১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১:২৭

৭ মে মির্জাপুরে গণহত্যা দিবস

 

শামসুল ইসরাম সহিদ,মির্জাপুর (টাঙ্গাইল ) প্রতিনিধি : ৭ মে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সারের এই দিনে পাক বাহিনী এদেশীয় দোসরদের সহায়তায় মির্জাপুরের নিরীহ জনতার ওপর নগ্ন হামলা চালিয়ে বাড়ি ঘরে অগ্নি সংযোগ ও লুটতরাজ করে।

নিরীহ জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে মির্জাপুর হানাদার মুক্ত ও স্বাধীন হলেও সেদিনের ভয়াবহ দৃশ্যের কথা মনে করে আজও মির্জাপুরবাসী শিউরে উঠে। যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে মির্জাপুর স্বাধীন হয় স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার হলেও তাদের স্মরণে নির্মিত হয়নি আজও কোনো স্মৃতিফলক।

৩ এপ্রিল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়ান-সাটিচড়ায় প্রতিরোধ যুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পরাজিত হবার পর মির্জাপুর সদরে এসে ঘাঁটি গাঁড়ে। এদেশীয় দোসর আর রাজাকার আলবদরদের সহযোগিতায় পাক সেনারা মির্জাপুর সদরের আন্ধরা সাহাপাড়া, কুতুববাজার, পুষ্টকামুরী, বাইমহাটি, সরিষাদাইর ও পালপাড়ায় ঢুকে অত্যাচার, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং গণহত্যা চালায়।

৭ মে ১৯৭১ সাল ছিল শুক্রবার। সেদিন ছিল মির্জাুরে হাটবার। হাটে যখন প্রচুর লোক সমাগম ঠিক তখনই স্থানীয় রাজাকার মাওলানা ওয়াদুধ পাক সেনা ক্যাপ্টেন আইয়ুব খানের নেতৃত্বে দুই প্লাটুন পাকিস্তানী সেনা নিয়ে মির্জাপুরে প্রবেশ করে। মুহুর্তের মধ্যে হাট জনশুন্য হয়ে পড়ে। পরে পাক সেনারা সদরের আন্ধরা সাহাপাড়া, কুতুববাজার, পুষ্টকামুরী, বাইমহাটি, সরিষাদাইর ও পালপাড়ায় ঢুকে অত্যাচার, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং গণহত্যা চালায়।

ওই সব এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরকে হত্যা করে বংশাই ও লৌহজং নদীতে নিক্ষেপ করে বলে সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অতুল চন্দ্র পোদ্দার (৯০) ও ঝৃষিকৃষ সাহা (৭৮) সহ অনেকেই জানায়।

নরঘাতকরা উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা ও তার একমাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা রবিকে না পেয়ে রাজাকার আলবদর বাহিনী নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায়। আজও তাদের কোনো খোঁজ মিলেনি।

৮ মে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আবুল হোসেনের পিতা জয়নাল সরকারকে পুড়িয়ে এবং বাসায় আওয়ামী লীগের অফিস থাকায় মাজম আলীকে নরঘাতকরা জনসম্মুখে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। সেদিন যারা ঘাতকদের হাতে শহীদ হয়েছিলেন তাদের স্মরণে মির্জাপুরে সরকারিভাবে ৭ মে কোনো অনুষ্ঠান পালিত হয় না।

কুমুদিনী কমপ্লেক্সে প্রতিবছর ৭ মে উপলক্ষে আলোচনাসভা কাঙ্গালীভোজ এবং রণদা প্রসাদ সাহার নিজ গ্রাম মির্জাপুরে অস্টকালনি লিলা কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৭ই মে, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:১৬