২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:০৯

আরও দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়ায় সংখ্যা দাঁড়াল ১০১-এ

 

নিউজ ডেস্কঃ বিদ্যমান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অধিকাংশের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম নিয়ে সমালোচনার মধ্যেও সরকার একের পর এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে। এক সপ্তাহের মাথায় আরও দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে একটি বান্দরবানে ‘বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়’। আরেকটি রাজশাহীতে শাহ মখদুম ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি। এ নিয়ে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ১০১টিতে।

আজ বৃহস্পতিবার নতুন দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমতি দিয়ে প্রতিষ্ঠাতাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অনুমোদন পাওয়া বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং। আর শাহ মখদুম ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রয়েছেন বি এম শামসুল হক।এক সপ্তাহ আগে খুলনায় খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহীতে আহ্ছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতিমধ্যে কার্যক্রম চালানো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগই আইনের শর্ত মেনে চলছে না। গত মার্চ পর্যন্ত ৩০টিতে আচার্যের নিয়োগ করা উপাচার্য নেই, সহ-উপাচার্য নেই ৭০টিতে। বারবার সময় দিয়েও পুরোনো ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গভাবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে গেছে। সব মিলিয়ে নিয়মের মধ্যে চলছে ১৫ থেকে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়। বাকিগুলোর বিরুদ্ধে রয়েছে শিক্ষা–বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ।

এ রকম অবস্থার মধ্যেই আরও নতুন নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, সরকারের শেষ বছরে আরও কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেওয়ার তোড়জোড় চলছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ, পটুয়াখালী, ঢাকার সেনপাড়া পবর্তা, মুন্সিগঞ্জ, সিলেট, চাঁদপুরসহ আরও কয়েকটি এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি অনেক দূর এগিয়েছে। এগুলোর প্রতিটির পেছনে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। ইউজিসির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, সব মিলিয়ে শতাধিক আবেদন জমা আছে।

শিক্ষাবিদেরা বলছেন, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুণগত মানে পিছিয়ে আছে। তাই গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে এসব বিশ্ববিদ্যালয় সমস্যা হিসেবে দেখা দেবে; যা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে আইন পাস হওয়ার পর দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সূত্রমতে, গত নয় বছরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ৪৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ও দলীয় বিবেচনায় বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

কিউএনবি/অদ্রি আহমেদ/ ২৬.০৪.১৮/ সন্ধ্যা ৭.৩২