২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:৪৪

বান্দরবানে সাংঙ্গুনদীতে চাকমাও তঞ্চঙ্গ্যাদের বর্ষবরণের ফুল ভাসল

 

রতন কুমার দে(শাওন)বান্দরবান প্রতিনিধি : দেসাংঙ্গু নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বান্দরবানে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ বিজু ও বিষু শুরু হয়েছে। তরুণ তরুণীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোষাক পরে নানা সাজে সেজে ফুল বিজুতে অংশ নেয়।

সকালে মধ্যমপাড়ার সাংঙ্গু নদীর ঘাটে তরুণ তরুনীদের মিলন মেলা বসে। নানা রকমের ফুল নদীর জলে ভাসিয়ে দেয়।এদিকে পাড়ায় পাড়ায় চলছে পিঠা পুলি তৈরীর আয়োজন।চলছে নানা করমের সবজি দিয়ে পাচন রান্নার কাজ।চলছে অতিথি আপ্পায়ন।

আজ বৃহস্পতিবার চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের ফুল বিজু শুক্রবার মূল বিজু ও শনিবার গইজ্জা পইজ্জা। তিনদিন তারা বর্ষবরণ উৎসব পালন করে।স্থানীয় হিতৈশি চাকমা দৈনিক প্রিয় চট্রগ্রাম প্রতিনিধি কে জানান, প্রতিবছরই বর্ষবরণে চাকমারা নানা আয়োজন করে থাকে।

পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ঘুরে পাচন খাওয়া, পিঠা তৈরীসহ নানা আয়োজনে তারা সবাই মিলে অংশগ্রহণ করে। এদিকে মারমাদের বর্ষবরণ সাংগ্রাইয়ের প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার থেকে সাংগ্রাই উৎসব শুরু হবে বান্দরবানে। শনিবার সাংঙ্গু নদীর তীরে চন্দনের পানিতে বৌদ্ধমূর্তিকে স্নান করানো হবে।

রোববার শহরের রাজার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সাংগ্রাইয়ের মৈত্রী পানি বর্ষণ বা জলকেলি উৎসব মারমা তরুণ তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে বরণ করে নেবে নতুন বছরকে। স্বচ্ছ পানির ধারা ধুয়ে মুছে দিবে পুরনো বছরের যত দুঃখ গ্লানি।

এছাড়া পাড়ায় পাড়ায় পিঠা তৈরীর আয়োজনও থাকছে সাংগ্রাই উৎসবে। শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বৈসু উৎসব। তারা নেচে গেয়ে বৈসু পালন করে থাকে।

এদিকে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় বর্ষবরণে ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলায় মেতে উঠেছে। তরুণ তরুণীরা একত্রিত হয়ে দল বেঁধে এই খেলা খেলছে। ঘিলা পাহাড়ি গাছের ফল।

এটিকে তারা পবিত্র মনে করে। তাই নতুন বছরের শুরুতে বর্ষবরণে তঞ্চঙ্গ্যারা পাহাড়ে পাহাড়ে ঘিলা খেলার আয়োজন করে। শহরের বালাঘাটা
বিলকিস বেগম স্কুল মাঠে বড় আকারে ঘিলা খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তঞ্চঙ্গ্যারা।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১২ই এপ্রিল, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:৪১