২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:৪২

জর্জিয়ায় শেখ রহমানের সমর্থনে সমাবেশ

 

 

প্রবাসঃ শনিবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা মাফ মিসবাহউদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং।ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং ক্ষোভের সাথে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নৈতিকতা আজ আক্রান্ত। মানবিক মূল্যবোধে শ্রদ্ধাহীন ব্যক্তির কবলে পড়েছে আমেরিকা। এ থেকে উত্তরণে সকলকে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনেই শুধু নয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ের সকল নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিতে হবে।”

কংগ্রেসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সদস্য কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্স বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস-ঐতিহ্য আজ ভুলুণ্ঠিত হবার পথে। এ অবস্থা থেকে আমেরিকাকে রক্ষায় চাই সকলের ঐক্য এবং বাংলাদেশিরা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবার পাশাপাশি সকলকে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়াও জরুরি।”কিশোরগঞ্জের সন্তান শেখ রহমান বলেন, “এখন সময় হচ্ছে ঘুরে দাঁড়ানোর। এখন সময় হচ্ছে আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে জোরালো ভূমিকায় অবতীর্ণ হবার।”

জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের জাতীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট এ কে এ মোমেন বলেন, “বাংলাদেশ এখন গোটা বিশ্বে উন্নয়নের মডেল হিসেবে পরিণত হয়েছে। উন্নয়নের এ অভিযাত্রায় প্রবাসীরাও শরিক হচ্ছেন। আমি নিজেও সে কাজে রয়েছি।”অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন কমিউনিটি নেতা মোর্শেদ আলম, ফখরুল আলম, খোরশেদ খন্দকার, গিয়াস আহমেদ, হাসানুজ্জামান হাসান, করিম চৌধুরী, আলী হোসেন, এ কে এম নূরল হক ও সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান।

মোর্শেদ আলম বলেন, “স্টেট সিনেট নির্বাচনে ৪২ শতাংশ ভোট পেয়েও হেরে গেছি। কারণ, ডেমোক্র্যাটরাই আমাকে ভোট দিতে কার্পণ্য করেছে। অথচ ফ্লাশিংয়ের চায়নিজরা দলে দলে ভোট দিয়েছেন। সে ঋণ আমি কখনো ভুলবো না।”বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম বলেন, “পরস্পরের সহযোগী হয়ে সামনে এগুতে হবে। শেখ রহমানকে সে তাগিদেই সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে যাবো। এর বিকল্প নেই।”গিয়াস আহমেদ বলেন, “রিপাবলিকান হয়েও আমি ডেমোক্র্যাট শেখ রহমানের পক্ষে কাজ করছি। কারণ, তিনি হলেন বাংলাদেশি।”

বাংলাদেশি-আমেরিকান ডেমোক্র্যাটিক লীগের প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাট ন্যাশনাল কমিটির সদস্য খোরশেদ খন্দকার বলেন, “রোহিঙ্গা সংকটে জর্জরিত বাংলাদেশ। এ থেকে উত্তরণে গ্রেস মেং-এর সহায়তা চাই। বিশেষ করে রোহিঙ্গারা যাতে সসম্মানে মিয়ানমারে নিজের বসতভিটায় ফিরতে পারে-সে ব্যাপারে মার্কিন কংগ্রেসের হস্তক্ষেপ জরুরি।”হাসানুজ্জামান হাসান বলেন, “শেখ রহমান আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে প্রেরণা দিচ্ছেন। তার মত আরও যারা লড়ছেন, সকলের জন্যেই কাজ করতে হবে। বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্যে দলমত-নির্বিশেষে জোট গঠন করতে হবে।”

মাফ মিসবাহ বলেন, “ঐক্যের বিকল্প নেই। আর এ ঐক্যের প্ল্যাটফরম হচ্ছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। মূলধারায় প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করতে আমরা ‘আসাল’ (অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান-আমেরিকান লেবার) এর মাধ্যমে নেটওয়ার্ক রচনা করছি।”শেখ রহমান বলেন, “ডিশওয়াশারের কাজের মাধ্যমে আমার প্রবাস জীবন শুরু। ১৪ বছর লেগেছে লেখাপড়া শেষ করতে। আর আজকের এ অবস্থানে আসতে সময় লেগেছে ৩৫ বছর। গ্রেস মেং ভোটে জয়ী হয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আমি নির্বাহী সদস্য হয়েছি। নির্বাচনে জয়-পরাজয় উভয়ই রয়েছে। একবার হারলেই যেন কেউ হতাশ না হন।”

 

কিউএনবি/অদ্রি আহমেদ/ ৩০.০৪.১৮/ দুপুর ১২.৪০