২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৪:০৩

ছেলেদের কাঁথায় পেঁচিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন মা!

 

সারাদেশঃ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পরকীয়ার জেরে মা তার দুই সন্তানকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবশ্য পুলিশ মা শেফালীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।১৩ এপ্রিল, শুক্রবার ভোর রাতে আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ইপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে শেফালীর কথিত প্রেমিক মোমেন পলাতক রয়েছেন।নিহত শিশুর নাম হৃদয় (৯)। তার ছোট ভাই জিহাদ (৭) ওই আগুনে পুড়ে আহত হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে তাকে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, শেফালীর সঙ্গে প্রতিবেশী মোমেনের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া চলছে। শেফালীর স্বামী আনোয়ার হোসেন ওমান প্রবাসী। বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে শেফালী ও তার প্রেমিক মোমেন। শুক্রবার দিনগত রাতে শেফালী তার প্রেমিক মোমেনকে নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তার দুই সন্তান হৃদয় ও শিহাবকে কাথায় পেঁচিয়ে ম্যাচের আগুন ধরিয়ে দেন।আশপাশের লোকজন সন্তানদের চিৎকারে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হৃদয় মারা যায়। আশেপাশের লোকজন আরেক সন্তান অগ্নিদগ্ধ জিহাদকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

নিহত হৃদয় ৩৫ নম্বর বাড়ৈইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন জানান, শুক্রবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত হৃদয়ের মাকে থানায় নিয়ে যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হক বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মোমেন ও শেফালী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেলেও শেফালী ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। মোমেনকে এখনো আটক করা যায়নি।’এ ছাড়া হৃদয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

 

কিউএনবি/অদ্রি আহমেদ/১৩.৪.১৮/ বিকেল ৪.৪১