১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:৩৬

লাগেজে লাশ উদ্ধার, কনডম যাচ্ছে সিআইডিতে

 

সারাদেশঃ রাজধানীর সবুজবাগের গোড়ান প্রজেক্ট এলাকায় এক নারীর ফেলে যাওয়া লাগেজ থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধারের ঘটনার পাঁচ দিনেও রহস্যের জট খুলেনি। ঘটনার দিন ওই লাগেজ থেকে একটি বোরকার ছেঁড়া অংশ ও জন্ম নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কনডম উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই কনডমটি পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হচ্ছে।মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা প্রিয়.কমকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

গত ৯ এপ্রিল, রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সবুজবাগের পূর্ব মাদারটেক এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় একটি কালো রঙের লাগেজ নিয়ে ওঠেন বোরকা পরিহিত এক নারী। কিছু দূর গিয়ে যানজটে আটকে সেই নারী পানি আনবেন বলে লাগেজ রেখেই পালিয়ে যান।এদিকে অটোরিকশার চালক মজিবর দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেন। কিন্তু সেই নারী আর ফিরে না আসায় তার সন্দেহ হয়। তখন তিনি বিষয়টি আশপাশের লোকজনদের জানালে তারা সবুজবাগ থানায় খবর দেন।রাত ১১টার দিকে সবুজবাগ থানা পুলিশ সেই লাগেজ খুলে শাহ আলম ভূঁইয়া নামে ৭০ বছরের এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করে। নিহত শাহ আলমের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার কদমতলা থানার শরণখোলায়। ঘটনার পরের দিন সবুজবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। তবে সেই নারীকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ঘটনার রাতে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। এ কারণে অটোরিকশার চালক মজিবর সেই নারীকে স্পষ্ট দেখতে পারেননি। আর চালককে পানি আনতে যাবেন বলে কোন গলি ধরে তিনি পালিয়ে গেছেন, তা-ও শনাক্ত করা যায়নি। এমনকি ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো সিটিটিভি ক্যামেরাও ছিল না।দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ফুটেজ পাওয়া গেলেও তাতে কোনো নারীর হেঁটে বা দৌড়ে যাওয়ার দৃশ্য মেলেনি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শরীফুজ্জামান প্রিয়.কমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাইনি। তবে সেই বোরকা পরিহিতা নারীকে খুঁজছি।’

শরীফুজ্জামান জানান, ঘটনার দিন লাগেজ থেকে লাশের সঙ্গে একটি কনডমও উদ্ধার করা হয়েছিল। সেটিতে আঠালো কিছু জিনিস ছিল। তা পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করা হলে আবেদন গৃহীত হয়েছে। কনডমটি আগামীকাল (শুক্রবার) বা পরশু পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হবে।পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, লাগেজ থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস দেওয়ার মতো দাগ ছিল। লাশটির দেহে আর কোনো দাগ ছিল না। এ থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, শাহ আলমকে কয়েকজন মিলে হত্যা করে। এরপর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যেই ওই নারী অটোরিকশায় করে যাচ্ছিলেন।

পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনার পর প্রথমদিকে শাহ আলমের পরিচয় মেলেনি। তাকে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু পরে তার পরিচয় মিললেও পরিবার এখনো কোনো মামলা করেনি।  খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহত শাহ আলম তার বড় ছেলেকে বিদেশ পাঠাবেন বলে এক জনশক্তি রফতানি এজেন্সির শরণাপন্ন হন। এ কারণে গত কয়েক মাস ধরেই তিনি অর্থকষ্টে ভুগছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক ছিল যে, ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে খিলগাঁওয়ের তালতলা মার্কেটের মোবাইল ফোন বিক্রির বিশাল দোকানও বিক্রি করে দেন তিনি। এরই মধ্যে তার তিন মাসের বাসা ভাড়া ৪২ হাজার টাকাও বকেয়া পড়ে। দালালদের খপ্পরে পড়ে বিদেশ পাঠানোর টাকা খোয়া যাওয়াসহ নানা বিষয় হতাশায় ছিলেন শাহ আলম।

শাহ আলম রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ২২ নম্বর সড়কের, এ-১০৭৫/১ নম্বর ভবনে চিকিৎসক এবিএম রফিকুল হকের বাসায় সপরিবারে ভাড়া থাকতেন। গত বছরের নভেম্বরে মাসিক ১৪ হাজার টাকা ভাড়ায় খিলগাঁওয়ের ওই বাসাটিতে ওঠেন শাহ আলম। এরপর জানুয়ারি পর্যন্ত নিয়মিত ভাড়াও পরিশোধ করেন। কিন্তু ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে গিয়ে অর্থকষ্টে পড়লে তিন মাসের ভাড়া বকেয়া পড়ে।  ছেলে সৌদি আরবে গেলেই সেই ভাড়ার টাকা পরিশোধ করবেন বলেও জানিয়েছিলেন শাহ আলম। তবে বাসাটি ভাড়া নেওয়ার পর একাধিকবার শাহ আলমকে ভাড়াটিয়া ফরম পূরণের জন্য বলা হলেও তিনি তা পূরণ করেননি বলে জানান বাসার কেয়ারটেকার তালেব। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে শাহ আলম বনানীতে একটি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের দালাল হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে গিয়ে নিজেই দালালের খপ্পরে পড়েন তিনি।

 

কিউএনবি/অদ্রি আহমেদ/১৩.৪.১৮/ বিকেল ৪.৪৭