২১শে জুন, ২০১৯ ইং | ৭ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ১:২৪

শিবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের মাস্টার ও ফায়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ

 

মোঃ মামুন উর রশিদ,শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে জনসেবার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ উঠেছে দ্রুত চিকিৎসা সেবার এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া, সিলিন্ডার বিক্রয় ও ফায়ার লাইসেন্স দেয়ার নামে অতিরিক্ত ফি আদায় করছেন শিবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মরত ভারপ্রাপ্ত অফিসার সিরাজ উদ্দিন(পিএন-৩৯৬৭) ফায়ারম্যান মনিরুল ইসলামের(পিএন -৪৮২৬)। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী কিলোমিটার প্রতি ৯ টাকা ও এসি ভাড়া ২০০/- টাকা ভাড়া ও সেবীকে রশিদ দেয়ার কথা থাকলেও তিনি কোন রশিদ না দিয়ে মনগড়া ভাড়া আদায় করে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার গোমস্তাপুর এলাকার মনিরুল ইসলাম (পিএন-৪৮২৭) ফায়ার স্টেশনে কর্মরত রয়েছে। এলাকায় দীর্ঘদিন থাকার সুবাদে জড়িয়ে পড়েছেন চাদাবাজি ও প্রতারণাসহ নানান অনিয়ম ও দূর্ণীতির সাথে। অভিযোগে প্রেক্ষিতে সত্যতা স্থানীয় সংবাদকর্মীরা শিবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন মাস্টার সিরাজ উদ্দিনের সাথে স্বাক্ষাৎ করেন।

ভুক্তভোগি ও তাঁর স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, ফায়ারম্যান মনিরুল ইসলাম এ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে রোগিদের হয়রানি করে আসছেন। অর্থ আদায়ের রশিদ দেখতে চাইলে তারা কিলোমিটার প্রতি ৯ টাকা ও এসি ভাড়া ২০০/- টাকার হিসেবে ১২৬০-১৫০০ টাকা হলেও রশিদ না দিয়ে তিনি মনগড়া ভাড়া আদায় করে।

ফায়ারম্যান মনিরুল ১৮০০-২১০০ টাকা করে জোরপূর্বক আদায় করছেন। আমরা টাকা কম দিতে চাইলে তিনি কোন মানবতা দেখায় না।
অন্যদিকে বিভিন্ন দোকানে শিবগঞ্জ ফায়ার স্টেশন থেকে অগ্নিনির্বাপন সিলিন্ডার দেয়ার নিময় না থাকলেও মনিরুল ইসলাম ভয়ভীতি দেখিয়ে বেশ কয়েকটি দোকানে বিভিন্ন ভাবে অর্থ আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে, সরজমিনে ফায়ার স্টেশনে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার টাকায় আদায়ের রশিদ বহি দেখা যায় নং ০০৫৮১০১-০০৫৮১৮৯ পর্যন্ত বহির প্রত্যেকটি মূলপাতা ও কার্বনকপি বহিতেই সংযুক্ত আছে। ওই বহির পাতা ভুক্তভোগি কোন রোগিকেই দেওয়া হয়নি। এছাড়া এ্যাম্বুলেন্সের এসি ভাড়া ধরা হলেও তা নষ্ট পড়ে রয়েছে।

এদিকে ফ্যায়ারম্যান মনিরুল ইসলাম কানসাট বাজার ,শিবগঞ্জ বাজার, রাণীহাটি বাজারসহ আশেপাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের ভয় দেখিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে লাইসেন্স নেওয়ার জন্য চাপসৃষ্টি করে। লাইসেন্স ও সিলিন্ডার বাবদ হাতিয়ে নেয় নির্দিষ্ট ফি’র চাইতে অতিরিক্ত অর্থ। এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোস বিরাজ করছে। তিনি লাইসেন্স ফি ৪২৮ টাকার বিপরীতে আদায় করেন( ৫-১০) হাজার টাকা। ফ্যায়ারম্যান মনিরুল ইসলাম সরকারি নিয়মনিতির তোয়াক্কা না করে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া, সিলিন্ডার ও লাইসেন্স বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন।

ভুক্তভোগি (র) দীপংকর কুমার (মনাকষা) (রর) দিদারুল ইসলাম (কানসাট) (ররর) সোনালী ব্যাংকের অবঃ ম্যানেজার আজাহার চৌধুরী (দুর্লভপুর) বলেন আমাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সরকারী নিয়মনীতির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে এমনকি অর্থ আদায়ের কোন রশিদ আমাদেরকে দেয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফায়ারম্যান মনিররুল ইসলাম তার এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া , সিলিন্ডার ও লাইসেন্স বাবদ অতিরিক্ত আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেন। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত অফিসার মো. সিরাজ উদ্দীনের কাছে হানতে চাইলে এসব অনিয়ম এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমি কিছুই জানি না।

 

 

কিউএনবি/রেশমা/৭ই মে, ২০১৮ ইং/বিকাল ৩:১৪

Please follow and like us:
0
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial