১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:০৭

সেমেনিয়া নারী না পুরুষদের সঙ্গে খেলবে? যাচাই করতে অদ্ভুত নিয়ম!

 

স্পোর্টস ডেস্কঃ সর্বশেষ দুই অলিম্পিকে ৮০০ মিটারে সোনা জিতেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কাস্তের সেমেনিয়া। একই ইভেন্টে তার সোনা রয়েছে গত বছর লন্ডনে অনুষ্ঠিত বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপেও। গোল্ড কোস্টে সদ্য সমাপ্ত কমনওয়েলথ গেমসেও ৮০০ ও ১৫০০ মিটারে সোনা জিতেছেন। কিন্তু দেশে ফিরেই আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের (আইএএএফ) নতুন নিয়মে বিপদে পড়েছেন এই স্প্রিন্টার। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এই আইন কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে আইএএএফ।

২৫ এপ্রিল লোজানে সভা ছিল আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের। সেখানেই অ্যাথলেটিক্সের দুনিয়ায় পুরুষ- নারী বিতর্ক বন্ধ করতে নতুন নিয়ম চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে নিয়ম চালু হয়েছিল, কোনো নারী অ্যাথলেটের শরীরে পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেশি থাকলেও তাকে নারী অ্যাথলেট হিসেবেই গণ্য করা হতে পারে।

কিন্তু নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, যদি কোনো নারী অ্যাথলেটের প্রতি লিটার রক্তে ৫ ন্যানোমোলের বেশি টেস্টোস্টেরন থাকে তা হলে তাকে ৪০০, ৮০০ ও ১৫০০ মিটারে নামতে দেওয়া হবে না। তবে ১০০ ও ২০০ মিটার-সহ, হাইজাম্প, লংজাম্প, শটপাট ও জ্যাভলিন থ্রোরমতো বিভাগে নামতে পারবেন তারা। ৪০০, ৮০০ ও ১৫০০ মিটারে নামতে হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাথলেটকে দীর্ঘ ৬ মাস চিকিৎসা করিয়ে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমাতে হবে। না হলে তাকে প্রতিযোগিতায় নারীদের বদলে নামতে হবে পুরুষদের সঙ্গে।

আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান কো বলছেন, ‘আমরা চাই নারীদের সঙ্গে যারা দৌড়বেন, তারা প্রত্যেকেই শারীরিক ভাবে সমান দক্ষ হবেন। কেউ যেন তার শারীরিক কারণে দৌড় শুরুর আগেই এগিয়ে বা পিছিয়ে না যান, সেটা নিশ্চিত করতেই এই নিয়ম। পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, নারীদের দেহে টেস্টোস্টেরন বেশি থাকলে তারা দৌড়ের সময় বাড়তি সুবিধা পান। এই নতুন নিয়মের সঙ্গে বর্ণবৈষম্য বা লিঙ্গবৈষম্যের কোনো সম্পর্ক নেই।’

কিন্তু কোর এই মন্তব্য ঘিরেই দক্ষিণ আফ্রিকায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ‘হয় ওযুধ খেয়ে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমাও, না হলে পুরুষদের সঙ্গে দৌড়াও’ এমন অদ্ভুত নিয়মের তীব্র প্রতিবাদ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্ষমতাসীন দল এএনসি। তাদের মতে, এটা লিঙ্গবৈষম্যের ঘৃণ্য উদাহরণ। নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে ক্রীড়া-আদালতেও আবেদন করার চিন্তাভাবনা করছেন তারা।

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘এটা সেই বর্ণবিদ্বেষের কদর্য দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। যখন ঘৃণ্য আইন প্রয়োগ করে সমাজের একটা অংশকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হতো। আইএএএফ এখন তেমন অদ্ভুত এক নিয়ম জারি করে গত কয়েক দশকের চ্যাম্পিয়নদের থামাতে চাইছে। এই বৈষম্যের নিয়মকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ক্রীড়া-আদালতে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছি আমরা। মানবাধিকারের স্বার্থেই অ্যাথলেটদের বাঁচাতে এই নিয়মকে ছুঁড়ে ফেলতে হবে। এজন্য বিশ্বের সব ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের সমর্থন চাই।’

 

কিউএনবি/অদ্রি আহমেদ/ ২৮.০৪.১৮/ রাত ১০.৫৬