২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:২২

সরিষাবাড়ীতে খালে বাঁধ দেওয়ায় দু’টি বিলের তিন শতাধিক একর জমির ধান প্লাবিত

 

জাকারিয়া জাহাঙ্গীর,সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে খালে বাঁধ দিয়ে কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া গেছে।এতে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের ঢুরিয়ারভিটা গ্রামের পাঙ্গাইসা বিল ও আওনা ইউনিয়নের বড়বাইদ বিলে গত দুইদিনের বৃষ্টিতে তিন শতাধিক একর জমির বোরো ধান প্লাবিত হয়েছে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ঢুরিয়ারভিটা পাঙ্গাইসা বিলের মাঝ দিয়ে বড়বাইদ বিল পর্যন্ত ধরবান্ধা-মরা বাইদ্যা খালের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় প্রায় ১০টি বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী। এছাড়া খালের শুরু ও শেষপ্রান্তে দু’টি বড় বাঁধ দেওয়ায় বিলের পানি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।

এতে গত দুইদিনের প্রবল বর্ষনে বিল দু’টির বেশির ভাগ জমি তলিয়ে গেছে।ফলে পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে চলতি বোরো মওসুমের তিন শতাধিক একর জমির পাকা ও আধা পাকা ধান।পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য ইসাহাক আলী অভিযোগ করেন, আওনা ইউপি চেয়ারম্যান বেল্লাল হোসেন তার ইটভাটা এলাকায় পানি প্রবেশ ঠেকাতে খালের দুই প্রান্তে বাঁধ দিয়েছেন।এতে প্রবল বর্ষনে বিলে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টির হওয়ায় সহস্রাধিক কৃষকের ধান পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

ঢুরিয়ারভিটা গ্রামের আশির্ধো বয়সের কৃষক আব্দুল কদ্দুস ও নজরুল ইসলাম (৫৫) জানান, পানিতে তাঁদের পাঁচ বিঘা করে জমির ধান তলিয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধা সামছুল ইসলাম জানান, তাঁর চার বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। একই গ্রামের উজ্জল, হাসান,কালামসহ আরো অনেকেই জানান, পানিতে ধান তলিয়ে যাওয়ায় শ্রমিক সঙ্কটে সেগুলো কাটাও সম্ভব হচ্ছে না।

বুক বা কোমর পানিতে ডুব দিয়ে কিছু ধান কাটা সম্ভব হলেও বর্তমানে দৈনিক শ্রমিক মজুরি দিতে হচ্ছে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে।বিষয়টি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে আওনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেল্লাল হোসেনের মোবাইলে কয়েকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন,বিষয়টি আমি শুনেছি।ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু /১০ই মে, ২০১৮ ইং/ বিকাল ৫:২৯