২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:৩৮

ভান্ডারিয়ায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব চিকিৎসক সংকটে রোগিদের দুর্ভোগ মেডিকেল ক্যাম্প, সকল কর্মচারীর ছুটি বাতিল

 

মোঃ মামুন হোসেন,পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় প্রচন্ড গরমে প্রকোপে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।গত এক সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় দুই শতাধিক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় পাঁচ শতাধীক রোগী।এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা সংকটে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা ভেঙে পড়ার মাঝে হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগিরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

প্রশাসন ডায়রিয়া রোধে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দিতে সাতটি মেডিকেল ক্যাম্প গঠনসহ হাসপাতালের সকল নার্স ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ওয়ার্ড গুলোকেও ডায়রিয়া ওয়ার্ড হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে।

হাসাপাতালের মেঝে, বরান্দায় সর্বত্রই ডাইরিয়ার রোগীর চিকিৎসা সেবা চলছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন।পৌর শহরের কানুয়া মহল্লার ষষ্ঠ শ্রেণীর মাদ্রাসা ছাত্রী হাদিয়া গত ৩ দিন ধরেডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বারান্দার একটি বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে।

তার নানা আব্দুর রশিদ জানান, হাসপাতাল থেকে দুইটি কলেরা স্যালাইন দেয়া হলেও বেশীর ভাগ ঔষধ তাদেরকে বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে। পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রী জাকিয়া,এবং মাকসুদা বেগম (৩০) শনিবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের অভিভাবক আতাহার আলী হাওলাদার জানান, এখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালের সেবিকারাই ডাক্তারের ভুমিকা পালন করছে। বর্তমানে সেবিকাই হলো এ হাসপাতালের ভরসা।

হাসপাতালের ওয়ার্ড ইন চার্জ ফাহিমা বেগম, স্টাফ নার্স কুরছিয়া আক্তার
জানান, ডায়রিয়ার রোগীর চাপে তাদের ২৪ ঘন্টাই এখন ডিউটি করতে হচ্ছে।প্রতিদিন ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নববর্ষের দিনেও তাদের হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.এইচ .এম জহিরুল ইসলাম হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির বিষয়নি নিশ্চিত করে জানান, গত কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড গরম পড়েছে।

সেই সাথে এ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির অভাব রয়েছে। ফলে গরম আর পানিবাহিত জীবানুতে উপজেলা সদরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন ।তিনি আরও জানান, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাসপাতালে পর্যাপ্ত কলেরা স্যালাইন মওজুদ করা হয়েছে। তবে, প্রতিরোগীকে দুই হাজার সিসি পর্যন্ত কলেরা স্যালাইন হাসপাতাল থেকে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত কোন রোগী ডায়রিয়ায় মারা যায়নি। তাদেও যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নিত হলেও ৩১শয্যার জনবলদিয়ে চলছে ১০০ শয্যার স্বাস্থ্য সেবা।

বর্তমানে হাসপাতালে মাত্র দুইজন চিকিৎসক রয়েছেন। চিকিৎসক সংকটের ফলে ডায়রিয়া সমস্যা মোকাবেলা তাদেরকে হিমসিম খেতে হচ্ছে।হাসপাতালের সেবিকাসহ সকল কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।চিকিৎসা সহকারীদের (স্যাকমো) দিয়ে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৬টি মেডিকেল ক্যাম্প এবং উপজেলা সদরে একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে।

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৬ই এপ্রিল, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৬:৪৮