১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:৩৩

বাগেরহাটে ফাতেমা জাতের ধানের কেজি ৪‘শ টাকা

 

মাসুদুল হক,বাগেরহাট : বাগেরহাটের ফকিরহাটে ফাতেমা জাতের প্রতি কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে ৪‘শ টাকা দরে। তারপরও কৃষকরা ছুটে আসছেন এ ধান সংগ্রহে। শুধু ফকিরহাট নয় দেশব্যাপি এ ধানের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।

জেলার ফকিরহাট উপজেলার মাশকাটা গ্রামের নারী ফাতেমা বেগমের কুড়িয়ে পাওয়া ৩টি ধানের ছড়ায় এ অভাবনীয় সাফল্য এখন সর্বত্রই আলোচিত হচ্ছে।একারনেই কুড়িয়ে পাওয়া এ ধানের জাত ফাতেমা নামে কৃষকের মুখে মুখে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। কৃষি বিভাগও এ নিয়ে গবেষনায় রয়েছে।

কুড়িয়ে পাওয়া ধানের সম্পর্কে জানালেন কৃষক পরিবারের ফাতেমা বেগম। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে বাড়ির পাশের ধান ক্ষেতে আমার ছেলে লেবুয়াত হাইব্রীড আফতাব ০৫ ধান চাষ করে।সেখানে ঐ ধানের মধ্যে ব্যতিক্রম ৩টি ধানের ছড়া (শীষ) দেখতে পাই।ঐ ছড়াগুলো সংগ্রহ করে আমার ছেলেকে বলি এ ধানগুলো বীজ হিসেবে ব্যবহার কর। সে প্রথমে অস্বীকৃতি জানালেও মায়ের কথা রেখে পরের বছর জমিতে বীজ হিসেবে রোপন করে। ঐ বছর ৩ ছড়া ধানের বীজে প্রায় আড়াই কেজি ধান উৎপাদন হয়।

পরে কৃষি বিভাগের লোকেরা খবর পেয়ে আমাদের ধান দেখতে আসেন। ধানের আকার ও ছড়ায় ধানের সংখ্যা বেশি দেখে তারা আমাকে এ ধান সংরক্ষন করার পরামর্শ দেন।পরে আমি এ আড়াই কেজি ধানও বীজ হিসেবে ব্যবহার করি।

এরপর এ বছর ৭৫ শতাংশ জমিতে ঐ ধান রোপন করি এতে প্রায় ১‘শ ১০ মন ধান হয়েছে। এ খবর স্থানীয় কৃষকরা জানার পরে ধান সংগ্রহের জন্য সবাই আমার বাড়িতে আসতে থাকে। আমার ছেলে এ ধান বর্তমানে প্রতি কেজি ৪‘শ টাকা বিক্রয় করছে। তারপরও আমরা চাহিদামত ধান দিতে পারছি না।

এ ধানের চাষী ফাতেমার ছেলে লেবুয়াত জানান, মায়ের কথা শুনে ধান লাগাই। পরে ধানগুলো বড় হলে একটু আলাদা রকম দেখতে পাই। ধানের পাতাগুলো বেশি চ্যাপটা এবং ধানের মোচাগুলো বেরহচ্ছিল কলার মোচারমত।

পরে খুশি লাগলে ধানগুলোর একটু বেশি যতœ শুরু করি। এরপর থেকেই আমাদের এ সফলতা। আমি চাই এ ধানের জাত সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়–ক।আশপাশের কৃষকরা আমাদের কাছ থেকে বীজ হিসেবে এ ধান সংগ্রহ করছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সোলায়মান আলী বলেন, যখন ব্যতিক্রম এ ধানগুলি দেখতে পাই তখন আমার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করি। তারা এ ধান সংগ্রহ করে ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করেন। এ ধান নিয়ে এখন গবেষনা চলছে। আমি মনে করি এ ধানই হবে বাংলাদেশের অন্যতম ধান জাত। যা আমাদের দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে।

ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোতাহার হোসেন জানান, উপসহকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে এ ধানের সম্পর্কে জানতে পেরে গবেষনা শুরু করা হয়। ধানগুলো দেখতে সাধারণ ধানের চেয়ে কিছুটা বড়। ধানের একটি পাতা প্রায় দেড় ইঞ্চি চওড়া।

ধানের গাছগুলো ১৩৫ সেমি লম্বা।প্রতিটি ছড়ায় গড়ে ৯৪০টি ধানের দানা উৎপাদন হয়েছে। যা সাধারণ ধানের ছড়ার থেকে ৫ গুন বেশি। আমরা এবছর নমুনা সংগ্রহের জন্য ধান কেটেছিলাম। সে অনুযায়ী একরে ১৩০ মন ফলন হয়েছে। এ ধানটি প্রাথমিক পর্যায়ে লবন সহিষ্ণু হিসেবে বিবেচনা করছি। কারণ ঐ এলাকার মাটি লবনাক্ত এবং ঘেরের মধ্যে ধানটি চাষ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধানের জাত সম্পর্কে জানা যায়নিGযেহেতু ধানটি ফাতেমা পেয়েছে।ফাতেমার ছেলে চাষ করেছে।সে কারণে আমরা এ ধানকে ফাতেমা ধান নাম দিতে চাচ্ছি।বর্তমানে এ ধানের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাচ্ছে।সিলেট ও রাজশাহী থেকে আমাদের কাছে এই ধান বীজ হিসেবে সংগ্রহ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৮ই মে, ২০১৮ ইং/রাত ৮:১১