১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৪:২২

জোয়ারে ডোবে ভাটায় জাগে

 

ডেস্ক নিউজ : কলাপাড়ার লঞ্চঘাটের পন্টুনটির তলা ফুটো হওয়ায় দীর্ঘ চার মাস ধরে আন্ধারমানিক নদের জোয়ারের পানিতে ডোবে আর ভাটায় জেগে ওঠে। তা ছাড়া পন্টুনের সঙ্গে থাকা জেটির কাঠ ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। তীরে উঠতে গিয়ে প্রতিদিন যাত্রীরা আহত হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পূর্ণিমায় জোয়ারের পানিতে পন্টুনটির একাংশ নিমজ্জিত হয়ে আছে। রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে যাত্রী আনা-নেওয়ায় নিয়োজিত মেসার্স রাহাত ও সুপারসনিক-৪ লঞ্চের যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে পন্টুন ও জেটি দিয়ে চলাচল করছে। এ সময় রাঙ্গাবালী থেকে কলাপাড়ায় আসা যাত্রী মো. রানা জানান, যাত্রী পারাপারের জন্য লঞ্চঘাটটি মোটেও উপযুক্ত নয়। জোয়ারের পানিতে ঘাটটি অর্ধনিমজ্জিত থাকে। পন্টুনটি ডুবে থাকার কারণে স্টিলের প্লেটের ওপর পলি পড়ে। আর প্লেটের পলির ওপর দিয়ে হাঁটতে গেলেই পা ফসকে যায়। একই সঙ্গে পন্টুনের সঙ্গে থাকা জেটিটির কাঠ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। সেখান দিয়ে চলতে গেলে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে আরো দেখা গেছে, কলাপাড়ার মুদি-মনিহারি, বিপণিবিতান, স্টেশনারিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর পণ্য ঢাকা থেকে নিয়ে আসা এমভি কলাপাড়া জাহাজটি অর্ধডুবন্ত লঞ্চঘাটে এসে ভিড়ছে। এ অবস্থায় ঘাটের শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়ে পণ্য খালাস করছে।এ সময় ঘাটের শ্রমিক সোবহান মিয়া জানান, কলাপাড়া-ঢাকা নৌ রুটে যাত্রী নিয়ে প্রায় এক যুগ লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় কলাপাড়ার লঞ্চঘাটের অবস্থা করুণ হয়ে আছে।

এ অবস্থার মধ্যেও কলাপাড়া-রাঙ্গাবালীর সঙ্গে লঞ্চ যোগাযোগের মাধ্যমে পন্টুনটি কোনো রকম সচল রয়েছে। তা ছাড়া নৌপথে ঢাকা থেকে আসা জাহাজের পণ্য খালাসের মাধ্যমে টিকে আছে কলাপাড়া লঞ্চঘাটের অর্ধশত শ্রমিক। কিন্তু বড় কথা হচ্ছে, লঞ্চঘাটটি এখন মানুষের চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। টেঁটির কাঠ ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ঘাট শ্রমিকদের পণ্য খালাসে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হচ্ছে। মড়ার ওপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে আসে পন্টুনটির তলায় বড় বড় ছিদ্র। এ কারণে জোয়ারের সময় পন্টুনটির একাংশ পানিতে ডুবে যাচ্ছে। ফলে ওই সময় পণ্য খালাস করা যায় না।

ঘাট ইজারাদার মো. গোলাম মর্তুজা শামিম বলেন, ‘এ লঞ্চঘাট দিয়ে নির্মাণাধীন পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দেশি ও বিদেশি প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা নৌপথে যাতায়াত করে থাকেন। গুরুত্বপূর্ণ এ ঘাট আমি ইজারা নিয়ে চরম বিপাকে আছি। পন্টুনটির তলা ছিদ্র হওয়ায় চার মাস ধরে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করছে পণ্য পরিবহন। তা ছাড়া লঞ্চযাত্রীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

আমাদের একটি জাহাজ আছে। সেটির মাধ্যমে কলাপাড়ার ব্যবসায়ীদের পণ্য আনা-নেওয়ার কাজ করি। সে কারণেই পণ্য খালাসের জন্য একটি ঘাটের প্রয়োজন হয়। নিজেদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য লঞ্চঘাটটি ইজারা নিয়েছি। কিন্তু ঘাট ইজারা নিয়ে খুব লোকসানে আছি। আমাদের কালেকশন খুবই কম। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে তলা ছিদ্র হওয়ায় পন্টুনটি বেহাল। রাঙ্গাবালী উপজেলা ও কলাপাড়ার বিভিন্ন এলাকার মানুষ লঞ্চ ও ট্রলারের মাধ্যমে চলাচল করে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু ঘাটের পন্টুন ও জেটির অবস্থা এমন হয়েছে যে মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। পন্টুন ও জেটি সংস্কারের জন্য পটুয়াখালী অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো সুফল পাইনি।’

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী বিআইডাব্লিউটিএ বন্দর ও পরিবহনের সহকারী পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান বলেন, ‘পন্টুনটির তলা ছিদ্র হওয়া ও জেটি ভেঙে যাওয়ার পর সংস্কারের জন্য ঘাট ইজারাদার একটি আবেদন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পন্টুনটি সংস্কারের জন্য বিআইডাব্লিউটিএর প্রকৌশলী বিভাগকে অবহিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেটি সংস্কারের জন্য বিআইডাব্লিউটিএর প্রকৌশলী বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি, লঞ্চঘাটে অতি অল্প সময়ের মধ্যে একটি নতুন পন্টুন বরাদ্দ হবে।’

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১৭ই এপ্রিল, ২০১৮ ইং/সকাল ৯:১৫