১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:১১

লালমনিরহাটে কথিত সাংবাদিক পরিচয় দানকারী কে এই রুবেল?

 

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না,লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটে সাংবাদিক পরিচয়ে এবং সাংবাদিকের নাম ভাঙ্গিয়ে চলা, কে এই রুবেল? কথিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী রুবেলের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক ব্যবসার অভিযোগ পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে দায়ের করেছে একাধিক ভোক্তভোগী।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উক্ত রুবেলের বাড়ি পাবনা জেলায় হলেও ২ বছর আগে হঠাৎ করে তার লালমনিরহাটে আর্বিভাব ঘটে।সে শহরের বটতলা সংলগ্ন এলজিইডি এলাকার বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের লালমনিরহাট প্রতিনিধি এসএম শফিকুল ইসলাম কানুর মাত্র কয়েকদিন ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শুরু হয় তার মাদক ব্যবসা।এই ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়দানকারী রুবেল অল্প কয়েকদিনের মধ্যে মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট তৈরী করে।

এরপর থেকেই এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা, হিরোইন, গাঁজা ও ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা করে আসছে কথিত ওই সাংবাদিক পরিচয় দানকারী রুবেল।ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন মাদক কৌশলে তিস্তা সড়ক সেতু দিয়ে রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাচার করছে বলে ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ভুয়া সাংবাদিক রুবেল পাবনা জেলায় একটি হত্যা মামলার আসামী।পুলিশের ভয়ে সে লালমনিরহাটে পালিয়ে আছে বলে একটি বিশ্বস্থ সুত্র জানিয়েছে।

বটতলা এলাকার জলিল মিয়া জানান, রুবেলের অন্য কোন কর্ম নেই, মাদকই হচ্ছে তার মুল ব্যবসা। তাছাড়াও একাধিক মাদক মামলার আসামীর সাথে রয়েছে তার গভীর সংখ্যতা।মাদক পরিবহনের জন্য নম্বর বিহিন দুটি মটরসাইকেলও আছে তার।একটি পালসার অপরটি ডায়াং। পালসার গাড়িটি দিয়ে সবসময় রাস্তা ফলো করা হয় সামনে পুলিশ আছে কি না।

আর ডায়াং মটরসাইকেলে মাদক পরিবহন করা হয়।রুবেলের ওই সিন্ডিকেটটি এতোটাই দুর্দান্ত ভয়ঙ্কর প্রকৃতির যে, তাদের ভয়ে এলাকার লোকজন কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।পুলিশের হাতে যেন ধরা না পরে সে জন্য কথিত সাংবাদিক রুবেল সব সময় সজাগ থাকেন। রুবেল নিজেও বিভিন্ন মাদক সেবন করেন।ওই সিন্ডিকেটের কারনে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্র, তরুণ ও যুবকরা এখন ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, এই কথিত সাংবাদিক রুবেল সাধারণ মানুষকে হুমকির মুখে ফেলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। উক্ত রুবেল সাপ্তাহিক লালমনিরহাট বার্তায় কর্মরত থাকাবস্থায় অসংখ্য অপকর্ম করার কারনে প্রায় অর্ধশতাধিক অভিযোগ বার্তার সম্পাদক বরাবর প্রেরন করেন একাধিক ভুক্তভোগি।

তার বিরুদ্ধে এইসব অভিযোগের কারনে বার্তা অফিস থেকে তাকে বের করে দেয়া হয় বলে জানান তারা। ওই সময় থেকেই কথিত সাংবাদিক রুবেল আর কোন সংবাদপত্রের সাথে সম্পৃক্ত নন। তিনি লালমনিরহাট জেলাবাসী এই রুবেল থেকে সাবধান থাকার আহবান জানান।

এ বিষয়ে সাপ্তাহিক লালমনিরহাট বার্তা পত্রিকায় বার্তা সম্পাদক সৈকত ইসলাম জানান, রুবেলের বিরুদ্ধে মাদকসহ অসংখ্য অপকর্মের অভিযোগের কারনে বার্তা অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তার সাথে লালমনিরহাট বার্তা অফিসের আর কোন সম্পর্ক নেই বা তার অপকর্মের জন্য বার্তা অফিস দায়ী থাকবে না।এ ব্যাপারে কথিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী রুবেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার সেল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

 

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১২ই মে, ২০১৮ ইং/রাত ৯:১৫