক কর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগজনিত মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশে কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে।এই লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ২০৪০ সাল নাগাদ তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় সকল প্রকার তামাকপণ্যের কর বৃদ্ধি।”

তামাকের ক্ষতিকর দিক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে তামাকের উপর শুল্ক-কাঠামো অত্যন্ত জটিল যেমন- সিগারেটের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যস্তর, গুল-জর্দার ক্ষেত্রে এক্স-ফ্যাক্টরি প্রাইস ইত্যাদি প্রথা চালু। মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতিকে বিবেচনা করে তামাক পণ্যকে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে হারে তামাক কর আরোপ করা প্রয়োজন এ জটিল কাঠামোর কারণে তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাচ্ছে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালের তথ্য বলছে, পৃথিবীর যেসব দেশে তামাকপণ্যের দাম অত্যন্ত সস্তা বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। ফলে সামগ্রিকভাবে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনস্বাস্থ্য, পক্ষান্তরে লাভবান হচ্ছে তামাকজাত কোম্পানি গুলো।

সিনিয়র সাংবাদিক লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের লালমনিরহাট প্রতিনিধি ও এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স-আত্মার সদস্য মিলন পাটোয়ারী, লালমনিরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সময় টিভির প্রতিনিধি মোফাখখারুল ইসলাম মন্জু, দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ ও অন লাইন পোর্টাল ডেইলি বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির জেলা প্রতিনিধি মাজহারুল ইসলাম বিপু, মাই টিভি ও ডেইলি অবজারভারের লালমনিরহাট প্রতিনিধি মাহফুজ সাজু, দৈনিক আজকের অর্থনিতির লালমনিরহাট প্রতিনিধি রিয়াজুল ইসলাম, দৈনিক জনতা লালমনিরহাট প্রতিনিধি, আশরাফুল আলম দৌলত, তামাক নিয়ন্ত্রণ কোয়ালিশন লালমনিরহাটের ফোকাল পারসন মধূসূদন রায়, সাপ্তাহিক লালমনির কন্ঠের সম্পাদক জাহিদ হোসেন, সাপ্তাহিক লালমনিরহাট খবরের সম্পাদক রাইসুল ইসলাম সোনা, লালমনিরহাট পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ কিসমত আলী, লালমনিরহাট বার্তার বার্তা সম্পাদক সৈকত ইসলাম, এসিডির প্রোগ্রাম মোজাহেদুল ইসলাম প্রমুখ।

এসিডি’র এডভোকেসি অফিসার শরিফুল ইসলাম শামীম মুল বক্তব্য উপস্থাপন করে বলেন, তামাক ও তামাকজাত পণ্য স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ অর্থাৎ ৪ কোটি ১৩ লক্ষ (এঅঞঝ,২০০৯) প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন, যার মধ্যে ২৩% (২ কোটি ১৯ লক্ষ) ধূমপানের মাধ্যমে তামাক ব্যবহার করেন এবং ২৭.২% (২ কোটি ৫৯ লক্ষ) ধোঁয়াবিহীন তামাক (জর্দা, গুল, খৈনি, সাদাপাতা) ব্যবহার করেন। এই ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারের হার নারীদের মধ্যে অনেক বেশি।

প্রস্তাবিত তামাক কর সংস্কারের ফলে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জিত হবে এবং নতুন রাজস্ব সৃষ্টির দ্বার উন্মোচিত হবে, যা দিয়ে সরকার দেশের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারসমূহে অর্থায়ন করতে পারবে।

একইসাথে তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা হ্রাস পাবে, যা সরকার এবং জনগণ উভয়ের জন্যই লাভজনক।এর আগে এ্যড. সফুরা বেগম রুমি প্রেসক্লাব হল রুমে আসলে এসিডি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা তাকে ফুলের তোরা দিয়ে স্বাগতম জানান।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৫ই মে, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:৩৮