১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৭:৪৪

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে বিদেশী ফুল চাষ

 

শেখ ফরিদ,দেবীগঞ্জ(পঞ্চগড় ) সংবাদদাতা : আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত ফুলের চাহিদা বাড়ছে। প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিদেশ থেকে ফুল এনে দেশের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে সারা বছর ধরে বিদেশী প্রজাতির বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করে যেমন দেশের চাহিদা মেটানো যাবে। সেই এই ফুল বিদেশে রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।

কৃষকদের মাধ্যমে এই ফুল চাষ প্রসারে এগিয়ে এসেছে দেশের শীর্ষ বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেটাল এগ্রো লিমিটেড। বিদেশ থেকে সরাসরি বীজ এনে তা থেকে ফুল উৎপাদন করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত কৃষকদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে মেটাল এগ্রো লিমিটেড নামের কোম্পানীটি।

মঙ্গলবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার নগর চেংঠী এলাকার কাওয়াপুকুর গ্রামের মেটাল এগ্রো লিমিটেডের খামারে মাঠ প্রদর্শনী ও মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ইউএসএআইডি’র অনিরুদ্ধ হোম রায়, জাপানের টাকি সীডের প্রতিনিধি নোরিকাজু সাতোইওসি ও মেটাল সীডের কনসালটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ড. হেইদি ওয়েরনেট। এতে যশোর, রাজশাহী, নাটোর, বরিশাল ও দিনাজপুরের নার্সারী মালিক ছাড়াও স্থানীয় নার্সারীর মালিক ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মেটাল এগ্রো লিমিটেডের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আফজাল হুসাইন এ প্রতিবেদককে জানান, বাংলাদেশের ফুলের সম্ভাবনাময় একটি বাজার রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে ফুলের বেশী একটা জাত নেই। বাজারে গেলে আমরা গোলাপ, জবা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ মাত্র কয়েক প্রকারের ফুল দেখতে পাই। অথচ বিশ্ব বাজারে অনেক ফুল আছে।

নন্দিনী, সিলভিয়াসহ বিশ্বে অনেক ফুল আছে। আমরা এসকল ফুল বাংলাদেশে আনতে চাই। আমরা ইতোমধ্যে জাপান থেকে অনেক ফুলের বীজ এনেছি। এখানে প্রায় ১২০ প্রজাতির ফুল প্রদর্শন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আমরা এই ফুলের চাষ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে চাই।

মেটাল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিদ জামিল জানান, ৯০’র দশকে আমরা এগ্রিকালচার ট্রাক্টর বাংলাদেশে নিয়ে আসি এবং ব্যপক সাড়া পাই। ট্রাক্টর ব্যবসার পর আমরা বীজ ব্যবসায় আসি। বিশেষ করে শাকসবজি ও ধান বীজের পর আমরা ফুল বীজের ব্যবসা শুরু করেছি। বাংলাদেশে ফুলের বিশাল মার্কেট রয়েছে।

কৃষকরা ধান-পাটসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে অনেক সময় লোকসানের সম্মুখিন হচ্ছে। এখন আমাদের দেশে শুধুমাত্র শীতকালে ফুলের চাষ হয়ে থাকে। আমরা চেষ্টা করছি গ্রীষ্মকালেও যেন ফুল চাষ করা যায়। তাহলে কৃষকরা সারাবছর ফুলের আবাদ করে অনেক লাভবান হতে পারবে। আমরা জাপানের টাকি সীড থেকে ফুলের বীজ আনছি।

আমাদের খামারে অনেক কৃষক ভাই এসেছে। তারা নিজেরা ফুল চাষ করার জন্য আমাদের বীজের অর্ডার দিচ্ছে। আমরা আশা করছি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে উৎপাদিত ফুল নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্ব বাজার জয় করবে।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১০ই এপ্রিল, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৬:২৩