২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:১০

৯ দিন পেছাল রাষ্ট্রপতির শপথ

 

ডেস্ক নিউজ : আগামীকাল দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবদুর হামিদের শপথ নেয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়েছে নয় দিন। আগামী ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

এর আগে ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় দরবার হলে রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। তবে আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আট দিনের সফরে সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী ফিরে আসার পর এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত থাকবেন।রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন গণমাধ্যমকে শপথ অনুষ্ঠান পেছানোর খবর নিশ্চিত করেছেন।

১৯৯০ সালে গণতন্ত্র ফেরার পর পরপর দুইবার রাষ্ট্রপতি হওয়ার রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন আবদুল হামিদ। গত গত ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড আবদুল হামিদকে দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি করতে দলের মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে বঙ্গভবনে গিয়ে এই সিদ্ধান্ত তার হাতে তুলে দেন। নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখলেও আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আবদুল হামিদকে নির্বাচিত ঘোষণা করে।

১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল হামিদ। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৫৯ সালে, ছাত্রলীগে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে চলতি বছর আব্দুল হামিদকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ, ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ, ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন।

সপ্তম সংসদে ১৯৯৬ সালের  ১৩ জুলাই থেকে ২০০১ এর  ১০ জুলাই পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালনের পর ২০০১ এর ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্পিকার হিসাবে সংসদ পরিচালনা করেন আবদুল হামিদ।আর নবম সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকার হন।

আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও তার ‘সাধারণ মানুষের’ পরিচয় ধরে রেখেছেন। নানা সময় তার সে নমুনাও দেখা গেছে।

২০১৭ সালের মার্চে কিলোরগঞ্জের মিঠামইন সফরে গিয়ে রিকশায় করে রাষ্ট্রপতির বাজার পরিদর্শনের ছবিতে মানুষ চমকিত হয়েছে, তবে আবদুল হামিদ বরাবর তার এই সাধারণ মানুষের ভাবমূর্তি কখনও পাল্টাতে চান না।

২০১৩ সালে সিঙ্গাপুর সফরে গিয়ে হোটেলে নামি হোটেলের স্যুইট ভাড়া দিনে সাত হাজার ডলার শুনে কম দামি হোটেলে ৬০০ ডলারের স্যুইটে থেকেছেন। ফলে আগের সফরে গ্র্যান্ড হায়াতে রাষ্ট্রপতির হোটেল স্যুইটের ভাড়া যত ছিল সে সময় ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলের (নিরাপত্তাকর্মীসহ) সবার হোটেল ভাড়া মিলেও তত হয়নি।

আবদুল হামিদ বরাবর জনগণের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করেন। তিনি বহুবার বিষয়টি বলেছেন। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ তার ভালো লাগে না। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও তিনি বিশেষ করে নিজ এলাকার লোকদের জন্য তার দুয়ার উন্মুক্ত রেখেছেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন আবদুল হামিদ। আর রাষ্ট্রপতি হওয়ার এক বছর পূর্তির পর গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বঙ্গভবন তার ভালো লাগে না।

আবদুল হামিদ সেদিন বলেন, ‘খাঁচার পাখিরে যতই ভালো খাবার দেয়া হোক, সে তো আর বনের পাখি না। আমি একটা দায়িত্ব হিসেবে এখানে এসেছি। সংসদে মনের খোরাক পেতাম, বঙ্গভবনে পাই না। মনটা অনেক কিছু চায়।’

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৪ই এপ্রিল, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৭:৫৮