১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:৫৬

এলাকাবাসীর বিরুদ্ধেই মামলা!

 

সারাদেশঃ মায়ের কবরের পাশ থেকে কিছুতেই সরতে চাইছে না ছেলে মেহেদী হাসান তুহিন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও শোকে মুহ্যমান। এলাকায় বিরাজ করছে শোকাবহ পরিবেশ। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ঘাতক বাসটি মালিকের জিম্মায় তুলে দিয়েছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানা-পুলিশ। অন্যদিকে বাস পোড়ানোর অভিযোগে অজ্ঞাতসংখ্যক এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে বাস মালিক আবদুল হান্নান। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ বাজারের কাছে বৈরাটি এলাকায় দুর্ঘটনাকবলিত স্থানে গিয়ে দেখা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ পুকুর থেকে বাসটিকে উঠিয়ে সড়কের পাশে রেখেছে। এলাকার লোকজন জানায়, ঘাতক বাসটির চালক সেলিমকে ট্রলিচালকের পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে। হাবিবুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি জানান, এই সেলিমই বৃহস্পতিবারের বাসটি চালাচ্ছিল। নিহত নারীর ছেলে তুহিনের দায়ের করা মামলায় সেলিমকে আসামি করা হয়েছে। তার পরও সেলিমই বাসটি নিতে আসায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করায় এলাকাবাসী হতবাক হয়েছে।

বাসটি মালিকের জিম্মায় দেওয়া এবং সেলিমকে গ্রেপ্তার না করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) গোলাম মওলা জানান, এ বিষয়টির দায়িত্ব মামলার তদন্ত কর্মকর্তার।

অন্যদিকে এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে বাস মালিকের মামলার খবর শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলাকার লোকজন। তারা জানায়, এ মামলায় এলাকার লোকজনকে কোনো ধরনের হয়রানি করা হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে এমকে সুপার নামের বাসটির চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের বৈরাটি এলাকায় শিউলি আক্তার (৪২) নামে এক নারীকে সড়কে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে পিষে মারে এমকে সুপার পরিবহনের একটি বেপরোয়া গতির যাত্রী বাস। ওই সময় তুহিন তাঁর মা শিউলি আক্তারকে নিয়ে চাচার লাশ দেখতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন।

 

কিউএনবি/অদ্রি আহমেদ/০৭.০৪.১৮ দুপুর ১১.৫২