১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:৩০

মির্জাপুর ইউসিসিএ নির্বাচন প্রার্থী ভোটার ইদুর বিড়াল খেলা

 

শামসুল ইসলাম সহিদ,মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিঃ এর নির্বাচনে প্রার্থী ও ভোটারের মধ্যে চলছে ইদুর বিড়াল খেলা। নিয়মের মারপ্যাচে তফসিল ঘোষনার পরও প্রার্থীরা জানেন না কে হচ্ছেন ভোটর।

আর মাত্র তিনদিন পর আগামী ১২মে মির্জাপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচন। ইতিমধ্যে সকল আনুষ্ঠিকতা শেষে প্রতীক বরাদ্দ হবার পর প্রার্থীরা ব্যস্ত রয়েছেন নির্বাচনী প্রচারনায়। কিন্তু নিয়মের মারপ্যাচে এবং এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের স্বজনপ্রীতির কারনে এখনো প্রার্থীরা অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছেন।

সমবায় আইন অনুযায়ী প্রত্যেক প্রাথমিক সমিতি হচ্ছে ভোটার। ওই সব প্রাথমিক সমিতির নির্বাচিত কার্যকরী কমিটি একজন প্রতিনিধি মনোনিত করে সমিতির পক্ষে ভোটার করে পাঠাবে। সেই প্রতিনিধিই আগামী ১২মে ভোট প্রদান করবেন।মির্জাপুর উপজেলায় ৩৩২টি প্রাথমিক সমিতি রয়েছে। নির্বাচনের আর বাকি রয়েছে তিনদিন। এখনো চলছে প্রাথমিক সমিতির প্রতিনিধি মনোনয়ন। একারনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা প্রকৃত ভোটরদের খুজে পাচ্ছেন না।

মির্জাপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির নির্বাচন শুরু থেকেই রাজনৈতিক প্রভাবে হয়ে আসছে। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলের প্রভাবশালী নেতারা প্রভাব খাটিয়ে এই নির্বাচনকে প্রভাবান্নিত করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এমনও নজির রয়েছে নির্বাচনের দিন সকালে প্রাথমিক সমিতির প্রতিনিধি মনোনিত করে ভোট দিতে এসেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বজন প্রীতির কারণে এবারও এরকম হওয়ার আশঙ্কা করছেন প্রার্থীরা।

সভাপতি পদে আওয়ামীলীগ সমর্থিত একজন সহ দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নেই। সহ-সভাপতি পদে যুবলীগ নেতা আবিদ হোসেন শান্ত বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বার্চিত হয়েছে। এছাড়া পরিচালক পদে দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সভাপতি পদে মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. জহিরুল হক ও মির্জাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জাপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সহসভাপতি বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহসভাপতি খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জলকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাদারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ নানা ভাবে চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায় উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির কার্যালয়ে গত ৯ এপ্রিল অফিস চলাকালীন সময় এই দুইজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এরপর উজ্জলের চেয়ার টেবিল ভেঙ্গে অফিস থেকে বাইরে ফেলে দেয়া হয়। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর উজ্জলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। সর্বশেষ প্রাথমিক সমিতির প্রতিনিধি মনোনয়নের ক্ষেত্রে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আমিনা পারভীনের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে গত সোমাবার বিভিন্ন অনলাইনসহ জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়।এই অবস্থায় নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিভিন্ন এলাকার সমবায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।এই নির্বাচন কমিশিনের প্রধান উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আমরা বদ্ধ পরিকর।

 

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৮ই মে, ২০১৮ ইং/বিকাল ৪:১৫