১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৯:৩২

দুদককে ঘিরে ফের সক্রিয় প্রতারক চক্র

 

ডেস্ক নিউজ : কখনো দুদকের উপপরিচালক, মহাপরিচালক কিংবা কখনো সচিব পরিচয় দিয়ে সরকারি বড় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান করছেন আবার অর্থের বিনিময়ে অভিযোগ থেকে অব‌্যাহতি দিচ্ছেন।

প্রতিনিয়ত এভাবেই হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এ যেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বাইরে আর একটি কমিশন। এমনই একটি শক্তিশালী প্রতারক চক্র আবারো সক্রিয় উঠেছে দুদককে ঘিরে।

বিশেষ করে বর্তমান কমিশনের গ্রেপ্তার অভিযান শক্তিশালী হওয়ার পর থেকে দুদকের ওই প্রতারক চক্র দুদকের বিভিন্ন কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে সক্রিয় উঠেছে। তাদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে কেউ কেউ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

প্রতারকরা কাল্পনিক অভিযোগ বা কমিশনের বিবেচনাধীন অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদানের আশ্বাস দিয়ে ও নানা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যদিও মাঝেমধ্যেই এমন অনেক ভুয়া কর্মকর্তা দুদকের জালে ধরা পড়ছে।

গত মার্চ মাসে অবৈধ সম্পদসহ নানা দুর্নীতির ভূয়া আদেশের বেশ কিছু অভিযোগ কমিশনের নজরে এসেছে। যা নিয়ে ইতিমধ‌্যে কাজ করছে দুদকের বিশেষ টিম।

শুধু তাই নয়, দুদকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি করলে দুদক পরিচালক (পর্যবেক্ষণ ও মূল‌্যায়ন) মীর মো. জয়নুল আবেদিন শিবলীর টেলিফোন-৯৩৫২৫৫২ ও মোবাইল ০১৭১১৬৪৪৬৭৫ নম্বরে বিষয়টি অবহিত করার জন্য অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

প্রতারণার বিভিন্ন অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মার্চ মাসে গণপূর্ত বিভাগ, বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফরের বিরুদ্ধ অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান বিষয়ে একটি মিথ‌্যা অফিস আদেশের কপি তৈরী করে দুদকের লোগো ব‌্যবহার করে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারির কপি পাঠিয়েছিল একটি প্রতারক চক্র। ভুয়া আদেশ কপি পাঠানোর পাশাপাশি ওই প্রকৌশলীকে ফোনও করে প্রতারক চক্র। গত ২৭ মার্চ সই করা আদেশের বিষয়ে দুদকের ওই অভিযোগ আসে পরের দিন। যেখানে দুদক উপপরিচালক জহিরুল আলমের নাম ব‌্যবহার করা হয়েছে। যদিও বর্তমান দুদকে কর্মরত এ নামে কোনো কর্মকর্তা নেই।

 

প্রায় একই প্রক্রিয়ায় ২১ মার্চ তারিখ উল্লেখ করা অপর এক ভূয়া আদেশে গণপূর্ত অধিদপ্তরের পেকু সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী ফিরোজ হাসানকে দুদকের নাম ব‌্যবহার করে সম্পদের হিসাব চেয়েছে আর একটি প্রতারক চক্র। দুদকের উপপরিচালক আবুল হোসেনের নাম ব‌্যবহার করা ও্ই আদেশে কাজী ফিরোজ হাসানের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তথ‌্য পাওয়া গেছে বলে বলা হয়েছে। অধিক বিশ্বাসযোগ‌্যতা আনতে আরেকজন উপপরিচালক মো. শহিদুল্লাহ খানের নাম ব‌্যবহার করা হয়েছে। এই নামেও দুদকে উপপরিচালক নেই বলে দুদক জানায়।
 

গত ১৯ মার্চ তারিখ উল্লেখ করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ স্থাপন প্রকল্প ও হাসাপাতাল ২৫০ হতে ৫০০ শয‌্যা উন্নতীকরণ প্রকল্পের পরিচালক প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আলী খানকে পাঠানো হয় অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে অব‌্যাহতি পাওয়ার আদেশ। দুদক সচিব শামসুল আরেফিনের সই ব‌্যবহার করে ও্ই ভুয়া আদেশ তৈরী করা হয়েছে। দুদক ধারণা করছে, হয়ত এ ধরণের আদেশ তৈরী করে প্রতারক চক্র বড় অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। অথচ দুদকের ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ অনুসন্ধান করেননি কোনো দিন।

এর আগে গত ১২ মার্চ মোহাম্মদ আলী খানের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিল করে নোটিশ জারি করেছিল দুদক উপপরিচালক চালক আবদুল্লাহ আল মামুন নামের ভূয়া কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে। এক্ষেত্রেও দুদক থেকে জানা যায় এই নামে কোনো উপপরিচালক দুদকে কর্মরত নেই।
 

এ বিষয়ে দুদক উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘একাধিক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দুদকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে বা টেলিফোনের মাধ্যমে কাল্পনিক অভিযোগ অথবা কমিশনের বিবেচনাধীন অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদানের আশ্বাস দিয়ে  ও নানা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের কাছে অবৈধ আর্থিক সুবিধা দাবি করে। আর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ইতোপূর্বে এ ধরনের প্রতারক চক্রের একাধিক সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এ জাতীয় প্রতারক চক্রের সদস্যরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানা যাচ্ছে।’

প্রতারক চক্রের তৎপরতার ব্যাপারে অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করে দুদক সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন লিখিত আদেশে এ বিষয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করেছেন।

জনসংযোগ দপ্তরকে লিখিত আদেশে তিনি বলেছেন, দুদক বিভিন্ন সূত্রে অবহিত হয়েছে যে, একাধিক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দুদকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোন, টেলিফোন, ই-মেইল বা ব‌্যক্তিগতভাবে কাল্পনিক অভিযোগ করে কমিশনের বিবেচনাধীন অভিযোগ থেকে অব‌্যাহতি প্রদানের মিথ‌্যা আশ্বাস দিয়ে ও নানা প্রকার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে সরকারি-বেসরকারি চাকুরিজীবী ও ব‌্যবসায়ীদের নিকট অনৈতিক সুবিধা দাবি করছে।

তিনি বলেন, ‘দুদকের নির্দশনা অনুযায়ী অনুসন্ধানকারী বা তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব‌্যক্তি, সাক্ষী ও আসামিদেরকে লিখিত পত্র দিয়ে থাকেন। দুদকের কর্মকর্তাদের কারো সাথে মোবাইল ফোন, টেলিফোন, ই-মেইল বা ব‌্যক্তিগতভাবে যোগযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপরও যদি দুদকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি করা হয় তাহলে সে বিষয়ে দুদক পরিচালক (পর্ডবেক্ষণ ও মূল‌্যায়ন) মীর মো. জয়নুল আবেদিন শিবলীর টেলিফোন-৯৩৫২৫৫২ ও মোবাইল ফোন ০১৭১১৬৪৪৬৭৫ নম্বরে বিষয়টি অবহিত করার জন‌্য অনুরোধ করা হয়েছে। এ সকল প্রতারক চক্রের সদস‌্যদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে কমিশন সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে।’

কিউএনবি/রেশমা/১৫ই এপ্রিল, ২০১৮ ইং/ দুপুর ১২:২০