ব্রেকিং নিউজ
১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৫:৫৯

কুড়িগ্রামে কদর বাড়ছে ঘোড়ার গাড়ীর

 

কুড়িগ্রাম থেকে,রাশিদুল ইসলাম : ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমর, ফুলকুমর, জিঞ্জিরাম, সঙ্কোশ, কালজানি, জালছিড়া সহ কুড়িগ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ১৬টি নদ-নদী। নদী বিধৌত এ জেলার অধিকাংশ স্থলভাগ চরাঞ্চল। এখানকার মানুষের পণ্য পরিবহনে বিকল্প নেই ঘোড়ার গাড়ীর। শহর এলাকায় ঘোড়ার গাড়ি তেমন দেখা না গেলেও কদর বাড়ছে চরাঞ্চলে।

বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে কৃষি কাজে ও পন্য পরিবহনে এ গাড়ী বেশি ব্যবহার হচ্ছে। এক সময় এলাকার কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে মহিষ-গরুর গাড়ী ব্যবহার করত। সে সময় অবশ্য কৃষকরা বাড়ীতে প্রচুর গরু-মহিষও পালতো। সে সময় (প্রায় ৩ যুগ পূর্বে) গরু-মহিষের দামও বেশ কম ছিল। যে কোন ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষকরা ১৫-২০ হাজার টাকায় একজোড়া হালের বলদ বা মহিষ ক্রয় করতে পারতো।

কৃষকরা ওই সময় গরু-মহিষ দিয়ে হালচাষ কারার পাশাপাশি গাড়ী করে কৃষিপন্য ঘরে তুলতো। কিন্তু এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি ও যানবাহন আবিস্কারের ফলে কৃষিকাজে গরু-মহিষের ব্যবহার অনেকটা কমলেও দাম বেড়েছে অনেক গুণ। এক সময় যে গরু-মহিষ ক্রয় করতে লাগতো মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা এখন তা লাগে ৫০-৬০ হাজার টাকা।

ফলে গ্রামাঞ্চলে এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি কৃষি কাজে ব্যবহার বাড়ছে।তবে ইদানিং যন্ত্রপাতির দাম উর্দ্ধগতি হওয়ায় নি¤œ আয়ের কৃষকরা পণ্য পরিবহনে আধুনিক যন্ত্রপাতির বিপরীতে ব্যাপক ভাবে ঘোড়ার গাড়ী ব্যবহার করছে। তাছাড়া তুলনামুলক ঘোড়ার দামও কম হওয়ায় এলাকার কৃষকদের মাঝে ঘোড়া গাড়ীর ব্যবহার বাড়ছে। এতে যেমন নিজের কৃষি কাজ হচ্ছে, তেমনি ভাড়ায় খেটে সংসারের বাড়তি আয়ও বাড়ছে।

এলাকার কৃষকরা জানায়, ইঞ্জিন চালিত পরিবহন দিয়ে নিম্নাঞ্চলের জমির ফসল সরবারহ করা ও গ্রামীণ খানা-খন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে কৃষি পণ্য ও মালামাল পরিবহন করতে যেখানে কষ্টকর হয়, সেখানে ঘোড়ার গাড়ী সহজেই সে সব খানা-খন্দ উপেক্ষা করে পরিবহন করতে পারে।

কুড়িগ্রাম কৃষক হামিদুল হক জানান, ধরলা নদীর বাঁধ এলাকায় আমার ৩ একর জমির ধান কেটে তা পরিবহন করতে পাচ্ছিলাম না। আর সেখানে পবিহনযোগ্য গাড়ি যাওয়ার পরিবেশ নাই। সেখানে ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে উঁচু-নিচু জায়গা সহজেই সমস্ত ধান ঘরে তুলতে পেরেছি।

সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের মাধব গ্রামের ঘোড়ার গাড়ী চালক এরশাদুল জানান, “আমি নিজের কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি আমার ঘোড়ার গাড়ী ভাড়ায় খাটিয়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার টাকা হিসাবে মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা রোজকার করছি।” এতে নিজের সংসারেরও কাজ হচ্ছে, অপরদিকে ব্যয়ের থেকে ৩ গুণ আয় হচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদে গোড়ার গাড়ীর কদর দিন দিন বেড়েই চলছে।

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১২ই মে, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:১৮